করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির প্রস্তাব, মিলবে সারা বছর রিটার্ন জমার সুযোগ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা বর্তমান সাড়ে তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সাথে আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন এনে আগামী অর্থবছর থেকে সারা বছর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রাখা হয়েছে।

সরকারের এ সিদ্ধান্তে সীমিত ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর করের চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও কর বিশ্লেষকরা। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে গত কয়েক বছরে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির দাবি দীর্ঘদিন ধরেই ছিল।

বাজেটে বিভিন্ন বিশেষ শ্রেণীর করদাতাদের জন্যও অতিরিক্ত করসুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। নারী করদাতা ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে চার লাখ ২৫ হাজার টাকা। তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধীদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা পাঁচ লাখ টাকা এবং গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর আহত যোদ্ধাদের জন্য পাঁচ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অভিভাবকদের ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্যের জন্য অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা করমুক্ত আয়ের সুবিধা রাখা হয়েছে।

নতুন বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণীর আয়করের হারেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতদিন করমুক্ত আয়সীমার পরবর্তী প্রথম এক লাখ টাকার ওপর ৫ শতাংশ হারে কর আরোপ করা হতো। এবার সেই ধাপটি বাতিল করা হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, করমুক্ত সীমার পরবর্তী প্রথম তিন লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী চার লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী পাঁচ লাখ টাকার ওপর ২০ শতাংশ, পরবর্তী ২০ লাখ টাকার ওপর ২৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কিছু করদাতার জন্য করমুক্ত সীমা বাড়লেও উচ্চ আয়ের করদাতাদের করের বোঝা কিছুটা বাড়তে পারে।