গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি
এক দিকে দীর্ঘদিনের মাদকের ‘হটস্পট’, অন্য দিকে লোককথা ও পুঁথিসাহিত্যের স্মৃতি বহনকারী এলাকা গাজীপুরের টঙ্গীর সেই হাজির মাজার বস্তিতে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টঙ্গী বাজারের কলকারখানা অধিদফতর সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান শুরু হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে পে-লোডার, এক্সকাভেটর ও বিপুলসংখ্যক শ্রমিক অংশ নেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে মোতায়েন ছিল গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) বিপুলসংখ্যক সদস্য।
রাজউকের উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) মো: লিটন সরকার ও জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো: বেলায়াত হোসেনের নেতৃত্বে এ অভিযানে পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তা দেন। অভিযানে বস্তির বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে রাজউকের মালিকানাধীন জমি দখলমুক্ত করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হাজির মাজার বস্তিটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচার অন্যতম কেন্দ্র ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সময়ে সেখানে অভিযান চালালেও মাদক কারবার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এবার রাজউকের নিজস্ব জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের মধ্য দিয়ে মাদক কারবারের পুরনো আস্তানাটিও অনেকটা গুঁড়িয়ে দেয়া হলো।
উপপরিচালক মো: লিটন সরকার বলেন, রাজউকের এই প্লটটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। প্রশাসনের সহায়তায় অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে আমরা আমাদের জমি বুঝে নিয়েছি।
জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো: বেলায়াত হোসেন বলেন, মাদকের অভিশাপ থেকে টঙ্গীকে মুক্ত করা এবং সরকারি জমি পুনরুদ্ধারে এ ধরনের অভিযান কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এ দিকে উচ্ছেদ করা জায়গায় যাতে ফের অবৈধ দখল কিংবা মাদকের স্পট গড়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি রাখা হবে বলে রাজউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পুঁথির সোনাভান, মাজার ও কহর দড়িয়া
মাদকের স্পট হিসেবে বর্তমান পরিচয়ের আড়ালে হাজির মাজার বস্তি ঘিরে রয়েছে লোককথা ও পুঁথিসাহিত্যের নানা স্মৃতিও। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে, এ এলাকায় কথিত সোনাভানের মাজার ও ‘সোনাভানের পুকুর’ রয়েছে। পুঁথির গল্পে বর্ণিত সোনাভানের সাথে এ স্থানটির সম্পর্ক রয়েছে এমন বিশ্বাসও দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্রচলিত। শুধু মাজার ও পুকুরই নয়, বস্তির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া তুরাগ নদের এ অংশটিকেও লোকমুখে পুঁথিসাহিত্যে বর্ণিত ‘কহর দড়িয়া’ নামে উল্লেখ করা হয়। এসবের ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে গবেষণার সুযোগ থাকলেও স্থানীয় মানুষের কাছে স্থানগুলো এখনো ঐতিহ্য ও লোকস্মৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।



