হজযাত্রীদের সাথে প্রতারণার অভিযোগ কালো তালিকায় খোয়াই হজ এজেন্সি

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

পরপর দুই বছর ধরেই হজ যাত্রীদের সাথে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা প্রমাণিত হওয়ার পর খোয়াই হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। খোয়াই এয়ার ট্র্যাভেলস নামে হজ লাইসেন্স (হজ লাইন্সেস নং ০৮৯০) থাকলেও তারা ভিন্ন নামের অন্য এজেন্সির মাধ্যমে হাজী পাঠিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে। ২০২৫ এবং ২০২৬ এর হজের মৌসুমে হজযাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় অনুসন্ধান চালিয়ে খোয়াই এয়ার ট্রাভেল্সের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ছয়টি গুরুতর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে।

গত ১৭ মে ২০২৬ তারিখে ধর্ম মন্ত্রণায়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো: তফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে খোয়াই এয়ার ট্র্যাভেলসের কার্যক্রম আগামী দুই বছরের জন্য অর্থাৎ ২০২৭ এবং ২০২৮ সালের হজের কার্যক্রমে তাদেরকে নিষিদ্ধ করে তাদের লাইসেন্স কালো তালিকাভুক্ত করেছে। একই সাথে এজেন্সিটির ইউজার আইডিও বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কালো তালিকাভুক্ত এই এজেন্সির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে শুধু প্রশাসনিক ত্রুটি হিসেবে দেখেনি মন্ত্রণালয়। হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২১-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ দিকে খোয়াই হজ এজেন্সির মালিক নিজের লাইসেন্সের উপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য ভিন্ন কৌশলে রাজনৈতিক কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির মাধ্যমে অসৎ উপায়ে তদবির শুরু করেছেন। অভিযোগকারী দুইজন হজযাত্রীকে তিনি স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে সালিস বৈঠকের নামে ভুয়া একটি অঙ্গীকারনামা লিখিয়ে সেটি মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন। একই সাথে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নিয়ে তিনি সরাসরি মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে অনৈতিক একটি চুক্তি করে তার লাইসেন্স আবার চালু করার পাঁয়তারা করছেন। গত দুই তিন দিনে মন্ত্রণালয়ে একটি চক্রের সাথে মালিক পক্ষের একটি চুক্তি হয়েছে বলেও জানা গেছে।

এসব বিষয়ে খোয়াই হজ এজেন্সির মালিক আবুল হাসেম এই প্রতিবেদককে জানান, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক নয়। আমি এখন ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য দৌড়াদৌড়ি করছি। মন্ত্রণালয়ের একটি চক্রের সাথে তার অনৈতিক চুক্তির বিষয়ে বলেন আমি আমার পক্ষের সব কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। এমনকি অভিযোগকারী দুইজন হজযাত্রী তাদের অভিযোগও প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। আর আমার খোয়াই হজ লাইসেন্স কালো তালিকাভুক্ত হয়নি। আমাদের কার্যক্রম আগামী দুই বছরের জন্য স্থগিত করেছে মাত্র।

এ বিষয়ে হজ অফিসার লোকমান হোসেন (যুগ্ম সচিব) গতকাল বুধবার এই প্রতিবেদককে জানান, খোয়াই হজ এসেন্সির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন যে কেউ-ই ক্ষতিগ্রস্ত হলে এ বিষয়ে তিনি প্রতিকার চাইতেই পারেন। তবে আমাদের কাছে যে তথ্য আছে তাতে প্রমাণিত অভিযোগের পরে যত তদবিরই করুক না কেন শাস্তি তাকে পেতেই হবে। আইন এবং নিয়মের বাইরে কেউ যেতে পারবেন না।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (হজ অনুবিভাগ) ড. মো: আয়াতুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানান, কে কোন দিক দিয়ে তদবির করবে- এটা আমাদের প্রশাসন বিভাগ অবশ্যই নজরে রাখবে। তবে অন্যায় করার পরেও যদি কেউ তদবির করে পার পেয়ে যায় তাহলে তো আর নিয়ম কানুনের প্রয়োজন নেই।