সরকারি জমি দখল করে যুবদল নেতার বাগানবাড়ি

Printed Edition
সরকারি জমিতে নির্মিত হচ্ছে ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুর ও বাগানবাড়ি : নয়া দিগন্ত
সরকারি জমিতে নির্মিত হচ্ছে ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুর ও বাগানবাড়ি : নয়া দিগন্ত

সোহেল মিয়া দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ)

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার একমাত্র পর্যটন এলাকা ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বাঁশতলায় সরকারি খাস জমি দখল করে পুকুর খনন ও বাগানবাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত খোরশেদ আলম বাংলাবাজার ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য এবং উপজেলা যুবদলের সক্রিয় নেতা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী পর্যটন এলাকা বাঁশতলার থাবলী মৌজায় অবস্থিত সরকারি খাস জমির একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভোগদখল করছেন। সেখানে পুকুর, বাগান ও আবাসিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, থাবলী মৌজায় কয়েক শ একর সরকারি খাস জমি রয়েছে। প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতির সুযোগে বিভিন্ন সময়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ভূমিদস্যু চক্র এসব জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, পুকুর খনন, বালু-পাথর উত্তোলনসহ নানা কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি খাস খতিয়ানের ৩৭৪ নম্বর দাগের প্রায় এক একর জমি দখল করে সেখানে দৃষ্টিনন্দন বাগানবাড়ি ও মাছের পুকুর তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, জমিটি এমনভাবে উন্নয়ন করা হয়েছে যে বাইরে থেকে দেখে এটি সরকারি সম্পত্তি বলে বোঝার উপায় নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট স্থানে একটি বড় পুকুর, বাগান ও বসতঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খোরশেদ আলমের পিতা আবুল হাসনাত (মহর আলী) জমিটি খাস জমি বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘এগুলো খাস জমি। এলাকায় অনেকেই দখল করে ব্যবহার করছেন। আমরাও প্রায় এক একর জমি ব্যবহার করছি। সেখানে বাড়ি ও পুকুর করেছি।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সরকারি জমি দখল করে রাখলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। মাঝেমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হলেও পরে আবার দখলদাররা ফিরে আসে বলেও তারা দাবি করেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে খোরশেদ আলম বলেন, ‘সবাই যেভাবে জমি ব্যবহার করছে, আমিও একইভাবে করছি। সরকার যদি মনে করে আমি অন্যায় করেছি, তাহলে প্রয়োজন হলে জমি ছেড়ে দেবো।’ তবে তিনি সেখানে রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ও পর্যটন সম্ভাবনাময় বাঁশতলা এলাকার পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করা জরুরি। একই সাথে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি জমি দখল করে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ তদন্ত করে অবৈধ দখলের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’