বিশেষ সংবাদদাতা
- কোনো অন্যায় বরদাশত করব না
- সরকার হবে জবাবদিহিমূলক
- প্রতিশোধ প্রতিহিংসা নয়
বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়কে ‘বাংলাদেশের বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফ্যাসিবাদ মোকাবেলায় সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, আমাদের পথ ও মত ভিন্ন থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। আমি বিশ্বাস করি জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।
নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর গতকাল শনিবার বিকেলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান নেতাকর্মীদের শান্ত ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে কোথাও কোথাও ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে, তবে তা যেন কোনোভাবেই প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়।
তিনি বলেন, আমার বক্তব্য স্পষ্ট, যেকোনো মূল্যে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনো রকমের অন্যায় কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। দলমত, ধর্ম-বর্ণ কিংবা ভিন্ন মত যা-ই হোক কোনো অজুহাতেই দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ মেনে নেয়া হবে না। তিনি বলেন, ন্যায়পরায়ণতাই হবে আদর্শ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে সব প্রচেষ্টা বৃথা যেতে বাধ্য। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল, অন্য মত কিংবা ভিন্ন মত প্রতিটি বাংলাদেশী নাগরিকের জন্যই আইন সমান। আইনের প্রয়োগ হবে বিধিবদ্ধ নিয়মে।
তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা উপস্থাপন করেছিল। অন্যান্য গণতান্ত্রিক দল এবং সারা দেশের জনগণের সাথে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ৩১ দফা প্রণয়ন করেছিল। ৩১ দফার আলোকে ঘোষণা করা হয়েছে দলীয় ইশতেহার। একই সাথে কয়েকটি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে বিএনপি জুলাই সনদেও স্বাক্ষর করেছে। আমরা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রত্যাশিত প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমিকভাবে বাস্তবায়ন করব ইনশাআল্লাহ।
তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিকে দেশের জনগণ আবার রাষ্ট্র পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছেন। জনগণ বিএনপির প্রতি যে বিশ্বাস এবং ভালোবাসা দেখিয়েছেন, এবার জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নিরলস কাজের মাধ্যমে জনগণের এই বিশ্বাস এবং ভালোবাসার প্রতিদান দিতে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, এবার আমি সারা দেশে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলতে চাই শত নির্যাতন-নিপীড়নের পরও আপনারা রাজপথ ছাড়েননি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অটুট ছিলেন, অনড় ছিলেন। এবার দেশ গড়ার পালা আমাদের। দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রায় আপনি, আমি, আমাদের প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে অবশ্যই।
তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতাপ্রিয়, গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণ আবার বিএনপিকে বিজয়ী করেছে, আলহামদুলিল্লাহ। এ বিজয় বাংলাদেশের, এ বিজয় গণতন্ত্রের, এ বিজয় গণতন্ত্রকামী জনগণের। আজ থেকে আমরা সবাই স্বাধীন। আমি দেশের সব জনগণকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে আমরা দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছি।
শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় দলীয় নেতাকর্মীদের বিজয় মিছিল বের না করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমরা গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই বিজয়কে শান্তভাবে, শান্তির সাথে, দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে উদযাপন করেছি। নির্বাচনোত্তর বাংলাদেশে যাতে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, এজন্য শত উসকানির মুখেও আমি সারা বাংলাদেশে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের শান্ত এবং সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। কোনো অপশক্তি যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর সুযোগ নিতে না পারে, সেজন্য নির্বাচনোত্তর নিরঙ্কুশ জয়ের অর্জনের পরও আমি সারা দেশে বিএনপি এবং জোটভুক্ত দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের বিজয় মিছিল বের করতে নিষেধ করেছিলাম। আমরা আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমে বিজয় উৎসব পালন করেছি।
‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া সবচেষ্টা ব্যর্থ হবে’ : তারেক রহমান বলেন, আমার বক্তব্য স্পষ্ট- যেকোনো মূল্যে অবশ্যই শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনো রকমের অন্যায় কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ড আমরা বরদাশত করব না। দল-মত-ধর্ম-বর্ণ কিংবা ভিন্ন মত যাই থাকুক, কোনো অজুহাতে অবশ্যই দুর্বলের ওপরে সবলের আক্রমণ আমরা মেনে নেব না।
আইনের প্রয়োগ হবে বিধিবদ্ধ নিয়মে। নির্বাচনে একে-অপরের বিরুদ্ধে কিংবা এক দল আরেক দলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে নির্বাচনের মাঠে হয়তো কোথাও কোথাও নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে এ ধরনের বিরোধ যেন প্রতিশোধ, প্রতিহিংসায় রূপ না নেয় সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য আমি আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি।
বিএনপি প্রধান বলেন, আসুন, যেভাবে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ভূমিকা রেখেছিলাম, একইভাবে এবার দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিতার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ, মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য যে যার অবস্থান থেকে আমরা ভূমিকা রাখি। একটি নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যাত্রাপথে আমি ভিন্ন দল কিংবা ভিন্ন মতের সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
দেড় যুগেরও বেশি সময় লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পরে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। এরপর বনানীর হোটেল শেরাটনে সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছিলেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার ভোট দেয়ার পর এবং রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের কাছে দুই দফা প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছিলেন তারেক রহমান। তবে দেশে ফেরার পর গতকাল শনিবারই প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি।
‘জবাবদিহিমূলক সরকার হতে যাচ্ছে’ : নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর করে দেয়া সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি। আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে পুনরায় জনগণের সরাসরি ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সংসদ এবং সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
বিএনপি প্রধান বলেন, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, গণ অধিকার পরিষদসহ ৫১টি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেও আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলগুলো মূলত গণতন্ত্রের বাতিঘর। সরকার এবং বিরোধী দল যে যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে, অবশ্যই দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
দলগুলোর ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানাই, দেশ গঠনে আপনাদের চিন্তাভাবনা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পথ এবং মত ভিন্ন থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। আমি বিশ্বাস করি জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।
সংবাদ সম্মেলন শেষে বিজয় চিহ্ন দেখান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে সাদা শার্ট পরে হাস্যোজ্জ্বল মুখে তারেক রহমান হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে প্রবেশ করলে সেখানে আসা নেতারা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে সাংবাদিকদের দিকে হাত তুলে সালাম জানান তারেক রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ সিনিয়র নেতারা।
অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, শামসুজ্জামান দুদু, জয়নাল আবেদীন, মীর নাসির, শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, আহমেদ আজম খান, আসাদুজ্জামান রিপন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, আফরোজা আব্বাস, শরিফুল আলম, মিডিয়া সেলের মওদুদ হোসেন আলমগীর, আতিকুর রহমান রুমন, শায়রুল কবির খান, জাহিদুল ইসলাম রনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্য শেষে তারেক রহমান দেশী-বিদেশী বিভিন্ন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাব দেন।
‘বাংলাদেশের স্বার্থই প্রথম’ : সংবাদ সম্মেলনে এক বিদেশী সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তারেক রহমান বলেন, তার সরকারের পররাষ্ট্র নীতিতে বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থই হবে প্রথম। বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থ ঠিক রেখে আমরা আমাদের ফরেন পলিসি ডিসাইড করব।
স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপি অনুসরণ করে দি প্রিন্সিপাল অব মাল্টিলেটারিজম। উই ডোন্ট হেম এ্যানি কান্ট্রি সেন্ট্রিক পলিসি এজ।
আইসিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বিচার বিভাগের বিষয়।
জনগণকে কনভিন্স করাটাই আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং : গত সরকার চলে যাওয়ার পর থেকে আপনি বলে আসছেন যে এই নির্বাচনটা খুব সহজ হবে না। এখন নির্বাচনটা হয়ে গেল। এটা আপনার কাছে সহজ ছিল কিনা। আর দুই শ’র বেশি আসন পাওয়ার জন্য আপনাকে কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং করতে হলো কিনা?
জবাবে তারেক রহমান বলেন, দেশের জনগণকে কনভিন্স করাটাই হচ্ছে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং। আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিংটা ছিল জনগণকে আমাদের পক্ষে নিয়ে আসা, সেটাতে আলহামদুলিল্লাহ আমরা সফল হয়েছি। আর জনগণকে কনভিন্স করে একটি সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশের এ্যানসিউর করাটাই ছিল আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তর। অর্থাৎ যেটা আমি বলেছিলাম কঠিন হবে কিনা। যেকোনো ভালো কাজের গোল এচিভ করতে গেলে তো কষ্ট করতে হবে, কঠিন হবেই।
ভারত-পাকিস্তান-চীনের সাথে আপনাদের সম্পর্ক কী হবে?- এ প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, আই অলরেডি অ্যানসার দিস।
এ সময় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্রনীতি এরই মধ্যে আমি বলেছি। দেশের স্বার্থ ঠিক রেখে আমাদের পলিসি হবে।
সরকারের অগ্রাধিকার চ্যালেঞ্জগুলো কী : তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে কিছু চ্যালেঞ্জ আছে সেগুলো হচ্ছে, অর্থনীতিকে সচল করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা অবশ্যই আমাদের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আপনি জানেন যে, গত রেজিম তারা দেশে সব প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করেছে। সেজন্য আমরা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করব। এগুলো আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছি এবং এগুলোকে উই নিড টু টেকেল।
যুবকদের জন্য আপনার পরিকল্পনা কী’- এ প্রশ্নের উত্তরে তারেক রহমান বলেন, আমরা জনগণের রায় পেয়েছি। অবশ্যই যুবকরা আছেন তবে সমাজের আরো শ্রেণী-পেশার মানুষ আছেন। আমরা সবার বিষয়ে এড্রেস করব। আমরা এরই মধ্যে আমাদের দলের ম্যানিফেস্টো প্রকাশ করেছি সেখানে সব বিষয়ে আমরা এড্রেস করেছি। যুবকদের জন্য কী করব, আমরা নারীদের জন্য কী করব, আমরা ডিজাইবেল পিপলসের জন্য কী করব সব কিছু সেখানে (ইশতেহারে) আছে।
‘দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতা ফোরাম (সার্ক) এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিএনপি কী করবে’- এই প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ইয়েস আপনি জানেন, সার্ক গঠন হয়েছিল বাংলাদেশের উদ্যোগে। স্বাভাবিকভাবে আমরা সার্ক সক্রিয় করতে চাই। এই বিষয়ে আমরা আলাপ করব। আপনার দ্বিতীয় প্রশ্ন এটা ডিপেন্ড অন দা লিগ্যাল প্রসেস অফ কোর্স।
চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, ‘ডেফিনেটলি উই উইল ট্রাই টু প্রেটেক্ট ইন্টারেস্ট অব পিপল অব বাংলাদেশ, আমাদের দেশের স্বার্থ ঠিক রেখে আমরা সব দেশের সাথে সম্পর্ক গড়ব। আই অ্যাম সিউর মিচ্যুয়াল ইন্টারেস্ট ইজ দি ফাস্ট প্রাইয়োরিটি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওয়েল আমাদের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চাইনিজ বন্ধুরা আছেন। আমরা আশা করি, দুই দেশ সামনের দিনগুলো আরো নিবিড়ভাবে একসাথে কাজ করবে।
দেশের অর্থনীতি সচল কিভাবে- এ প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, টু ব্রিং মোর বিজনেসেস অ্যান্ড ক্রিয়েট মোর জবস।
‘আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি রোধ কিভাবে’- এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দেখুন আপনি বোধহয় আইনশৃঙ্খলার কথা বলতে চেয়েছেন। আমরা বলেছি যে, আইন সবার জন্য সমান। আইন যদি সবার জন্য সমান হয়ে থাকে আমরা ইনশাল্লাহ সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আসার পরে আমরা চেষ্টা করব, আইন যাতে আইনের মতো করে চলে। সেটিই আমাদের পজিশন।
আওয়ামী লীগের বিষয়ে আপনাদের অবস্থান কী হবে- এই প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, বাই অ্যানসিউরিং রুল অব ল।’
বিগত সরকারের সময়ে লুটপাট ও পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে আপনার পরিকল্পনা কী- এর উত্তরে বলেন, আপনি যদি আমাদের ইশতেহার দেখেন সেখানে আপনার এই প্রশ্নের জবাবগুলো আপনি সুন্দরভাবে পাবেন। আমি ইশতেহারে বলেছি যে, গণতান্ত্রিক অর্থনীতি। অর্থাৎ আমরা এমন একটা অর্থনীতি সূচনা করতে চাই যেখানে সবাই সবার যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে সবাই ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবেন।” কোনো একটা বিশেষ মহলকে আমরা সুযোগ দিতে চাই না।
সংবাদ সম্মেলনে আলজাজিরা, বিবিসি, এবিসিসহ চীন, ভারত, পাকিস্তান, জাপান, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাবলীলভাবে তাদের প্রশ্নের জবাব দেন।



