ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সাইকেল চোর চক্র। বিগত প্রায় সাড়ে চার বছরে ক্যাম্পাস থেকে অন্তত ৩১১টি সাইকেল চুরি হলেও একটিও উদ্ধার করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিরাপত্তাকর্মী থাকা সত্ত্বেও এই চুরি ঠেকাতে না পারায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত চুরি হওয়া এসব সাইকেলের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা। সবচেয়ে বেশি ২৯টি সাইকেল চুরি হয়েছে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে। এ ছাড়া বিজয় একাত্তর ও মুহসিন হল থেকে ২৫টি করে, শহীদুল্লাহ হল থেকে ২৩টি, কলাভবন থেকে ২২টি এবং জগন্নাথ হল থেকে ২১টি সাইকেল খোয়া গেছে। তথ্যমতে ২০২২ সালে ৫৭টি, ২০২৩ সালে ৫১টি এবং ২০২৪ সালে ৫৮টি সাইকেল চুরি হয়। তবে ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০৭টিতে। আর চলতি বছরের জুন পর্যন্ত চুরি হয়েছে আরো ৩৮টি সাইকেল।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চোররা শিক্ষার্থীদের ছদ্মবেশে মাস্ক ও টুপি পরে শিকল কেটে সাইকেল নিয়ে চম্পট দেয়। চুরির পর তাৎক্ষণিকভাবে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ না করায় অপরাধীদের শনাক্ত করার সুযোগ নষ্ট হয়ে যায়। যাতায়াত ও টিউশনির কাজে ব্যবহৃত মূল বাহনটি হারিয়ে অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
এ বিষয়ে বিজয় একাত্তর হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. স ম আলী রেজা জানান, ছদ্মবেশে হলে প্রবেশ করায় সিসিটিভি থাকলেও চোর শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রক্টর অধ্যাপক মো: ইসরাফিল রতন বলেন, অভিযোগ পেলে পুলিশকে তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু মুখ স্পষ্ট না থাকায় পুলিশি তদন্তে ধীরগতি আসে। শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়। তবে কতটি সাইকেল উদ্ধার হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দিতে পারেননি।
শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের প্রবেশপথে কঠোর নজরদারি, বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন।



