বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬

১৬ বছর পর সেমিতে স্পেন

Printed Edition
বেলজিয়ামের বিপক্ষে দলের দ্বিতীয় ও জয়সূচক গোল করার পর উদযাপন করছেন স্পেনের মিকেল মেরিনো : ইন্টারনেট
বেলজিয়ামের বিপক্ষে দলের দ্বিতীয় ও জয়সূচক গোল করার পর উদযাপন করছেন স্পেনের মিকেল মেরিনো : ইন্টারনেট

বিশ্বের অন্যতম সেরা লিগ হয় স্পেনে। এই লিগের ক্লাব বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ ইউরোপকাঁপানো দল। বিশ্বের সব নামী-দামি ফুটবলারের খেলা এই স্প্যানিশ লিগে। সে হিসেবে স্পেনের বিশ্বকাপ জেতা উচিত ছিল অনেক বেশি। কমপক্ষে একের অধিক। ইতালি ও জার্মানির মতো চারটি বা এর কম; অথচ এই স্পেন মাত্র একবারই বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আর তা ২০১০ সালে। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো এরপর তারা বিশ্বকাপের সেমিতেই খেলতে পারেনি। অবশেষে ১৬ বছর পর তাদের শেষ চারে ওঠা। পরশু রাতে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে তাদের এই সেমিতে আসা। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে স্পেনকে এখন জিততে হবে ফ্রান্সের বিপক্ষে। উল্লেখ্য ২০১০ সালেই তারা প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলতে পেরেছিল। এর আগে ও পরে তারা ফাইনালেও খেলতে পারেনি।

এবারের স্পেনের যাত্রাটা সুখকর ছিল না। প্রথম ম্যাচেই দুর্বল কেপ ভার্দের সাথে ড্র করা। এরপর সৌদি আরবকে ৪-০ এবং দু’বারের বিশ্বকাপজয়ী উরুগুয়েকে ১-০তে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া। পরে সেরা ৩২-এর ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩-০, সেরা ১৬-এর খেলায় পর্তুগালকে ১-০-তে হারিয়ে কোয়ার্টারে আসা। অন্য দিকে বেলজিয়ামেরও শুরুটাও হয়েছিল ধুঁকতে ধুঁকতে। প্রথম ম্যাচে মিসরের সাথে ১-১-এ ড্র করে। দ্বিতীয় ম্যাচেও তারা জিততে পারেনি। এবার তাদের গোলশূন্যতে রুখে দেয় ইরান। শেষ পর্যন্ত গ্রুপের তৃতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে তাদের নকআউটে আসা। নকআউট পর্বে এসেও দাপটের সাথে জিততে পারছিল না। সেনেগালের বিপক্ষে ২ গোলে পিছিয়ে পড়ে এরপর স্কোর ২-২ করে। এরপর অতিরিক্ত সময়ের পেনাল্টিতে ৩-২ গোলে সেনেগালকে হারানো। পরে ঘটনাবহুল সেরা ১৬-এর ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয়া। তবে পরশু তাদের পক্ষে সমতা এনেও জয়ের দেখা পাওয়া সম্ভব হয়নি।

বেলজিয়ামকে স্পেনের কাছে হারতে বাধ্য করেছে দুই গোলরক্ষকের ভুল। প্রথমে তারকা গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়ার ভুল ক্লিয়ারেন্সে স্পেনের ফ্যাবিয়ান রুইজ পেনা গোল করেন। আর ৮৮ মিনিটের গোল বদলি গোলরক্ষক সেনে লামোসের হাত ফসকে যাওয়া বল থেকে স্পেনের জয়সূচক গোল মিকেল মেরিনোর।

২০ মিনিটে লামিনে ইয়ামালের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এই শটটির মতোই পুরো ম্যাচে বেশ কয়েকবার হতাশ হতে হয় উঠতি এই ফুটবল সেনসেশনকে। অবশ্য তার এই হতাশা দলের ওপর ভর করেনি। ৩০ মিনিটেই গোল আদায় স্পেনের। পেদ্রো পোরোর ক্রসে পোস্টে শট নেন দানি ওলমো। বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়া সেই বল ঠেকালেও তা গিয়ে পড়ে সামনেই। সেই বলে ফ্যাবিয়ান রুইজ ডান পায়ের শটে স্প্যানিশদের উল্লাসে মাতান।

৩৪ মিনিটে ইয়ামালের ফ্রি-কিক ঠেকিয়ে দেন কর্তায়া। এর পরপরই ইয়ামালের শট পোস্টঘেঁষে বাইরে যায়। পিছিয়ে পড়া বেলজিয়াম ৪০ মিনিটে সমতা আনে। ডান দিক থেকে আসা ক্রসে হেড করে বল জালে পাঠান চার্লিস ডি ক্যাতেলিয়ার। এই ১-১ স্কোর লাইনেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।

বিরতির পরও দাপট ছিল স্প্যানিশদের। ৬০ মিনিটে ইয়ামালের শট প্রতিহত করেন কর্তোয়া। এরপর ৬২ মিনিটে স্পেনের স্ট্রাইকার মিকেল ওয়ারজাবালের শট মাটিতে শরীর ফেলে আটকে দেন কর্তোয়া। ঠিক তখনই পড়েন ইনজুরিতে। এতে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়েন তিনি। হয়তো এই গোলরক্ষক বুঝে ফেলেছিলেন এই বের হয়ে যাওয়াটাই তার শেষবারের মতো বিশ্বকাপ থেকে বের হয়ে যাওয়া। পরে সেটাই প্রমাণ করল স্পেন ৮৮ মিনিটে বদলি গোলরক্ষক সেনে লামোসের ভুলকে পুঁজি করে। বক্সের বাইরে থেকে পাউল কুবারসির শট বেলজিয়ামের গোলরক্ষক লামোস না পেরেছেন বল ধরতে, না বল ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে। বল তিনি কোনোমতে ঠেকান। সে বল সামনে পড়লে ছুটে এসে তা জালে পাঠান মিকেল মেরিনো। এতেই ১৬ বছর পর সেমিতে খেলা নিশ্চিত হয় স্পেনের। আর ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে সেমিতে খেলা বেলজিয়ামকে এবার আর সেমিতে খেলা হলো না।