গুলশান লেকের পরিবেশ সুরক্ষার নির্দেশ

প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি সফর ও গ্লোবাল ফোরামে বক্তব্য দেয়ার আমন্ত্রণ

Printed Edition
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌদি আরবের  রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর আবিয়া সাক্ষাৎ করেন : পিআইডি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর আবিয়া সাক্ষাৎ করেন : পিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ দেশটি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌদি রাষ্ট্রদূতের বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ আমন্ত্রণ জানানো হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়াহ সৌদি যুবরাজের পাঠানো আমন্ত্রণপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন।

এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌদি যুবরাজকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির একথা জানান। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরের সময়সূচি দুই সরকারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরো জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং সৌদির উপ-রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

সৌদি আরবকে দীর্ঘদিনের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফর কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা গভীরতর করার এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য সৌদি সরকার ও দেশটির বেসরকারি খাতের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফর অথবা যুবরাজের বাংলাদেশ সফরের মধ্যে কোনটি আগে হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি এখনো নির্ধারিত হয়নি। আলোচনার মাধ্যমে আমরা এসব বিষয় চূড়ান্ত করব। তিনি বলেন, পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে সৌদি যুবরাজও বাংলাদেশ সফরে আগ্রহী।

গুলশান লেকের পরিবেশ রক্ষার নির্দেশ : গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের পরিবেশ সুরক্ষা, পানি দূষণ রোধ এবং সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, গুলশান-বনানী-বারিধারা-নিকেতন এলাকার ভবনগুলোর পয়ঃনিষ্কাশন সংযোগ ব্যবস্থা যাচাই এবং লেককে দূষণমুক্ত করার সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়। তিনি জানান, সভায় প্রধানমন্ত্রী লেকের বর্জ্য অপসারণ, পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, লেক দূষণমুক্ত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে যেসব ভবনের পয়ঃবর্জ্য সরাসরি লেকে গিয়ে পড়ছে, তা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

সভায় গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের পরিবেশ রক্ষায় স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপনের বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া লেক ও এর সাথে সংযুক্ত খালগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, বর্জ্য অপসারণ এবং পানি প্রবাহ সচল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

কড়াইল বস্তির বর্জ্য যাতে সরাসরি লেকে না পড়ে, সেজন্য কী কর্মপরিকল্পনা হাতে নেয়া যায় তা নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

সভায় গৃহায়নমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আব্দুস সালাম, উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইইউর গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামে আমন্ত্রণ : ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লায়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরাম ২০২৭-এ মূল বক্তব্য দেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। গতকাল বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এ আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত এ সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লায়েনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ারও সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর এ ফোরামে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্লোবাল গেটওয়ে উদ্যোগের আওতায় টেকসই অবকাঠামো, ডিজিটালায়ন, জ্বালানি, পরিবহন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। বৈঠকে রাষ্ট্রদূত মিলার, ইউরোপীয় কমিশনের সহসভাপতি এবং পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতিবিষয়ক ইইউর উচ্চ প্রতিনিধি কাজা কাল্লাসের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পাঠানো অভিনন্দনপত্রও হস্তান্তর করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্পর্কের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয় এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ব্যবসা, প্রযুক্তি, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরো জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-ইইউ বিজনেস ফোরাম ২০২৭, আসন্ন উচ্চপর্যায়ের সফর ও বৈঠক, বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সম্ভাবনা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়েও মতবিনিময় হয়। আলোচনায় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি, জাতিসঙ্ঘ-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এবং দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সঙ্কটও গুরুত্বের সাথে উঠে আসে।

গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামের তৃতীয় আসর আগামী ২০২৭ সালের ৮ ও ৯ জুন অনুষ্ঠিত হবে। ইউরোপীয় কমিশনের আয়োজনে এ ফোরামে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, সরকারি প্রতিনিধি, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং বেসরকারি খাতের নেতারা অংশ নেবেন।

আইএপিবির প্রধান নির্বাহীর সাক্ষাৎ : গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেসের (আইএপিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পিটার হল্যান্ড। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এ কথা জানান। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, অন্ধত্ব প্রতিরোধ, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা হ্রাস এবং এ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত উপস্থিত ছিলেন।

পরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং আইএপিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পিটার হল্যান্ড বৈঠকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

ভেজাল চিহ্নিতকরণে কমিটি গঠন : নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণসহ ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা চিহ্নিতকরণে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে এক সভায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা দেয়ার তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব মো: সুজাউদ্দৌলা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা চিহ্নিতকরণ তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।

কমিরি সদস্যরা হলেন- প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয়তা সাপেক্ষে দ্রুত সমাধানযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সুপারিশসহ রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

বৈঠকে ভোক্তা অধিকার অধিদফতর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই এবং সিটি করপোরশনসহ মাঠপর্যায়ে ভেজালবিরোধী অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তারা নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সমস্যা থাকবেই। তারপরও সেই সমস্যার মধ্য দিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বসে থাকলে চলবে না। পৃথিবীর অনেক দেশ একসময় আমাদের চেয়েও অনুন্নত ছিল, অথচ আজ তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে। সবাই একসাথে আন্তরিকভাবে কাজ করলে সেটি অবশ্যই সম্ভব।