নয়া দিগন্ত ডেস্ক
রাজধানী ঢাকার মতো দেশের সব স্থানেই পেট্রল-অকটেনের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন জেলার জ্বালানি তেলের পাম্পে দীর্ঘক্ষণ লাইন দিয়েও মিলছে না পেট্রল-অকটেন। দুয়েক জায়গায় যা মিলছে তাও চাহিদার তুলনায় নগণ্য।
রাজশাহী ব্যুরো : রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে। রাজশাহী মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা পাম্পগুলোতে ডিজেল ও পেট্রোলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় যানবাহন চালক ও সাধারণ গ্রাহকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা দিলেও মিলছে তেল। তবে এ নিয়ে কর্তৃপক্ষীয় কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
জেলা পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান শিমুল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অধিকাংশ পাম্পের মজুদ ঈদের আগেই শেষ হয়ে গেছে। এতে করে ঈদের তৃতীয় দিন পর্যন্ত পেট্রল ও অকটেনের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে বললেই চলে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, চাহিদার তুলনায় মাত্র ডিপো থেকে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পেট্রল সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া অকটেন প্রায় বন্ধ। আর ডিজেলের সরবরাহ চাহিদার ৬০-৭০ শতাংশ মাত্র। চাহিদা অনুযায়ী তেল না থাকায় অনেক স্টেশন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকেরা। রাজশাহীতে মোট ৪৪টি ফিলিং স্টেশনের অর্ধেকের বেশি এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। আর চালু থাকা স্টেশনগুলোর তেলের মজুদও প্রায় শেষের দিকে। এতে করে গ্রাহকরা তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এ দিকে মোটরসাইকেল চালকদের ভিড় ও ক্ষোভ পরিস্থিতিকে আরো ঘোলাটে করে তুলছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে বেশ কিছু পাম্পে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। জেলা পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান শিমুল গণমাধ্যমকে জানান, বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। একটি লরির ধারণক্ষমতা সাড়ে ১৩ হাজার লিটার হলেও সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র তিন হাজার লিটার। বর্তমানে ডিপো থেকে কেবল ডিজেল দেয়া হচ্ছে, পেট্রল ও অকটেন মিলছে না।
রংপুর ব্যুরো জানায়, রংপুর অঞ্চলের জ্বালানি পাম্পগুলো থেকে হাওয়া হয়ে গেছে পেট্রল। এতে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে গ্রাহকদের মধ্যে। গ্রাহকদের অভিযোগ, অনেক পাম্পে তেল থাকলেও দেয়া হচ্ছে না।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই প্রতিটি পাম্পে বাইকসহ অন্যান্য যানবাহানের প্রচণ্ড ভিড় লক্ষ করা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনেও দাঁড়িয়ে পাচ্ছেন না জ্বালানি তেল। কালো কাপড়ে ঢেকে রাখা হয়েছে অনেক পাম্পের মেশিন। অনেক পাম্পে তেল দেয়া হচ্ছে না। বলা হচ্ছে সরবরাহ নাই। কিছু পাম্পে দেয়া হলেও মিলছে না ২০০ টাকার বেশি। এতে মহাভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটছে বাইকনির্ভর মানুষের। দুপুরে নগরীর সালেক পাম্পে বাইকচালক আব্দল মতিন জানান, গত সোমবার সন্ধ্যায় ১০টি পেট্রল পাম্প ঘুরে সালেক পাম্পে এসে ২০০ টাকার পেট্রল পাই। সেটা দিয়ে পরিবার নিয়ে ঈদের জন্য বিভিন্ন জায়গায় যাই। আজ (মঙ্গলবার) যখন কাজে যাবো। তখন পেট্রল পাচ্ছি না। আজ অনেক জায়গায় ঘুরে এসে এখানে পেট্রল পেলাম ২০০ টাকার। আমি মার্কেটিংয়ে জব করি এ পেট্রল দিয়ে আমার কী হবে।
রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান জানান, ‘আমরা অভিযান পরিচালনা করছি প্রতেক্যকটি পাম্পে। মজুদ থাকা সত্ত্বে¡ও কেউ জ্বালানি না দিলে তাদের জরিমানা করা হচ্ছে এবং জ্বালানি দেয়ার কাজ অব্যাহত রাখা হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট দফতরে কথাও বলছি।’ রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো: শহিদুল ইসলাম জানান, জ্বালানি তেলের যেন সরবরাহে কোনো ঘাটতি না থাকে সে চেষ্টার পাশাপাশি কেউ যেন সিন্ডিকেট করে জ্বালনি তেল মজুদ করতে না পারে সেজন্য আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি।’
পেট্রল পাম্প মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে রংপুর বিভাগে আট জেলায় সাড়ে তিন শতাধিক পাম্প থেকে পেট্রল, অকটেন ও ডিজেল সরবরাহ হয়ে থাকে।
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানায়, কুড়িগ্রামে জ্বালানি তেলের তীব্র সঙ্কটে সব ধরনের যানবাহন চালকদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে সরবরাহকৃত জ্বালানি দিয়ে চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে ফিলিং স্টেশনসহ বিক্রয় পয়েন্টগুলো।
জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে জানা গেছে, জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়মিত সরবরাহের কারণে জেলার ২০টি ফিলিং স্টেশনের বেশির ভাগে তেলের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও পরিবহন মালিকরা ।
জানা যায়, পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ওয়েল কোম্পানি চাহিদা অনুযায়ী ডিলারদের তেল সরবরাহ করতে পারছে না। ফিলিং স্টেশনে ডিজেল পাওয়া গেলেও পেট্রল ও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না। জেলার ২০টি পেট্রল পাম্পে দৈনিক চার লাখ লিটারের বিপরীতে সরবরাহ মাত্র ৫০ হাজার লিটারের মতো সরবরাহ করছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।
অন্য দিকে ঈদের ছুটিতে সরবরাহ সাময়িক বন্ধ থাকায় সঙ্কটের মাত্রা চরম আকার ধারণ করেছে।
কুড়িগ্রাম খলিলগঞ্জের এসএস ফিলিং স্টেশনের পরিচালক জামান কাজল বলেন, জেলার ২০টি ফিলিং স্টেশনের দৈনিক চাহিদার চার ভাগের এক ভাগও পূরণ হচ্ছে না। এ কারণে জ্বালানি সঙ্কট দূর হচ্ছে না। প্রতিদিনই ক্রেতাদের সাথে পাম্পগুলোতে ঝামেলা তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোসহ স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, বিষয়টির প্রতি খেয়াল রাখছি। ইউএনওদের নেতৃত্বে মনিটরিং টিম নিয়মিত বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করছেন। জ্বালানি সঙ্কট দূর করতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানায়, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় জ্বালানি তেল সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে পেট্রল ও অকটেন নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশিতে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বলছেন সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকরা।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার করুনানগর বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতি লিটার অকটেন প্রায় ২০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত দামের কারণে মোটরসাইকেলচালক ও যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ডিবিসি নিউজের সাংবাদিক সুমন উদ্দিন শুভর ওপর হামলার চেষ্টা ও তার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে।
জানা যায়, দোকানদার ও বাইকারদের সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি জহির উদ্দিন বাবর ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালাগালি এবং ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন।
স্থানীয়রা জানান, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা জহির উদ্দিন বাবরের মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা জানায়, মাদারীপুরের শিবচরে পেট্রল মজুদ করে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে এক দোকান মালিককে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল দুপুরে উপজেলার দ্বিতীয় খণ্ড ইউনিয়নের নদীরপাড় বাজারে এই অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান। এ সময় ‘মেজবা স্টোর’ নামে একটি দোকানে পেট্রল মজুদ রেখে অতিরিক্ত দামে বিক্রির প্রমাণ পাওয়ায় মালিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে দোকানে থাকা প্রায় ৪০ লিটার পেট্রল জব্দ করা হয়। এর আগে আরো দু’টি দোকান থেকে প্রায় ৬০ লিটার পেট্রল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এসব পেট্রল পরে ন্যায্যমূল্যে মোটরসাইকেলসহ স্থানীয় পেট্রলচালিত যানবাহনে সরবরাহ করা হয়েছে।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ে জ্বালানি সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ঈদের আগে থেকে চলছে এমন অচলাবস্থা। ঈদের পরও একই অবস্থা বিরাজ করছে। ডিপো থেকে কাক্সিক্ষত জ্বালানি না পেয়ে বন্ধ রয়েছে বেশির ভাগ ফিলিং স্টেশন। পর্যায়ক্রমে প্রতিদিন এক থেকে দু’টি ফিলিং স্টেশনে পরিমাণে অনেক কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে পার্বতীপুর ডিপো থেকে। আর কম পরিমাণে জ্বালানি পেয়ে তা বিক্রি করতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে ফিলিং স্টেশনগুলো। ডিজেলের সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও সঙ্কট রয়েছে মোটরসাইকেলের জ্বালানি পেট্রল ও অকটেনের। মোটরসাইকেলের জ্বালানি পেতে এক ফিলিং স্টেশন থেকে আরেক ফিলিং স্টেশনে ঘুরে ফিরছেন বাইকাররা। একটি ফিলিং স্টেশনে পেট্রল বা অকটেন দেয়ার খবর পেলেই সেখানে হাজির হচ্ছেন হাজারও মোটরসাইকেল মালিক। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর সেখান থেকে পাচ্ছেন মাত্র এক শ’ টাকার জ্বালানি।
জেলা সদরের খানপুকুর এলাকার পঞ্চগড় ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী আবু হিরণ জানান, সোমবার পার্বতীপুর ডিপোতে দু’টি লরি পাঠিয়েছিলাম। সেখানে দুই লরিতেই তারা ডিজেল দিয়েছে। আমরা সেখান থেকে পেট্রল ও অকটেন নেয়ার চেষ্টা করছি। আমরা চাহিদামতো জ্বালানি পেলে স্বাভাবিক সরবরাহ করতে পারব।
জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল ৮০ শতাংশ
বিশেষ সংবাদদাতা জানান, দেশের ভর্তুকিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থাকে সুরক্ষা দেয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য আনতে জেট ফুয়েলের দামে বড় ধরনের বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভর্তুকির জ্বালানি বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলোর হাতে চলে যাওয়া ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবে এর প্রভাব সরাসরি যাত্রী, এয়ারলাইন্স ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে কমিশন জানায়, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট এ-১ জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে, যা গতকাল মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে বেড়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ লিটারপ্রতি প্রায় ৮৯ টাকা ৮৮ পয়সা বা প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। অন্য দিকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের মূল্য ০.৭৩৮৪ মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৩২১৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রায় ৭৯ শতাংশ বৃদ্ধি।ভর্তুকির অপব্যবহার ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ
নীতিনির্ধারকদের মতে, দেশের ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানি বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য একটি বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের জেট ফুয়েলের তুলনায় বাংলাদেশে তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি পাওয়ায় অনেক বিদেশী এয়ারলাইন্স এখানে অতিরিক্ত জ্বালানি ভরার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে ভর্তুকির অর্থ কার্যত দেশের বাইরে চলে যাচ্ছিল। এ প্রেক্ষাপটে জেট ফুয়েলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা জরুরি হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ করা হলে তা বাজার বিকৃতি তৈরি করে এবং রাষ্ট্রের ওপর অপ্রয়োজনীয় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে। সেই চাপ কমাতেই এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব
কমিশন জানিয়েছে, বিদ্যমান বাজার পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের প্রবণতা বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা করলেও দীর্ঘমেয়াদে তা উচ্চমুখী থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া জ্বালানি আমদানিতে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিও দেশের জ্বালানি খাতে চাপ তৈরি করছে। ফলে ভর্তুকি ধরে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অ্যাভিয়েশন খাতে চাপ
তবে এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের অ্যাভিয়েশন খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে অ্যাভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। সংগঠনটি জেট ফুয়েলের এই হঠাৎ ও ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধিকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, দেশের জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ২৫টি তেলবাহী জাহাজ দেশে এসেছে এবং সেগুলো পূর্বনির্ধারিত দামে ক্রয় করা হয়েছে। একই সাথে আন্তর্জাতিক বাজারেও তেলের দাম কিছুটা নিম্নমুখী। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাকে ভিত্তি করে এত বড় মূল্য বৃদ্ধি যৌক্তিক নয়।
এওএবির সেক্রেটারি জেনারেল মোফিজুর রহমান বলেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের এয়ারলাইন্সগুলো মারাত্মক আর্থিক চাপে পড়বে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ রুটে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক ফ্লাইট অলাভজনক হয়ে পড়তে পারে।


