মুহাম্মদ তাজকীর হোসাইন পার্বতীপুর (দিনাজপুর)
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় ধান ক্রয়-বিক্রয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় ধান ব্যবসায়ী ও ফড়িয়ারা প্রতিমণ ধান কেনার সময় মাপজোখে কারসাজি করে প্রতি বস্তায় দুই থেকে আড়াই কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান আদায় করছেন। এতে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ধান হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে দাবি কৃষকদের।
সরেজমিনে জানা গেছে, পার্বতীপুরে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে ৯০ শতাংশ জমিতে আমন মৌসুমে সুগন্ধি জিরা ধানের চাষ হয়। বাজারে এ ধানের চাহিদা ও দাম বেশি হওয়ায় কৃষকরা মূলত এ ধানই আবাদ করেন। তবে মৌসুম এলেই ফড়িয়া ও আড়ৎদারদের দৌরাত্ম্যে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার বিভিন্ন হাট ও বাজারে প্রায় ৫০-৫৫টি আড়তে প্রতিদিন গড়ে ৩০ হাজার মণ বা প্রায় ১৫ হাজার বস্তা ধান কেনাবেচা হয়। নিয়ম অনুযায়ী ৭৫ কেজি ধানকে এক বস্তা বা দুই মণ ধরা হলেও বাস্তবে অনেক ব্যবসায়ী সাড়ে ৭৭ কেজি পর্যন্ত ধান আদায় করছেন। কেউ কম দিলে ধান কিনতে অস্বীকৃতি জানানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে বাধ্য হয়েই কৃষকরা অতিরিক্ত ধান দিয়ে বিক্রি করছেন।
কৃষকদের হিসাবে, প্রতি বস্তায় গড়ে দুই কেজি অতিরিক্ত ধান নেয়া হলে দৈনিক প্রায় ৩০ হাজার কেজি ধান অতিরিক্ত আদায় হচ্ছে। বর্তমান বাজারদরে প্রতি সের ধানের দাম প্রায় ৭০ টাকা হিসেবে এর আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় তিন লাখ ১৫ হাজার টাকা। এতে অল্প সময়েই অনেক ব্যবসায়ী বিপুল অর্থের মালিক হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
চকমুশা গ্রামের কৃষক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘এক আড়তে ধান বিক্রি করতে গিয়ে অতিরিক্ত ধান দিতে রাজি না হওয়ায় আমার ধান নেয়নি। পরে অন্য আড়তে গিয়ে বাধ্য হয়ে বেশি দিয়ে বিক্রি করতে হয়েছে।’ মোস্তফাপুর ইউনিয়নের খিয়ারপাড়া গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান ও গৌতম চন্দ্র রায়, পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ধোবাকল গ্রামের অহিদুল হকসহ একাধিক কৃষক একই অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে পার্বতীপুর উপজেলা ধান ক্রয়-বিক্রয় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রতি বস্তায় দুই কেজি ধান নিই না। বস্তার ওজন সমন্ব^য়ের জন্য সর্বোচ্চ এক কেজির মতো অতিরিক্ত নেয়া হয়।’ তবে কৃষকরা এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, বাস্তবে আড়তে আড়তে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি ধান আদায় করা হচ্ছে।
কৃষকরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিয়মিত বাজার তদারকির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সঠিক ওজন নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবে এবং অনিয়ম বন্ধ হবে।



