আলজাজিরা
গাজায় ইসরাইলের জাতিগত নিধনের ভয়াবহতা নিজের চোখে দেখেছেন খান ইউনুসের বাসিন্দা মোহাম্মদ জাকি আল-বাকরি। প্রায় ২০ মাস ইসরাইলের পাঁচটি ভিন্ন কারাগারে বন্দী ছিলেন তিনি। আলজাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কারান্তরালে ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো ইসরাইলি সেনাদের রোমহর্ষক ও অমানবিক নির্যাতনের বিবরণ দেন তিনি।
আল-বাকরি জানান, কারাগারে তাদের বিবস্ত্র করে, চোখ ও হাত-পা বেঁধে নির্মম নির্যাতন চালানো হতো। এমনকি তাদের ওপর বড় কুকুর লেলিয়ে দিয়ে পাশবিক ও যৌন হেনস্তা করা হয়েছে। আলজাজিরার অনুসন্ধানী তথ্যচিত্র ‘বডিজ অব এভিডেন্স : ইসরাইলস ডার্কেস্ট উইপেন’-এ ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর চালানো এমন পদ্ধতিগত নিপীড়নের চিত্র উঠে এসেছে। গাজা ও পশ্চিম তীরের একাধিক সাবেক বন্দী জানান, ইসরাইলের কুখ্যাত ‘সদে তেইমান’সহ বিভিন্ন আটক কেন্দ্রে কুকুরকে শুধু ভয় দেখানোর জন্য নয়, বরং বন্দীদের চরমভাবে অপমান ও যৌন নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ফিলিস্তিনের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ১৯৬৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত সাড়ে সাত লাখের বেশি ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরাইল। সাবেক বন্দী ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এই নির্যাতন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি ইসরাইলি রাষ্ট্রযন্ত্রের একটি পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া। বন্দীদের মারধর, অনাহারে রাখা, নগ্ন করে ভিডিও ধারণ এবং ধর্ষণের হুমকি দেয়া সেখানে নিত্যদিনের ঘটনা। এমনকি উত্তর গাজার জব (ছদ্মনাম) নামের এক বন্দী জানান, ইসরাইলি সেনারা তাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেছে এবং নারী সেনারা কৃত্রিম যন্ত্র ব্যবহার করে নির্যাতন চালিয়েছে।
শুধু কারাগারেই নয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর উগ্র ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের (সেটলার) বর্বরতাও চরম আকার ধারণ করেছে। জর্ডান ভ্যালির বাসিন্দা মোহাম্মদ আবু কাবাশ ও তার ভাই সোহাইব আবু কাবাশ জানান, উগ্র সেটলাররা রাতে তাদের ঘরে ঢুকে শিশুদের মারধর করে, গবাদিপশু লুট করে এবং তাদের বিবস্ত্র করে যৌনাঙ্গে প্লাস্টিকের জিপ টাই বেঁধে নির্যাতন চালায়। নারীদের ধর্ষণ ও ঘরবাড়ি ছাড়ার হুমকিও দেয়া হয়। আন্তর্জাতিক মহলে এসব বর্বরতার তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলেও ইসরাইল বরাবরের মতোই এই পদ্ধতিগত নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।



