বাংলাদেশের ভিসা কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনছে সরকার

বিদেশীদের বাংলাদেশে প্রবেশ ও অবস্থানের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ভিসা কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার। বিদ্যমান ভিসা নীতিমালা-২০০৬ যুগোপযোগী করে প্রস্তাবিত ‘ভিসা পলিসি-২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন নীতিতে ভিসার শ্রেণী ৩৩টি থেকে বেড়ে ৩৪টি করার পাশাপাশি কয়েকটি পুরনো শ্রেণীকে ভেঙে নতুন ক্যাটাগরি করা হয়েছে। ব্যবসা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, গবেষণা, এনজিও ও মানবিক কার্যক্রমের জন্য পৃথক কাঠামো রাখা হয়েছে। বিদেশী বিনিয়োগ ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করা এবং পর্যটন খাতকে উৎসাহিত করা হয়েছে।

শামছুল ইসলাম
Printed Edition

বিদেশীদের বাংলাদেশে প্রবেশ ও অবস্থানের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ভিসা কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার। বিদ্যমান ভিসা নীতিমালা-২০০৬ যুগোপযোগী করে প্রস্তাবিত ‘ভিসা পলিসি-২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন নীতিতে ভিসার শ্রেণী ৩৩টি থেকে বেড়ে ৩৪টি করার পাশাপাশি কয়েকটি পুরনো শ্রেণীকে ভেঙে নতুন ক্যাটাগরি করা হয়েছে। ব্যবসা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, গবেষণা, এনজিও ও মানবিক কার্যক্রমের জন্য পৃথক কাঠামো রাখা হয়েছে। বিদেশী বিনিয়োগ ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করা এবং পর্যটন খাতকে উৎসাহিত করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই বৈঠকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। এ ছাড়া ‘ব্যাংক রেজুলিউশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

নতুন নীতিতে বিদেশী কর্মীদের জন্য বি-১, বি-২ ও বি-৩ তিন ধরনের ভিসা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে বি-১ উন্নয়ন সহযোগীদের জন্য, বি-২ বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের জন্য এবং বি-৩ বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি ব্যক্তিদের জন্য। একই ভাবে তাদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের জন্য জিডিবি-১, জিডিবি-২ ও জিডিবি-৩ শ্রেণী রাখা হয়েছে। এসব ভিসার ক্ষেত্রে কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিটের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

ব্যবসায়িক ভিসা বি-এর ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসছে। প্রস্তাবিত নীতিতে একবারে অবস্থানের সময়সীমা ৯০ দিন এবং বহুভ্রমণ সুবিধাসহ সর্বোচ্চ এক বছরের ভিসার প্রস্তাব করা হয়েছে। ভিসা নবায়নের ক্ষেত্রে তিন বছরের পরিবর্তে দুই বছর মেয়াদি বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। একই সাথে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান নিষিদ্ধ- এ বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। অন্য দিকে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য পিআই (প্রাইভেট ইনভেস্টর) এবং তাদের পরিবারের জন্য এফপিআই শ্রেণী রাখা হয়েছে। শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিদেশী মালিকানায় কিংবা যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগকারীরা এ শ্রেণীর আওতায় আসবেন।

বিদেশী নাগরিকদের জন্য চিকিৎসাসংক্রান্ত যাতায়াত সহজ করতে নতুন করে এমটি (মেডিক্যাল ট্যুরিজম) এবং এমএ (মেডিক্যাল এটেন্ডেন্ট) ভিসা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি টিআর (ট্রানজিট) নামে নতুন ভিসা শ্রেণীও যুক্ত হচ্ছে। বাংলাদেশী নাগরিক ও বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিদেশীদের জন্যও নতুন এফবিএন শ্রেণী রাখা হয়েছে। তৃতীয় প্রজন্ম পর্যন্ত বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিদেশী নাগরিক এবং বাংলাদেশী নাগরিকের পরিবারের সদস্যরা এ শ্রেণীর আওতায় আসবেন।

ধর্মীয় কার্যক্রমের জন্য আরটি (রিলিজিয়াস, তাবলিগ জামায়াত ও ইজতেমা) নামে নতুন ভিসা শ্রেণী রাখা হয়েছে। এটি বিদ্যমান টিআই শ্রেণীর পরিবর্তে প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ধর্মীয় শ্রেণীর ভিসায় কর্মসংস্থান অনুমোদিত হবে না।

এ ছাড়া এনজিও ও মানবিক কার্যক্রমের জন্য জিবি-১ ও জিবি-২ এবং তাদের নির্ভরশীলদের জন্য জিডিজিবি-১ রাখা হয়েছে। জিবি-১ এর আওতায় বাংলাদেশে নিবন্ধিত এনজিওতে কাজ এবং জিবি-২-এর আওতায় জরুরি মানবিক সেবা ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ থাকবে।

নতুন নীতির অন্যতম আলোচিত পরিবর্তন হলো বিদ্যমান ডব্লিউ ক্যাটাগরি বাদ দেয়া। এই শ্রেণীর আওতায় ওয়ার্ক অ্যান্ড হলিডে, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ভলান্টিয়ার্স প্রোগ্রাম এবং জাতীয়, দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় চুক্তির আওতায় আসা ব্যক্তিদের ও তাদের নির্ভরশীলদের ভিসার কথা বিদ্যমান নীতিতে ছিল। প্রস্তাবিত ২০২৬ নীতিতে এ বিষয়ে কোনো উল্লেখ রাখা হয়নি। সাংবাদিকদের জন্য জে এবং তাদের নির্ভরশীলদের জন্য এফজে ভিসা থাকছে। তবে সাংবাদিক ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান কিছু বিধান বাদ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।