নয়া দিগন্ত ডেস্ক
গাজীপুরের কালীগঞ্জে যৌতুকলোভী জামাতার কুড়ালের আঘাতে শ্বশুরের মৃত্যু হয়েছে। চুয়াডাঙ্গায় এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি জানান, গাজীপুরের কালীগঞ্জে জামাতার কুড়ালের আঘাতে শ্বশুর খুনের ঘটনা ঘটেছে। নিহত শ্বশুর কলা ব্যবসায়ী মজিদ মোড়ল (৬৫) স্থানীয় জামালপুর মধ্যপাড়া এলাকার মৃত আলতু মোড়লের ছেলে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলায় জামালপুর বাজারের কলাপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত জামাতা মোজাম্মেল হক ওরফে মুজা সরকার উত্তর জামালপুর সরকারপাড়া এলাকার মৃত নোয়াব আলী সরকারের ছেলে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর শনিবার সকালে জামাতা নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে।
জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে প্রতিদিনের মতো কলা বিক্রির জন্য বাজারে যাচ্ছিলেন মজিদ মোড়ল। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জামালপুর বাজারের ভাঙ্গারি পট্টি এলাকার একটি গলিতে পৌঁছালে পেছন থেকে তার মাথায় কুড়াল দিয়ে আঘাত করেন মোজাম্মেল হক। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৭ বছর আগে মজিদ মোড়লের মেয়ের সাথে মোজাম্মেল হকের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত মোজাম্মেল স্ত্রীকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত এবং শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা এনে দেয়ার জন্য চাপ দিত। চাহিদামতো টাকা না পেলে নির্যাতন আরো বেড়ে যেত বলে পরিবারের দাবি।
প্রায় ১৫ দিন আগে মারধরের পর স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দেন মোজাম্মেল, এর পর থেকে তিনি বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যাওয়ার পর মোজাম্মেল সেখানে গিয়ে এবং পথেঘাটে তাকে উত্ত্যক্ত করতেন বলে অভিযোগ ।
ঘটনার পরপরই নিহতের ছেলে বাদি হয়ে মোজাম্মেল হককে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যেই শনিবার সকাল ১০টার দিকে থানায় হাজির হয়ে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন মোজাম্মেল।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: জাকির হোসেন জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজে থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেছেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সাথে অন্য কোনো বিষয় জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাসটার্মিনাল এলাকা থেকে শাহাবুদ্দিন ওরফে আশাদুল (৩০) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। মৃত শাহাবুদ্দিন ওরফে আশাদুল চুয়াডাঙ্গা শহরের রেলপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মরহুম ওহাব মণ্ডল।
পুলিশ স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। তবে কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।



