ছাগলনাইয়া-পরশুরাম (ফেনী) সংবাদদাতা
ফেনীর ছাগলনাইয়ায় ফেনী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন মোহনা টেলিভিশনের প্রতিনিধি এম নিজাম উদ্দিন সজিব। এ ঘটনায় দায়ীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফেনীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন জেলার সাংবাদিকরা। একই সাথে ইজারাবিহীন ফেনী নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।
পুলিশ জানায়, হামলার ঘটনায় করা মামলায় এ পর্যন্ত ইমাম হোসেন ও মো: ইউনুছ নামে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের জগন্নাথসোনাপুর এলাকায় ফেনী নদীর তীরে যান সাংবাদিক সজিব। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তির সহায়তায় তাকে নদীতীরের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হেলমেট ও মুখোশ পরা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। তাকে মারধর করে নদীতে ফেলে দেয়া এবং অস্ত্র প্রদর্শন করে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। স্থানীয় লোকজন পরে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ইমরান সিকদার ও ওসমান গণীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে আসামি করে ছাগলনাইয়া থানায় মামলা করেন আহত সাংবাদিক সজিব।
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আবু তাহের বলেন, হামলার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ দিকে শুক্রবার ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক সজিবকে দেখতে যান ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু। তিনি বলেন, ফেনী নদীর বালুমহালের কোনো অংশ বর্তমানে ইজারা দেয়া হয়নি। তাই অবৈধভাবে কেউ বালু উত্তোলন করলে প্রশাসনকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে চট্টগ্রামের মিরসরাই অংশেও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত কয়েক বছর ধরে ফেনী নদীর ছোট-বড় অর্ধশতাধিক বালুমহাল সরকার ইজারা না দিলেও একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে নদীভাঙন তীব্র হচ্ছে, বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও কৃষিজমি এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অতীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে অবৈধ বালু উত্তোলন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দৃশ্যমান অভিযান কমে যাওয়ায় বালু উত্তোলন আবার বেড়েছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।



