চট্টগ্রামে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সম্মেলন

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে : অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি

Printed Edition
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরের ইউনিট প্রতিনিধি সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান : নয়া দিগন্ত
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরের ইউনিট প্রতিনিধি সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান : নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি বলেছেন, জনগণের ভোটাধিকার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত শ্রমিক জনতা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। সরকার জনগণের রায়কে সম্মান না করলে দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলমান থাকবে।

গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে নগরের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ইউনিট প্রতিনিধি সম্মেলন ২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ফেডারেশনের মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহাজাহান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, নগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মজিবুর রহমান ভূঁঁইয়া ও মুহাম্মদ ইসহাক, নগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস ও অধ্যক্ষ খায়রুল বাশার।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, দেশের কল্যাণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর বিধান ও ইসলামী আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই। মানব রচিত মতবাদ দিয়ে জনগণের প্রকৃত মুক্তি ও শান্তি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, দেশের শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সংগঠিত শক্তি গড়ে তুলতে হবে। ইসলামের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়ে আদর্শিক ও নৈতিক নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। তিনি দাবি করেন, শ্রমিকদের সমর্থন ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেটকে আরো জনবান্ধব ও শ্রমিকবান্ধব করা প্রয়োজন। বেকারত্ব দূরীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। তবে সরকারের যেকোনো ভালো উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভালো কাজের প্রশংসা এবং ভুল সিদ্ধান্তের সমালোচনা দু’টিই জামায়াতে ইসলামীর নীতিগত অবস্থান। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সরকার ও বিরোধী পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মাওলানা মুহাম্মদ শাহাজাহান শ্রমিক সমাজকে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সৎ, দক্ষ ও আদর্শিক নেতৃত্ব তৈরির মাধ্যমেই শ্রমিক সমাজের কল্যাণ এবং কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে শ্রমিক ময়দানে কর্মরত সব নেতাকর্মীকে আত্মশুদ্ধি ও আত্মগঠনের ধারাবাহিক চর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শ্রমজীবী মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং শতাধিক শ্রমিকের আত্মত্যাগের পরও রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে শ্রমিকদের স্বার্থ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই সনদে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রাখা হয়নি। একই সাথে শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোও প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল জাতীয় বাজেটের ০.০৬ শতাংশ, যা বর্তমানে ০.০৪ শতাংশে নেমে এসেছে। দেশের শ্রমিকদের কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য জাতীয় বাজেটের অন্তত ১০ শতাংশ বরাদ্দ রাখার দাবি জানান তিনি।

মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি ভোটের পূর্বে দেশে মদিনার শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছিল। আমরা সেই কথা তাদেরকে স্মরণ করে দিতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রকারী আপনাকে কুমন্ত্রণা দিচ্ছে। তাদের কথায় চললে আপনি বিভ্রান্ত হবেন। ভুলভাল বলবেন। নিজের মর্যাদা হানি করবেন। দেশ ও জনগণকে লজ্জিত করবেন। আমরা এইরকম অবস্থা চাই না। আপনি ১৮ কোটি মানুষের প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের পরিপূর্ণ সীমার প্রধানমন্ত্রী। কাজেই বাংলাদেশের সব মানুষের মর্যাদা, দেশের মর্যাদা রক্ষা করা হচ্ছে আপনার দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে শুরু করে সর্বত্র আবার ফ্যাসিবাদের দোসরদেরকে প্রতিষ্ঠা করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। সে বিষয়েও আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে প্রতিটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

নগর সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরীর সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন নগর ফেডারেশনের সহসভাপতি নজির হোসেন ও মকবুল আহমেদ ভূঁঁইয়া।