সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে পড়া ২১ জনকে ফেরত নিয়েছে ভারত

ব্যারিস্টার আরমানের চিঠির জবাবে জাতিসঙ্ঘ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শূন্যরেখায় কিছুদিন ধরে আটকে পড়া নারী ও শিশুসহ ২১ জন ব্যক্তিকে শেষ পর্যন্ত ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ফেরত নিয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানের পাঠানো এক চিঠির আনুষ্ঠানিক জবাবে এই স্বস্তিদায়ক তথ্য জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ।

গতকাল বুধবার জাতিসঙ্ঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াক এই জবাবপত্র পাঠান। পত্রের একটি অনুলিপি আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত মিশনপ্রধান ক্যাথরিন নর্থিংকেও দেয়া হয়েছে।

জাতিসঙ্ঘ তাদের পত্রে জানায়, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তে আটকে পড়া বিপন্ন ২১ জন মানুষকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ফেরত নেয়ার বিষয়টি একটি ইতিবাচক ও স্বস্তিদায়ক অগ্রগতি। তবে জাতিসঙ্ঘ সীমান্তের সামগ্রিক ঘটনাবলি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মানবিক ও সুরক্ষাগত পরিণতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সংস্থাটি স্পষ্ট করে বলেছে, অভিবাসীদের আইনি পরিচয় যা-ই হোক না কেন, তাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও মৌলিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকার।

জবাবপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশই ‘নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন সংক্রান্ত বৈশ্বিক চুক্তির (জিসিএম) স্বাক্ষরকারী। ফলে অভিবাসন-ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার এবং বিপন্ন মানুষের অধিকার রক্ষায় উভয় দেশই অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রয়োজনে সরকারের অনুরোধের ভিত্তিতে আইওএমের মাধ্যমে তথ্য বিনিময়, পর্যবেক্ষণ ও সহায়তা দিতে জাতিসঙ্ঘ প্রস্তুত রয়েছে।

জাতিসঙ্ঘের এই দ্রুত ও নীতিনিষ্ঠ সাড়াকে স্বাগত জানিয়ে ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম এক বিবৃতিতে বলেন, “আটকে পড়া মানুষগুলোকে ফেরত নেয়ার খবরটি ইতিবাচক। এটি প্রমাণ করে, মানবিক সঙ্কটে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করা সার্থক হয়েছে। তবে এই স্বস্তি যেন আমাদের আত্মতুষ্ট না করে; সীমান্ত হত্যা এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ ‘পুশইন’ সম্পূর্ণ বেআইনি ও অগ্রহণযোগ্য।”

তিনি আরো যোগ করেন, কারো নাগরিকত্ব বা বৈধতা যাচাইয়ের প্রশ্ন থাকলে তা প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া মেনেই নিষ্পত্তি হতে হবে, পুশইনের মাধ্যমে নয়। দেশের মূল বিরোধী দল হিসেবে সীমান্তে ভুক্তভোগী মানুষের পাশে থাকা এবং প্রতিটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই বিষয়গুলো তুলে ধরা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, সীমান্তে আটকে পড়া এই মানুষদের জীবনরক্ষা ও মৌলিক প্রয়োজন নিশ্চিত করার জরুরি তাগিদ দিয়ে গত ৭ জুন জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ও আইওএমের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম।