রেকর্ডসংখ্যক মুসলিম দেশ অংশ নিয়েছিল এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলে। এই সংখ্যা ১৪টি। এই দেশগুলো হলো আলজেরিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, মিসর, ইরান, ইরাক, আইভরি কোস্ট, জর্দান, মরক্কো, কাতার, সৌদি আরব, সেনেগাল, তিউনিসিয়া, তুরস্ক ও উজবেকিস্তান। এদের মধ্যে জর্দান ও উজবেকিস্তান এই বিশ্বকাপেই অভিষেক ঘটিয়েছে। এই দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পাঁচটি দেশ আলজেরিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, মিসর, মরক্কো এবং সেনেগাল গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে ‘রাউন্ড অব ৩২’-এ উন্নীত হয়েছিল। আর সেরা ৩২ পেরিয়ে সেরা ১৬তে জায়গা করে নিয়েছিল মিসর। আরেক ধাপ এগিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত খেলছে মরক্কো। শেষ ১৬-এর ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে মিসরের হারের পর সবার আশা ছিল শেষ ভরসা হিসেবে মরক্কো সেমিফাইনাল বা ফাইনাল পর্যন্ত যাবে। এই আফ্রিকান দেশটি তো সর্বশেষ অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে খেলেছে। সেই দলের চার ফুটবলার ছিলেন সিনিয়ার বিশ্বকাপ দলে। অথচ সবাইকে হতাশ করে এবারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগেই বিদায় নিলো মরক্কো। এতে মুসলিম বিশ্বের আর কোনো প্রতিনিধি রইলো না এবারের বিশ্বকাপে।
গ্রুপ পর্ব থেকে ইরানের দুঃখজনক বিদায়, এরপর তিউনিশিয়া, জর্দান, ইরাকের খালি হাতে ফেরা। প্রথম পর্বের এই দলগুলোর মতো নকআউট থেকে একে একে ছিটকে পড়তে থাকে ঘানা, আলজেরিয়া, সেনেগাল, বসনিয়া। এরপর মিসরের পথ ধরে পরের রাউন্ডে গিয়ে মুখ থুবরে পড়ে মরক্কো।
মরক্কোকে আফ্রিকার অন্যতম সফল জাতীয় ফুটবল দল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তারা পাঁচটি মহাদেশীয় শিরোপা জয় করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ১৯৭৬ ও ২০২৫ সালের ‘আফ্রিকান কাপ অফ নেশন্স’। এ ছাড়া তারা ২০১৮, ২০২০ ও ২০২৪ সালে ‘আফ্রিকান নেশন্স চ্যাম্পিয়নশিপ’-এ শ্রেষ্ঠত্ব তাদের। মরক্কো সাতবার ফিফা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। বিশ্বকাপে তারা দুইবার প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে রেকর্ড করেছে। আর তা হলো ১৯৮৬ সালে তারা প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে শীর্ষস্থান অর্জন করে নকআউট পর্বে ওঠার ইতিহাস গড়া। ২০২২ বিশ্বকাপে মরক্কো প্রথম আফ্রিকান ও প্রথম আরব দল হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছানোর কৃতিত্ব দেখায়। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বাইরে থেকে সেমিফাইনালে ওঠা তৃতীয় দলও ছিল তারা। ২০২৫-২০২৬ সময়কালে মরক্কো টানা ১৯টি ম্যাচ জয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দীর্ঘতম জয়ের ধারার দু’টি বিশ্বরেকর্ড গড়ে।
সেই মরক্কো এবার ভালোভাবেই শুরু করেছিল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-১-এ ড্র করে তাদের শুরু। এরপর স্কটল্যান্ডকে ১-০, হাইতিকে ৪-২ গোলে হারায়। নকআউটে নেদারর্যান্ডসকে টাইব্রেকারে হারানোর পর কানাডাকে উড়িয়ে দেয়া। কোয়ার্টারে এসে ফ্রান্সের কাছে আর পাত্তা পেল না। ইনজুরির জন্য এই ম্যাচে খেলা হয়নি ইন ফর্ম স্ট্রাইকার ইসমাইল সাইবারির। তার এই গ্যাপ আর পূরণ হয়নি। গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো দুর্দান্ত কয়েকটি সেভ না করলে হারের গোল সংখ্যা আরো বাড়ত।
মরক্কো যতবার বিশ্বকাপে খেলেছে সেখানে ভালো কিছুর সাক্ষী হয়েছে। মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ১৯৮৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল। এ ছাড়া ইংল্যান্ড ও পোল্যান্ডের সাথে ড্র করা। তবে নকআউট পর্বের প্রথম রাউন্ডে পশ্চিম জার্মানির কাছে তারা ০-১ পরাজিত হয়ে বিদায় নেয়।
মরক্কো ১৯৯০ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয় এবং ১৯৯২ আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। এ ছাড়া দলটি ১৯৯৪ ও ১৯৯৬ সালের আফ্রিকান কাপ অফ নেশন্স টুর্নামেন্টের জন্যও যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। এসব ব্যর্থতা সত্ত্বেও, দলটি যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ১৯৯৪ ফিফা বিশ্বকাপ এবং ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ১৯৯৮ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করে। ৯৪ সালে দলটি গ্রুপ পর্বেই বাদ পড়ে। আর ১৯৯৮ সালে একটি ম্যাচ জিতেছিল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে।



