ক্রীড়া প্রতিবেদক
মিরপুরের গ্যালারিতে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে সিরিজে গতকাল দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সাম্প্রতিক সময়ে নিউজিল্যান্ড সিরিজের ম্যাচগুলোতে যে পরিমাণ দর্শক দেখা গিয়েছিল, তার চেয়ে সংখ্যাটা কিছুটা বেশিই ছিল। সকাল থেকেই স্টেডিয়ামের বিভিন্ন প্রবেশপথে ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের আনাগোনা। বিকেলের দিকে সেই ভিড় আরো বেড়েছে। নতুন বোর্ড সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল বড় কোনো ম্যাচকে ঘিরে প্রথম উল্লেখযোগ্য দর্শক সমাগম। প্রশ্ন উঠতেই পারে, এটি কি তামিম ইকবালের নেতৃত্বে নতুন যুগের প্রতি সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ?
গ্যালারিতে ঘুরে পাওয়া প্রতিক্রিয়া অবশ্য বলছে ভিন্ন কথা। দর্শকদের বড় একটি অংশ বোর্ডের নেতৃত্ব পরিবর্তনের চেয়ে মাঠের ক্রিকেট নিয়েই বেশি আগ্রহী। তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে খেলা, ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স এবং সহজে টিকিট পাওয়া।
ঢাকার বাইরে থেকে আসা ক্রিকেটপ্রেমীরা এবং সাভার থেকে আসা টিপু সুলতানরা বলছিলেন, ‘জ্যামের মাঝে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে আমরা স্টেডিয়ামে আসি বোর্ড সভাপতির চেহারা দেখতে নয়। আসি ক্রিকেটারদের খেলা দেখতে, প্রিয় খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে। ভালো খেললে হাততালি দেবো, খারাপ খেললে সমালোচনাও করব। তবে বোর্ডের কাছে একটা অনুরোধ থাকবে টিকিটের দাম যেন সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে।’
টিপুর কথায় ফুটে উঠেছে গ্যালারির সাধারণ দর্শকদের মনোভাব। ক্রিকেট প্রশাসনের অন্দরমহলের ক্ষমতার সমীকরণ নয়, তাদের কাছে মূল আকর্ষণ বাইশ গজের লড়াই। কে সভাপতি, কে পরিচালক এসব নিয়ে খুব বেশি মাথাব্যথা নেই। তবে সিদ্ধান্তগুলো যেন ক্রিকেটবান্ধব হয়- সেই প্রত্যাশা রয়েছে।
একই সুর শোনা গেল স্টেডিয়ামের আশপাশে ব্যবসা করা আবদুল মজিদ, কাওসার, রুনেলের কণ্ঠেও। প্রায় দেড় দশক ধরে ম্যাচকে কেন্দ্র করে পতাকা ও জার্সি বিক্রি করছেন। ‘মাঝে আমাদের অনেক লস হয়েছে। খেলা না থাকলে ব্যবসাও থাকে না। এখানে ১৫ বছর ধরে আছি। খেলা হলে ভালো আয় হয়। অন্য জায়গায় ব্যবসা করতে গেলে নানা ঝামেলা থাকে; কিন্তু এখানে সেগুলো নেই। বছরজুড়ে খেলা থাকলে আমাদের কাছে প্রতিদিনই ঈদের মতো মনে হয়।
তবে সবাই যে একইভাবে বিষয়টিকে দেখছেন, তা নয়। মুন্সীগঞ্জ থেকে আসা ক্রিকেটভক্ত হাকিমি নতুন সভাপতি তামিম ইকবালকে ঘিরে আশাবাদী। তার বিশ্বাস, একজন সাবেক সফল ক্রিকেটার হিসেবে তামিম বোর্ড পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবেন। ‘তামিম ভাই ক্রিকেটের সবকিছু বোঝেন। তিনি যেভাবে দেশের হয়ে ওপেন করতেন, দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতেন, আশা করি বোর্ডের কাজেও তেমন নেতৃত্ব দেবেন। তার সময়ে যত খেলা হবে, আমি গ্যালারিতে আসার চেষ্টা করব। শুধু একটা বিষয়, তাকে যেন স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া হয়, বলেন হাকিমি।
দর্শকদের এই মিশ্র প্রতিক্রিয়া আসলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। তামিম ইকবালের নাম ও জনপ্রিয়তা নিঃসন্দেহে আগ্রহ তৈরি করেছে। কিন্তু সেই আগ্রহকে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে হলে প্রয়োজন নিয়মিত আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট, দর্শকবান্ধব টিকিট ব্যবস্থা এবং মাঠমুখী প্রশাসন।
গ্যালারি যেন বোর্ডকে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছে নেতৃত্বের পরিবর্তন ভালো; কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিচার হবে মাঠের ক্রিকেট দিয়েই। কারণ দর্শকদের কাছে সভাপতি নয়, ক্রিকেটই সবচেয়ে বড় তারকা।



