টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সংশোধন পুঁজিবাজারে

ব্যাংকিং খাত সাড়া পাচ্ছে না বিনিয়োগকারীদের

Printed Edition

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসেও সংশোধন ঘটেছে পুঁজিবাজারে। গতকাল সোমবার দেশের দুই পুঁজিবাজারই কমবেশি সূচক হারায়। দিনের শুরুতে বাজারে যথেষ্ট গতি থাকলেও সূচকের নেতিবাচক আচরণের ফলে লেনদেনের মাঝামাঝি সময়ে গতি হারাতে থাকে বাজার। এতে ঢাকা শেয়ারবাজারে লেনদেনের কিছুটা অবনতি ঘটে। তবে একই সময় চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে লেনদেনের সামান্য উন্নতি ঘটে। লেনদেন শুরুর প্রথম এক ঘণ্টা দুই পুঁজিবাজারই সূচকের উন্নতি ধরে রাখলেও পরবর্তীতে বিক্রয়চাপের মুখে সূচক হারায় বাজারগুলো।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ঢাকা স্টকে সূচকের ছয় হাজার পয়েন্টের কাছাকাছি এসে কিছুটা মনস্তাত্ত্বিক চাপের মুখে আছে বাজার। ছয় হাজারের মাইলফলক পার হলে নতুন করে গতি পাবে বাজারগুলো। তারা মনে করেন এই সময়টা স্বাভাবিক কারণেই বাজার একটু গতিহীন থাকবে। তারপরও খুব বেশি খারাপ হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি। এর মধ্যে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মুনাফা তুলে নিতে গিয়ে বিক্রয়চাপের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে সংশোধন শেষ করে যথারীতি আবার ঘুরে দাঁড়াবে বাজার। সংশোধনের এই সময়টিতে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে বৈচিত্র্য থাকা দরকার যাতে খাতওয়ারি একং ভালো কোম্পানিতেই নিজেদের বিনিয়োগ নিশ্চিত করা যায়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ১০ দশমিক ০৯ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। পাঁচ হাজার ৮৯৫ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা সূচকটি গতকাল দিনশেষে নেমে আসে পাঁচ হাজার ৮৮৫ দশমিক ৬৯ পয়েন্টে। একই সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ হারায় যথাক্রমে ৯ দশমিক ১৬ ও ৬ দশমিক ১৩ পয়েন্ট। অপর দিকে দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই গতকাল ৩০ দশমিক ২০ পয়েন্ট হারায়। এখানে দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৩৮ দশমিক ২১ ও ১৪ দশমিক ১৬ পয়েন্ট।

সূচকের পাশাপাশি গতকাল ডিএসইর লেনদেনেরও কিছুটা অবনতি ঘটে। বাজারটি গতকাল এক হাজার ২১০ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে যা আগের দিন অপেক্ষা ৪৭ কোটি টাকা কম। রোববার ডিএসইর লেনদেন ছিল এক হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। তবে লেনদেনের কিছুটা উন্নতি ঘটে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে। এখানে ৯ কোটি টাকা থেকে দুই কোটিতে পৌঁছে লেনদেন।

সূচকের সামান্য অবনতি ঘটলেও দিনের বাজার আচরণ নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। তারা মনে করেন, বাজার এখন যে আচরণ করছে তাতে বেশির ভাগ বিনিয়োগকারী স্বল্পসময়ে মুনাফা তুলে নিতে চান। তাই বাজারে দু’দিন সূচক বাড়লেই সংশোধন ঘটছে। এখনো বাজারকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের মতো আস্থায় আনতে পারছেন না অনেকেই। বাজার পুরোপুরি টেকসই অবস্থায় না ফিরলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের দিকে যেতে চায় না কেউ। কিন্তু এর মধ্যেও গত কয়েক মাসে বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশই বাজার থেকে মুনাফা অর্জন করতে পেরেছেন। আর বড় কোনো সমস্যা না আসলে খুব বড় সংশোধন ঘটার কথা নয়। এ আশা নিয়েই তারা বাজারের সাথে আছেন যে, একটা সময় অবশ্যই আসবে যখন এখানে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।

এ দিকে পুঁজিবাজারের সবচেয়ে বড় খাত ব্যাংক এ মুহূর্তে বিনিয়োগকারীদের খুব একটা সাড়া পাচ্ছে না। গত কয়েক দিন বাজারগুলোর লেনদেন ও মূল্যবৃদ্ধিতে এ খাতটির খুব একটা অবদান নেই বললেই চলে। অথচ এক মাস আগেও ব্যাংকিং খাতই সূচকের উত্থান ও পতন নির্ধারণী ভূমিকায় ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা এ মুহূর্তে জুলাই-জুন অর্থবছরের হিসাব নির্ধারিত হওয়া কোম্পানির দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। কারণ সামনেই এসব কোম্পানি বর্ষ সমাপনী আর্থিক প্রতিবেদন ও লভ্যাংশ ঘোষণার সময় আসছে। তাই এগুলোতেই এখন তাদের আগ্রহ বেশি। তবে তারা মনে করেন এ সময়টিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাতই পছন্দের তালিকায় থাকা উচিত। কারণ এখনো এ খাতটির মূল্যস্তর অনেক নিচে। মূল্য-আয় অনুপাতের (পিই) দিক থেকেও এখনো সবার নিচে ব্যাংকিং খাত।

গতকাল ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি ছিল শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ। ৪০ কোটি ৩২ লাখ টাকায় কোম্পানিটির এক কোটি চার লাখ ৮১ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়েছে গতকাল। ৩৬ কোটি ছয় লাখ টাকায় এক কোটি ৩৭ লাখ ৯ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে দিনের দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল ফারইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইং। ডিএসইর লেনদেনে শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে মুন্নু ফ্যাব্রিকস, এসিআই ফরমুলেশন, সামিট অ্যালাইয়েন্স পোর্ট, কুইন সাউথ টেক্সটাইলস, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস, আইপিডিসি, সায়হাম টেক্সটাইলস ও মালেক স্পিনিং।

এদিন ডিএসইর মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড। ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে ফান্ডটির। ৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল আরেকটি ফান্ড আইসিবি সোনালি। মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ দশ সিকিউরিটির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, এসইএম এফবিএসএল ফান্ড, মুন্নু ফ্যাব্রিকস, আইসিবি অগ্রণী, ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ড, আইসিবি এমপ্লয়িজ ফান্ড ও ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।

গতকাল দরপতনে ডিএসইর শীর্ষে ছিল মেট্রো স্পিনিং। কোম্পানিটির ৪ দশমিক ১২ শতাংশ দরপতন ঘটে। ৪ শতাংশ দর হারিয়ে এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সাউথবাংলা অ্যাগ্রিকালচারাল ব্যাংক। দরপতনের ডিএসইর শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, মেঘনা কনডেনন্সড মিল্ক, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ইউসিবি ও সিকদার ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড।