ক্রীড়া ডেস্ক
২০২৬ বিশ্বকাপের ‘ই’ গ্রুপে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আগামীকাল সকাল ৬টায় কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে ইকুয়েডর ও কুরাসাও। প্রথম ম্যাচে দুই দলই হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও সেই হার ছিল ভিন্ন বাস্তবতার। ইকুয়েডর শেষ মুহূর্তে আইভরি কোস্টের কাছে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হলেও কুরাসাও নিজেদের অভিষেক বিশ্বকাপ ম্যাচে জার্মানির কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে ৭-১ গোলে।
গ্রুপে ইতোমধ্যে জার্মানি ও আইভরি কোস্ট এগিয়ে থাকায় এই ম্যাচের গুরুত্ব অনেক বেশি। এখানে হার মানেই প্রায় নিশ্চিত বিদায়। ফলে দুই দলের জন্যই এটি কার্যত নকআউট ম্যাচের মতো।
প্রথম ম্যাচে হারলেও ইকুয়েডরের পারফরম্যান্স হতাশাজনক ছিল না। তারা বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল, এমনকি গোলের খুব কাছেও পৌঁছায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোল না পাওয়ার মূল্য দিতে হয়েছে। এবার কুরাসাওয়ের বিপক্ষে আরো আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে।
সম্ভাব্য একাদশে আক্রমণভাগে দেখা যেতে পারে এনের ভ্যালেন্সিয়াকে। তাকে সহায়তা করবেন গনসালো প্লাতা, অ্যালান মিন্দা ও জন ইয়েবোয়া। মাঝমাঠে দলের নিয়ন্ত্রণ থাকবে মইসেস কাইসেদো ও পেদ্রো ভিতের ওপর। আর রক্ষণে নেতৃত্ব দেবেন ইউরোপের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার উইলিয়ান পাচো।
ইকুয়েডরের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের রক্ষণভাগ এবং সংগঠিত ফুটবল। প্রথম ম্যাচে তারা সেটা দেখিয়েছে। তবে এবার তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে গোলের সুযোগ কাজে লাগানো। কারণ এই ম্যাচে শুধু ভালো খেলা নয়, ৩ পয়েন্টই মূল লক্ষ্য।
অন্য দিকে কুরাসাওয়ের জন্য পরিস্থিতি আরো কঠিন। জার্মানির বিপক্ষে সাত গোল হজম তাদের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিয়েছে। কোচ ডিক অ্যাডভোকাট খুব বেশি পরিবর্তনের পথে না গিয়ে একই কাঠামো ধরে রাখতে পারেন।
কুরাসাওয়ের আক্রমণে ভরসা থাকবেন ইয়ুর্গেন লোকাডিয়া ও সন্টিয়ে হ্যানসেন। মাঝমাঠে সৃজনশীল দায়িত্ব থাকবে জুনিনিও বাকুনা ও লিয়ান্দ্রো বাকুনার ওপর। তবে তাদের সবচেয়ে বড় কাজ হবে রক্ষণকে স্থিতিশীল রাখা এবং অযথা জায়গা না ছেড়ে দেয়া।
দুই দলের মধ্যে এটি হবে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ফলে অতীত পরিসংখ্যান এখানে কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে সামর্থ্য, অভিজ্ঞতা ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় স্পষ্টভাবে এগিয়ে ইকুয়েডর।
কৌশলগতভাবে ম্যাচের চিত্রও অনেকটা পরিষ্কার। ইকুয়েডর শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ রেখে আক্রমণে যাবে। অন্য দিকে কুরাসাও নিজেদের অর্ধে থেকে রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে পাল্টা আক্রমণের সুযোগ খুঁজবে। কিন্তু শুরুতেই গোল হজম করলে তাদের জন্য ম্যাচে ফেরা কঠিন হয়ে যেতে পারে। ব্যক্তিগত দ্বৈরথের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে এনের ভ্যালেন্সিয়া বনাম কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগে। এ ছাড়া মাঝমাঠে মইসেস কাইসেদোর প্রভাবও ম্যাচের গতি নির্ধারণ করতে পারে।
সব মিলিয়ে কাগজে-কলমে ইকুয়েডর পরিষ্কার ফেবারিট। বিশ্বকাপে টিকে থাকার তাগিদ, তুলনামূলক শক্তিশালী দল এবং প্রতিপক্ষের দুর্বল রক্ষণ, সবকিছুই তাদের পক্ষে যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সেই সুবিধা মাঠে কতটা কাজে লাগাতে পারে তারা।



