জনবল সঙ্কটে বেনাপোল বন্দর ব্যাহত আমদানি-রফতানি

বন্দরের কার্যক্রমে ধীরগতি তৈরি হলে এর প্রভাব পড়ে শিল্প ও বাজারব্যবস্থায়

Printed Edition

রাশেদুর রহমান রাশু বেনাপোল (যশোর)

দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর বেনাপোলে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সঙ্কট চলছে। প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় আমদানি-রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীরা। বন্দরটির ৭৯টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে পর্যাপ্ত কর্মকর্তা না থাকায় কর্মরর্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ বাড়ছে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক বদলি হয়েছেন। এখনো তার স্থলে নতুন কাউকে পদায়ন করা হয়নি। ফলে বন্দরের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও শূন্যতা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত পরিচালক পদায়ন না হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে জটিলতা আরো বাড়বে।

ভারতের সাথে স্থলপথে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বেনাপোলের গুরুত্ব অনেক বেশি। কলকাতার সাথে তুলনামূলক কম দূরত্বের কারণে ভারত থেকে আমদানি করা বিপুল পরিমাণ পণ্য এ বন্দর দিয়েই আসে। শিল্পকারখানার কাঁচামাল, তৈরী পোশাকশিল্পের বিভিন্ন উপকরণসহ নানা পণ্য আমদানিতে ব্যবসায়ীরা এ বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বন্দরের কার্যক্রমে ধীরগতি তৈরি হলে এর প্রভাব পড়ে শিল্প ও বাজারব্যবস্থায়।

জনবল সঙ্কটের চিত্র সবচেয়ে প্রকট ডেপুটি পরিচালকের পদে। বন্দরে এ পদের অনুমোদিত সংখ্যা চারটি হলেও দীর্ঘদিন ধরে মাত্র একজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। বিপরীতে ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে একই পদে অনুমোদিত চারজনের বিপরীতে সাতজন কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, প্রধান কার্যালয়ে অতিরিক্ত কর্মকর্তা থাকলেও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে কেন পদগুলো শূন্য থাকবে।

এ ছাড়া বেনাপোল বন্দরে ওয়ারহাউজ সুপারিনটেনডেন্টসহ বিভিন্ন কর্মচারীর অনুমোদিত পদ ২১৬টি। এর বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৪১ জন। ফলে একজন কর্মকর্তাকে একাধিক শেড বা স্থানের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে পণ্য ওঠানো-নামানো ও খালাসের কাজে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

বেনাপোল আমদানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সময়মতো পণ্য লোড-আনলোড করা যাচ্ছে না। একজন ওয়ারহাউজ সুপারিনটেনডেন্টকে একাধিক স্থানে দায়িত্ব দেয়ায় প্রয়োজনের সময় তাকে পাওয়া যায় না। ফলে এক দিনের কাজ কখনো দুই দিনেও শেষ হচ্ছে।

তিনি বলেন, পণ্য খালাসে বিলম্ব হলে ট্রাক আটকে থাকে। এতে আমদানিকারকদের প্রতিদিন অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পণ্যের দামের ওপর পড়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কয়েকজন ডেপুটি পরিচালককে প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন বন্দরে পদায়ন করা হলে জনবল সঙ্কট কিছুটা কমানো সম্ভব।

বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মানজারুল মান্নান বেনাপোল বন্দরের জনবল সঙ্কটের কথা স্বীকার করে বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বেনাপোলে একজন পরিচালক পদায়নসহ অন্যান্য জনবল সঙ্কট সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।