জুলাই আন্দোলনে চোখ হারিয়ে কষ্টের জীবন বাবুর

উন্নত চিকিৎসার অপেক্ষায় পরিবার

Printed Edition
জুলাই আন্দোলনে চোখ হারিয়ে কষ্টের জীবন বাবুর
জুলাই আন্দোলনে চোখ হারিয়ে কষ্টের জীবন বাবুর

মো. সাজ্জাতুল ইসলাম ময়মনসিংহ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন আব্দুল্লাহ বাবু। অন্য চোখের দৃষ্টিও ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। উন্নত চিকিৎসার অভাবে বর্তমানে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। উপার্জনের সক্ষমতা হারানোয় পরিবারও পড়েছে চরম আর্থিক সঙ্কটে।

আব্দুল্লাহ বাবুর বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের কলতাপাড়া গ্রামে। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়ে তার সংসার। পেশায় চালক বাবুই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুমার নামাজের পর রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর গোলাপবাগ এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি মিছিলে অংশ নেন তিনি। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছোড়া রাবার বুলেটে তার চোখ, মুখ ও নাক গুরুতরভাবে আহত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তার বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করতে পারেননি। বর্তমানে ডান চোখের দৃষ্টিশক্তিও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

আন্দোলনের পর থেকে তিনি আর আগের মতো কাজ করতে পারছেন না। ফলে সংসারে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা। ছেলের চিকিৎসা ও পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করতে ৬৫ বছর বয়সে আবারো গাড়ির স্টিয়ারিং হাতে নিয়েছেন তার বাবা আব্দুল বারেক। বয়স ও শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও পরিবারের দায়িত্ব পালনে তিনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

পরিবার জানায়, এ পর্যন্ত কিছু আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আব্দুল্লাহ বাবু বলেন, ‘এক চোখ হারিয়েছি, অন্য চোখেও ঝাপসা দেখি। তারপরও কোনো অনুতাপ নেই। ঝাপসা চোখেই স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতন দেখেছি। দেশের জন্য যে স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে নেমেছিলাম, সেই স্বপ্নের জন্য প্রয়োজন হলে আরো বড় ত্যাগও স্বীকার করতাম।’

স্বজনদের দাবি, বাবুর উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলে তার অবশিষ্ট দৃষ্টিশক্তি রক্ষার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।