আ. ফ. ম নুরুল কাদের, কুষ্টিয়া
দেশের অন্যতম বৃহৎ গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে এক হাজার ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনের আট মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। প্রকল্পের আওতায় অচল দু’টি প্রধান পাম্প পুনর্বাসনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১৬ কোটি টাকা। কিন্তু দরপত্র প্রক্রিয়াই শুরু না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
এ দিকে জিকে পাম্প হাউসের তিনটি প্রধান পাম্পের মধ্যে দু’টি দীর্ঘদিন ধরে অচল। ফলে সচল একটি পাম্পের ওপর নির্ভর করেই চলছে পানি সরবরাহ। এতে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার ১৩টি উপজেলার কৃষকরা পর্যাপ্ত সেচের পানি পাচ্ছেন না। সময়মতো ফসল রোপণ করতে না পারা, বিকল্প সেচব্যবস্থার কারণে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ফলন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পাম্প পুনর্বাসনের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের আগে পরামর্শক নিয়োগসহ কয়েকটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এসব প্রক্রিয়ায় আরো কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। এরপর আন্তর্জাতিক দরপত্র, মূল্যায়ন, ঠিকাদার নির্বাচন, কার্যাদেশ, পাম্প সরবরাহ ও স্থাপনের প্রক্রিয়া শেষ করে ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে নতুন পাম্প চালু করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
আট মাসেও শুরু হয়নি দরপত্র
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) সূত্রে জানা যায়, ‘জিকে সেচ প্রকল্পের জরুরি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় এক হাজার ২৯৯ কোটি ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা। গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়।
প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো জিকে পাম্প হাউজের দু’টি প্রধান পাম্প পুনর্বাসন। এ খাতে অনুমোদিত ব্যয় ৪১৬ কোটি টাকা। কিন্তু একনেকে অনুমোদনের প্রায় আট মাস পরও সেই কাজের দরপত্র আহ্বান করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের আগে পরামর্শক নিয়োগ করতে হবে। পরামর্শক নিয়োগ ও তাদের প্রতিবেদন চূড়ান্ত করতে আরো দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে। এরপর আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান, দরপত্র মূল্যায়ন, ঠিকাদার নির্বাচন ও কার্যাদেশ দিতে আরো পাঁচ থেকে ছয় মাস সময় প্রয়োজন হতে পারে।
অর্থাৎ শুধু দরপত্র ও ঠিকাদার নির্বাচন প্রক্রিয়াতেই আরো কয়েক মাস চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরপর পাম্প সরবরাহ ও স্থাপনের বিষয়টি রয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে বাজেট প্রাপ্তি সাপেক্ষে ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে নতুন পাম্প চালু করার আশা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
দুই পাম্প অচল, একটিতে পানি উত্তোলন
ভেড়ামারায় পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত জিকে পাম্প হাউজে রয়েছে তিনটি প্রধান পাম্প। এর মধ্যে ২ নম্বর পাম্পটি ২০২১ সালের ২১ মে থেকে সম্পূর্ণ অচল। প্রায় চার মাস ধরে ৩ নম্বর পাম্পটিও অকার্যকর হয়ে আছে। ফলে ১ নম্বর পাম্প দিয়েই বর্তমানে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
জিকে পাম্প হাউজের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, তিনটি প্রধান পাম্পের দু’টি বিকল থাকায় একটি পাম্পের ওপর নির্ভর করেই সেচ কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ৩০০ কিউসেক পানি উত্তোলন করে সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নতুন পাম্প স্থাপনের লক্ষ্যে একনেকে প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পানি উত্তোলনের সক্ষমতা বাড়বে এবং জিকে সেচ প্রকল্প তার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সক্ষম হবে।
প্রকল্পের পরিধি কমেছে, সেচ সুবিধাও সঙ্কুচিত
জিকে সেচ প্রকল্পের আওতায় একসময় প্রায় এক লাখ ৯৭ হাজার হেক্টর জমি ছিল। সেচযোগ্য জমির পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৫ হাজার ৫০ হেক্টর। কিন্তু কয়েক দশকে বিভিন্ন খাল ও অবকাঠামোয় পলি জমা, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি এবং অন্যান্য কারণে কার্যকর সেচ এলাকা অনেক কমে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রায় ৫৫ হাজার হেক্টর জমি প্রকল্পের কার্যকর সেচ এলাকার আওতায় রয়েছে। তবে কাগজে-কলমে বর্তমানে প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে জিকে সেচের পানি সরবরাহের তথ্য পাওয়া যায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, কুষ্টিয়ার উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. শওকত হোসেন ভূঁইয়া জানান, কুষ্টিয়ার ছয়টি উপজেলার ৩৫ হাজার ৬০৫ হেক্টর জমি জিকে সেচের আওতায় রয়েছে। এর সুবিধাভোগী কৃষকের সংখ্যা ৫২ হাজারের বেশি।
তিনি বলেন, খরিফ-১ মৌসুমে জিকে সেচের পানি ব্যবহার করে কৃষকরা রবি মৌসুমে বোরো ধান, সবজি, গম ও ভুট্টা উৎপাদন করেন। খরিফ-২ মৌসুমে আমন ধানেও সেচের পানি ব্যবহার করা হয়। ফলে এ প্রকল্পের সেচ সুবিধা কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এক পাম্পের ওপর নির্ভরতায় কৃষকের ভোগান্তি
মিরপুর উপজেলার কলাবাড়ি গ্রামের কৃষক শুকুর আলী, মোমিনুর রহমান ও আতিয়ার জানান, বিভিন্ন সময়ে পাম্প বিকল হওয়ায় সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় পানি সরবরাহ বন্ধ থাকে অথবা পানির প্রবাহ প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকে।
তারা বলেন, সময়মতো পানি না পাওয়ায় ফসল রোপণ পিছিয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে কৃষককে বিকল্প সেচব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। দ্রুত পাম্প মেরামত করে সেচের পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কৃষকদের আশঙ্কা, সেচব্যবস্থার এই দুর্বলতা দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু একটি মৌসুম নয়, পরপর কয়েকটি মৌসুমে কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
১,৩০০ কোটি টাকার প্রকল্পে যা রয়েছে
একনেকে অনুমোদিত এক হাজার ২৯৯ কোটি ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার প্রকল্পে জিকে সেচ ব্যবস্থার বিভিন্ন অবকাঠামো পুনর্বাসন ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মধ্যে প্রধান দু’টি পাম্প মেশিন পুনর্বাসনে ৪১৬ কোটি টাকা, একটি সাবসিডিয়ারি পাম্প হাউস নির্মাণে ১০৯ কোটি টাকা এবং সাবসিডিয়ারি পাম্পের মোটরসেট সরবরাহ ও স্থাপনে ২৫৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
এ ছাড়া সাবসিডিয়ারি পাম্প হাউজের উৎসমুখ থেকে প্রধান সংযোগ খাল পুনঃখনন ও পাঁচ কিলোমিটার লাইনিং কাজে ৩০ কোটি ৩৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা এবং প্রধান সড়ক থেকে সাবসিডিয়ারি পাম্প হাউজ পর্যন্ত ১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণে ১৫ কোটি ৬০ লাখ ৭৯ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
জিকে ১৩২/৫.৫ কেভি বৈদ্যুতিক পুনর্বাসনে ৩৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা, পাম্প স্টেশনে অগ্নিনির্বাপক ও স্মোক ডিটেক্টর সরবরাহ ও স্থাপনে এক কোটি ৯৮ লাখ টাকা, সেচখাল-সংক্রান্ত পূর্তকাজে ২৭৭ কোটি ৩৯ লাখ ৯১ হাজার টাকা এবং সেচ অবকাঠামো মেরামত ও সংরক্ষণে ১৩৮ কোটি ৩৭ লাখ ৫৭ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া সম্পদ সংগ্রহ, যানবাহন ও সরঞ্জামাদি বাবদ দুই কোটি ৭৫ লাখ ১০ হাজার টাকা, যানবাহন ও ভবন মেরামত ও সংরক্ষণে ১১ কোটি ৯ লাখ ৫৭ হাজার টাকা এবং সরবরাহ ও সেবা খাতে তিন কোটি ৯৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা রাখা হয়েছে। ফিজিক্যাল ও প্রাইস কনটিনজেন্সি বাবদ রাখা হয়েছে এক কোটি টাকা।
প্রকল্পের ইতিহাসও দীর্ঘ : জিকে সেচ প্রকল্পের প্রাথমিক জরিপ হয় ১৯৫১ সালে। এরপর ১৯৫৪ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প অনুমোদন করে। ১৯৫৪-৫৫ অর্থবছরে এর বাস্তবায়ন শুরু হয়।
১৯৬২-৬৩ মৌসুমে প্রকল্প এলাকার কিছু অংশে উন্নত জাতের ধান চাষ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম নেয়া হয়। ১৯৮৪ সালে শুরু হওয়া বড় ধরনের সংস্কারকাজ ১৯৯৩ সালে শেষ হয়। এরপর এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে জিকে সেচ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করে।
তবে ফারাক্কার প্রভাবে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানির স্তর কমে গেলে একাধিকবার পানি উত্তোলন ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণ ঘাটতি, পলি জমা ও যন্ত্রপাতি পুরনো হয়ে যাওয়ার কারণে প্রকল্পের সক্ষমতা ধীরে ধীরে কমেছে।
সংসদে বিষয়টি তোলার আশ্বাস : কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর বলেন, একটি বৃহৎ সেচ প্রকল্পের প্রধান পাম্পগুলো দীর্ঘ সময় অকার্যকর থাকলে একাধিক মৌসুমের কৃষি উৎপাদন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে বোরো ও আমন মৌসুমে পর্যাপ্ত সেচ নিশ্চিত করা না গেলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়।
তিনি বলেন, জিকে সেচ প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। একনেকে প্রকল্প অনুমোদনের পরও যদি পাম্প পুনর্বাসনের কাজ শুরু হতে দীর্ঘ সময় লাগে, তাহলে আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রকল্পটির সেচ সক্ষমতায় ফিরে আসা কঠিন হতে পারে।
‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতা’ এড়িয়ে দ্রুত প্রকল্পের বাজেট ছাড় ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরুর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি জাতীয় সংসদেও বিষয়টি তুলে ধরে দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন।
২০২৯ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা? জিকে সেচ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহিদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনটি পাম্পের একটি বিকল ছিল। প্রায় চার মাস আগে আরেকটি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে শুধু ১ নম্বর পাম্প দিয়ে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রকল্পটি গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। দু’টি প্রধান পাম্প পুনর্বাসনে ৪১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বর্তমানে পরামর্শক নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
তার হিসাব অনুযায়ী, পরামর্শক নিয়োগ ও প্রতিবেদন চূড়ান্ত করতে দুই থেকে তিন মাস, এরপর আন্তর্জাতিক দরপত্র, মূল্যায়ন, ঠিকাদার নির্বাচন ও কার্যাদেশ দিতে আরো পাঁচ থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে। সব প্রক্রিয়া শেষে পাম্প সরবরাহ ও স্থাপন করে বাজেট পাওয়া সাপেক্ষে ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে নতুন পাম্প চালু করা সম্ভব হবে।
কৃষকের প্রশ্ন-অনুমোদনের পরও এত দেরি কেন? প্রকল্প অনুমোদনের আট মাস পরও দরপত্র আহ্বান না হওয়ায় এখন মূল প্রশ্ন উঠেছে- প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে কি না।
বিশেষ করে যে প্রকল্পের সবচেয়ে জরুরি অংশ দু’টি প্রধান পাম্প পুনর্বাসন, সেই কাজেই যদি আরো কয়েক মাস প্রাথমিক প্রক্রিয়ায় চলে যায়, তাহলে পাম্প স্থাপন ও পূর্ণাঙ্গ সেচব্যবস্থা চালু করতে দীর্ঘ সময় লাগার আশঙ্কা রয়েছে।
এতে সরকারের কল্যাণমুখী উদ্যোগের সুফল পেতে কৃষকদের আরো অপেক্ষা করতে হতে পারে। একই সাথে প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় বাড়লে নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রপাতির মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনুমোদিত ব্যয়ও ভবিষ্যতে বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সময়ে জিকে সেচ প্রকল্পের পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে। সচল একমাত্র পাম্পটির বিকল্প ব্যবস্থা, অস্থায়ী মেরামত এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজর না দিলে চলতি ও আগামী সেচ মৌসুমে কৃষকরা আরো বড় সঙ্কটে পড়তে পারেন। কৃষি ও সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের প্রত্যাশা- প্রকল্প অনুমোদনের পর ফাইলনির্ভর কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা না করে দ্রুত দরপত্র আহ্বান, ঠিকাদার নিয়োগ ও বাস্তবায়ন শুরু করা হবে। কারণ জিকে সেচ প্রকল্প শুধু একটি অবকাঠামো নয়; চার জেলার কৃষি উৎপাদন ও লাখো মানুষের জীবন-জীবিকার সাথে এর ভবিষ্যৎ সরাসরি যুক্ত।



