ইন্ট্রাডে ট্রেডিং বাতিলসহ ৬ দফা দাবিতে বিএসইসি চেয়ারম্যানের সাথে বিনিয়োগকারীদের বৈঠক

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) গৃহীত ‘স্ক্রিপ নেটিং’ বা ‘ইন্ট্রাডে ট্রেডিং’ চালুর সিদ্ধান্ত বাতিলসহ ছয় দফা দাবিতে বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সাথে মতবিনিময় সভা করেছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী সম্মিলিত পরিষদ (বিসিএমইউএ)।

গত রোববার বেলা ৩টায় বিএসইসি ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পুঁজিবাজারের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পুঁজির সুরক্ষা এবং প্রস্তাবিত ছয় দফা দাবি নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। বিনিয়োগকারীদের দাবিগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

বৈঠকে বিসিএমইউএর সভাপতি আ ন ম আতাউল্লাহ নাঈম, সাধারণ সম্পাদক শেখ আতিক ইখতিয়ার, সিনিয়র সহসভাপতি এ কিউ এম সিদ্দিক উল্লাহ, সহসভাপতি জহিরুল আলম জামাল, অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল খোকন, সিনিয়র সাধারণ সম্পাদক মো: নিজাম উদ্দিন ও যুগ্ম সম্পাদক মো: মহিউদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিনিয়োগকারীদের ছয় দফা দাবি: ১. ইন্ট্রাডে ট্রেডিং বাতিল : পর্যাপ্ত মৌলিক ভিত্তিসম্পন্ন (ফান্ডামেন্টাল) শেয়ারের অভাব এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আর্থিক ঝুঁকি বিবেচনার স্বার্থে স্ক্রিপ নেটিং বা ইন্ট্রাডে ট্রেডিং চালুর সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করে বিদ্যমান ব্যবস্থা বহাল রাখা।

২. মার্জার হওয়া পাঁচ ব্যাংকের ক্ষতিপূরণ: একীভূত (মার্জার) হওয়া পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারধারীদের বিনোয়োগ ফেরতের লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া।

৩. মিউচুয়াল ফান্ডের অনিয়ম রোধ: আইন অমান্য করে ৭০-৭৫ শতাংশ ফান্ড ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) করার প্রবণতা বন্ধ করা এবং নিয়ম অনুযায়ী প্রথম সারির ব্যাংকে আমানত রেখে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

৪. ব্যাংক খাতের আর্থিক স্বচ্ছতা: ব্যাংকগুলোর প্রকৃত মুনাফা, ক্যাশফ্লো, প্রভিশনিং এবং ডেফ্যারেল সংক্রান্ত বিস্তারিত বিবরণী বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা, যাতে বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত না হন।

৫. প্লেসমেন্ট শেয়ারের জালিয়াতির বিচার: বিএসইসির কনসেন্ট লেটার দেখিয়ে প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি করে বছরের পর বছর শেয়ার বরাদ্দ না দেয়া কোম্পানিগুলোর (যেমন: থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিন, কেমিকো ফার্মাসিউটিক্যালস, বেইস টেক্সটাইল ইত্যাদি) বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া এবং অর্থ ফেরত আনা।

৬. টেক্সটাইল খাতের আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা: টেক্সটাইল খাতের কোম্পানিগুলোর ত্রৈমাসিক অ-নিরীক্ষিত (অন-অডিটেড) প্রতিবেদনের বদলে ছয় মাস অন্তর নিরীক্ষিত (অডিটেড) প্রতিবেদন প্রকাশ নিশ্চিত করা, যাতে ভুয়া তথ্যে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন।

পুঁজিবাজারে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা ও আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উল্লিখিত দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন বিনিয়োগকারী নেতারা।