শ্রুতির মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা

সংবাদ সম্মেলনে ‘হয়রানির শিকার’ দাবি আসামিপক্ষের

Printed Edition

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে কলেজছাত্রী শ্রুতি পালের মৃত্যুর ঘটনায় তার বন্ধু তানভীর হোসেন ও আশরাফ উদ্দিনকে আসামি করে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করেছেন পরিবারের সদস্যরা। তবে ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা বলে দাবি করে মামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে তানভীরের পরিবার।

গত বৃহস্পতিবার মিরসরাই প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তানভীরের পরিবারের সদস্যরা বলেন, শ্রুতির মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার তারা চান। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়।

জানা যায়, গত ৭ জুন বিকেলে শ্রুতি পাল তার বন্ধু তানভীর হোসেন, আশরাফ উদ্দিন ও রিসবী সুলতানার সাথে দু’টি মোটরসাইকেলে ফেনী থেকে মিরসরাইয়ের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উত্তর ইউটার্ন এলাকায় একটি অজ্ঞাত ট্রাক একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে ওই মোটরসাইকেলের আরোহী ও চালক শ্রুতি ও তানভীর আহত হন। তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক শ্রুতিকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ৯ জুন মিরসরাই থানায় তানভীর ও আশরাফকে আসামি করে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করেন শ্রুতির বাবা টিটু পাল। নিহত শ্রুতি পাল (২০) ফেনী টিচার্স অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের বিএড দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তানভীরের বড় বোন নাবিলা আক্তার বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। তারা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানান। তানভীরের মা হাছিনা খাতুন দাবি করেন, তার ছেলে মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হচ্ছে। তানভীরের ছোট মামা মোহাম্মদ বিজয়ও ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানান। অন্যদিকে শ্রুতির বাবা টিটু পালের দাবি, এটি নিছক সড়ক দুর্ঘটনা নয়; তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে তাদের সন্দেহ রয়েছে বলেও তিনি জানান।

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, নিহতের পরিবারের করা মামলায় তানভীর হোসেন ও আশরাফ উদ্দিনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।