ফকিরহাটে তালের ফলনে গ্রামীণ অর্থনীতিতে যোগ কোটি টাকা

Printed Edition

আব্দুল আউয়াল ফকিরহাট (বাগেরহাট)

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় এ বছর তালের বাম্পার ফলন হয়েছে। রাস্তার ধারে, খেতের আইলে ও বসতভিটার তালগাছগুলোতে প্রচুর ফল ধরায় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ট্রাকভর্তি তাল সরবরাহ করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ফকিরহাটে বর্তমানে ফলন্ত তালগাছের সংখ্যা ১০ হাজার ৫০৪টি। প্রতিটি গাছে গড়ে ২০ থেকে ২৫টি কাদি এবং প্রতি কাদিতে গড়ে ১৫টি করে তাল রয়েছে। সেই হিসাবে চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১১ লাখ ২ হাজার ৯২০টি তাল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষক পর্যায়ে মাঠ থেকে প্রতিটি তাল গড়ে ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সে হিসাবে এ বছর শুধু তাল বিক্রি থেকেই স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকার বেশি অর্থের প্রবাহ সৃষ্টি হবে বলে কৃষি বিভাগ ধারণা করছে। খুচরা বাজারে প্রতি পিস তাল ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, তালগাছের তেমন পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। প্রাকৃতিকভাবেই গাছে ফল ধরে এবং অতিরিক্ত ব্যয় ছাড়াই প্রতি বছর পর্যপ্ত টাকা আয় করা সম্ভব। এ কারণে অনেকেই এখন তালগাছ সংরক্ষণ ও নতুন করে চারা রোপণের দিকে আগ্রহী হয়ে উঠচ্ছেন।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, ফকিরহাটের তালের স্বাদ ও গুণগত মান ভালো হওয়ায় ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার বাজারে এর চাহিদাও বেশি। মৌসুমজুড়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তাল ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, তালগাছ সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে গত ১২ বছরে উপজেলায় প্রায় দেড় হাজার তালের চারা রোপণ করা হয়েছে। এ ছাড়া গত বছর সরকারি প্রণোদনা ও উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচির আওতায় আরো প্রায় ২০০টি চারা রোপণ করা হয়।

ফকিরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তাল একটি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ফল। গরম ও বর্ষা মৌসুমে এটি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি তালগাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণে কৃষি বিভাগ তালগাছ রোপণ ও সংরক্ষণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, তালভিত্তিক উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনব্যবস্থার আরো উন্নয়ন করা গেলে ভবিষ্যতে ফকিরহাটে তাল একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসলে পরিণত হতে পারে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে আরো বড় অবদান রাখা সম্ভব হবে।