ইরান সঙ্কটে সামরিক উপদেষ্টাদের ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

Printed Edition

এনবিসি নিউজ

ইরান ইস্যু কেন্দ্র করে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে ধীরগতি এবং নিজের শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টাদের মধ্যকার মতপার্থক্যে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানা গেছে, জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে চরম বিরক্তি প্রকাশ করে নিজের উপদেষ্টাদের কড়া ভাষায় তিরস্কার করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর দুই দেশের বৈরিতা তীব্র রূপ ধারণ করে। যার জেরে ইরানের পাল্টা হামলা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করা এবং বর্তমানের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক জটিলতা তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাম্পের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী এনবিসি নিউজকে জানান, পুরো পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট চরম হতাশ। ইরানি পক্ষকে একটি সমঝোতায় আনা এতটা জটিল হবে তা তিনি আগাম অনুমান করতে পারেননি। এই সঙ্ঘাতের শেষ কোথায় বা পরবর্তী সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ কি হওয়া উচিত তা নিয়ে সুস্পষ্ট কোনো রূপরেখা ছিল না। তিনি কোনোভাবেই রক্তক্ষয়ী ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চাচ্ছিলেন না। পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিচালনার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রণয়নে কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক বিভাজনই ট্রাম্পের ক্ষোভের প্রধান কারণ। পর্যাপ্ত সময় পার হলেও প্রশাসনে কোনো একমত গড়ে ওঠেনি। কিছু প্রাথমিক সাফল্য সত্ত্বেও নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনার ঘাটতি ও ভবিষ্যৎ কৌশলের অস্পষ্টতার দরুন মার্কিন দল সার্বিকভাবে বড় ধরনের কৌশলগত জটিলতার মুখে পড়ছে।

অবশ্য বৈঠক কক্ষের বাগি¦তণ্ডা ও ট্রাম্পের ক্ষোভ প্রকাশের এই খবর পুরোপুরি অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউজ। এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট প্রতিবেদনটির তথ্যকে ভিত্তিহীন দাবি করে জানান, প্রেসিডেন্টের নিজস্ব টিমের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে এবং শেষ সিদ্ধান্তের ক্ষমতা কেবল তার হাতেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন সেনাদের হত্যা করা বা প্রণালিতে জাহাজে হামলা চালানোর ঘটনা প্রেসিডেন্ট মেনে নেবেন না। ইরান তার অবস্থান না বদলানো পর্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নিতে ট্রাম্প সম্পূর্ণ প্রস্তুত। একই সুর ব্যক্ত করে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা বিভাগ ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ অবস্থায় প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা পাওয়ার সাথে সাথেই তা কার্যকর করা হবে। তবে প্রশাসনিক সূত্রগুলোর মতে, প্রকাশ্যে কঠোর ভাবমূর্তি বজায় রাখলেও অভ্যন্তরীণ কৌশলের সমন্বয়হীনতা ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নির্ধারণী পথকে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রবিষয়ক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।