চট্টগ্রামে ৩ দিনের ফল মেলা শুরু

Printed Edition

চট্টগ্রাম ব্যুরো

দেশীয় ফলের স্বাদ ও গুণগত মান রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, ফলের স্বাভাবিক স্বাদ হারিয়ে গেলে মানুষের, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে ফল খাওয়ার আগ্রহ কমে যায়। তাই ফল উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি এর স্বাদ ও পুষ্টিগুণ সংরক্ষণেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী জেলা ফল মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ছিল ‘করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ বারো মাস’।

উদ্বোধনের পর জেলা প্রশাসক জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে কৃষকদের আনা ফলের প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। প্রদর্শনীতে চট্টগ্রামে উৎপাদিত প্রায় ৬০ প্রজাতির প্রচলিত ও অপ্রচলিত ফল এবং সেগুলোর পুষ্টিগুণ তুলে ধরা হয়।

দেশীয় ফলের গুরুত্ব তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ু ও প্রকৃতির সাথে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ দেশীয় ফল ও বৃক্ষই এ দেশের প্রকৃত সম্পদ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ফলের স্বাভাবিক স্বাদ হারিয়ে যাচ্ছে, যা উদ্বেগের বিষয়।

তিনি বলেন, ‘আগে যে কলার স্বাদ ছিল, এখন অনেক ক্ষেত্রে সেই স্বাদ পাওয়া যায় না। বিভিন্ন ফলের অতিরিক্ত সংকরায়ন বা হাইব্রিড জাতের কারণে ফলের আকার ও সৌন্দর্য বাড়লেও স্বাভাবিক স্বাদ কমে যাচ্ছে। ফলের স্বাদ ফিরিয়ে আনতে না পারলে মানুষকে, বিশেষ করে শিশুদের, ফল খাওয়ার অভ্যাসে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না।’

ফল পাকাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কার্বাইডসহ বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে ফল পাকানোর প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। ব্যবসায়িক লাভের জন্য মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ফলের পুষ্টিগুণ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং বাণিজ্যিক ফল উৎপাদনের গুরুত্ব তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) কৃষিবিদ রঘুনাথ নাহা।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাসহ কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, চট্টগ্রাম জেলার উপপরিচালক কৃষিবিদ আপ্রু মারমা।