ফরহাদ খান নড়াইল
নড়াইলে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের প্রণোদনায় আবাদ ও উৎপাদন- দুটোই বেড়েছে। মাঠজুড়ে এখন ধান কাটার ব্যস্ততা। তবে ধানের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকেরা প্রতি মণ ধানের দাম এক হাজার ৪০০ টাকা থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।
পয়লা বৈশাখের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় পুরোদমে ধান কাটা শুরু হয়েছে। দেশের অন্য অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় কৃষকেরা ক্ষতির মুখে পড়লেও এ জেলায় তুলনামূলক অনুকূল পরিবেশেই নির্বিঘেœ ধান ঘরে তুলছেন কৃষাকরা।
নড়াইল পৌর এলাকার দুর্গাপুরের কৃষক ইপি রানী, সঙ্গীতা বিশ্বাস, মাধব কুমার বিশ্বাস, অজিত বিশ্বাস ও নারায়ণ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, বর্তমানে জাতভেদে প্রতি মণ ধান ৮০০ টাকা থেকে এক হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের উচ্চ মজুরির কারণে এই দামে উৎপাদন খরচ ওঠানো কঠিন।
তাদের ভাষ্য, একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৯০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা। এর সাথে তিন বেলা খাবার ও থাকার ব্যবস্থাও করতে হচ্ছে। ফলে ধান উৎপাদনে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
কালিয়া উপজেলার পিরোলী গ্রামের কৃষক গোলাম মোর্শেদ শেখ বলেন, অঞ্চল ও জাতভেদে প্রতি মণ ধানের উৎপাদন খরচ ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। বর্গাচাষিদের ক্ষেত্রে উৎপাদিত ধানের এক-তৃতীয়াংশ জমির মালিককে দিতে হয়। এতে তাদের লাভের পরিমাণ আরো কমে যায়।
জেলার বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ ধান ৮০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর নড়াইলের উপপরিচালক কৃষিবিদ মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে জেলায় ৫০ হাজার ২৯৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৫০ হাজার ৩০৯ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের তুলনায় ১২ হেক্টর বেশি।
তিনি জানান, কৃষকদের সহায়তায় ৯ হাজার কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে হাইব্রিড ও উফশী ধানের বীজ এবং সার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ধান চাষ ও পরিচর্যা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এ বছর জেলায় দুই লাখ ৩০ হাজার ২০৮ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কয়েক দফা বৃষ্টিপাত হলেও এ জেলায় বোরো ধানের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়নি। বরং আম, লিচু, জামরুল, পাট ও বিভিন্ন সবজি ফসলে এই বৃষ্টি ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
কৃষকেরা বলছেন, ভালো ফলন সত্ত্বেও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে তাদের পরিশ্রমের যথাযথ প্রতিফল মিলবে না।



