৯ কোটি টাকার কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল ৬ বছর ধরে তালাবদ্ধ, নষ্ট হচ্ছে সরঞ্জাম

Printed Edition

আব্দুল মোমেন নালিতাবাড়ী (শেরপুর)

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা শহরের আমবাগান এলাকায় প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল কাম ট্রেনিং সেন্টারটি সাড়ে ছয় বছর ধরে তালাবদ্ধ পড়ে আছে। একসময় যেখানে নারীদের পদচারণায় মুখর ছিল ছয়তলা ভবনটি, এখন সেখানে ধুলাবালি, জীর্ণতা আর নীরবতা।

২০১২ সালে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে মহিলা অধিদফতরের আওতায় ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৫ সালে নির্মাণ শেষ হওয়ার পর কর্মজীবী নারীদের আবাসন নিশ্চিত করা এবং স্বল্পশিতি ও পিছিয়ে পড়া নারীদের দতা উন্নয়নের ল্েয চার বছর মেয়াদি একটি প্রকল্পের মাধ্যমে এর কার্যক্রম চালু হয়।

প্রকল্পের আওতায় নার্সারি ও হর্টিকালচার, কৃষিযন্ত্র মেরামত, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ইলেকট্রনিকস অ্যাসেম্বলিং টেকনিশিয়ান, ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেলাই অপারেটর এবং ইলেকট্রিশিয়ান ও হাউস ওয়্যারিং এই ছয়টি ট্রেডে প্রশিণ দেয়া হতো। প্রতিটি তিন মাস মেয়াদি কোর্সে ১০ জন করে প্রশিণার্থী অংশ নিতেন। পাশাপাশি কম্পিউটার ও বিউটিফিকেশন নামে আরো দু’টি ট্রেডের জন্য যন্ত্রপাতি কেনা হলেও প্রশিক নিয়োগ না থাকায় সেগুলো চালু করা যায়নি। কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদকালে মোট এক হাজার ২০ জন নারী প্রশিণ নেন। তাঁদের অনেকেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি পান বা স্বনির্ভর উদ্যোগ শুরু করেন। তবে ২০১৯ সালের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন কোনো প্রকল্প অনুমোদন না পাওয়ায় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। নিয়োগপ্রাপ্ত উপপরিচালককে অন্যত্র বদলি করা হয় এবং প্রকল্পভিত্তিক ১৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরিও শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে ভবনটি তালাবদ্ধ। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ও আসবাব নষ্ট হওয়ার মুখে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন ট্রেডের জন্য কেনা যন্ত্রাংশে ধুলা জমেছে, কোথাও কোথাও মরিচা ধরছে। কয়েকটি করে জানালা খোলা থাকায় ভেতরে কবুতর ও চড়–ই পাখির বাসা। আবাসিক করে খাট, বিছানাপত্র ও ফার্নিচার অযতেœ পড়ে আছে। ভবনের ভেতরে-বাইরে স্যাঁতসেঁতে ভাব দেখা দিয়েছে। কিছু দেয়ালে ড্যাম্পের চিহ্ন স্পষ্ট।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক সামেদুল ইসলাম তালুকদার বলেন, এত বড় একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকায় ভেতরে সাপ-বিচ্ছু ঢুকে পড়েছে। দ্রুত চালু করলে এলাকার নারীরা উপকৃত হতেন। তার মতে, সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামো এভাবে অব্যবহৃত রাখা অপচয়ের শামিল। নালিতাবাড়ী উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন কোনো অনুমোদন না থাকায় কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ভবনটি রণাবেণের জন্য স্থায়ী জনবলও নেই। ইউএনও রিজওয়ানা আফরিন বলেন, প্রশিণ কেন্দ্রটি আবার চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে সাথে আলোচনা হয়েছে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।