ক্রীড়া প্রতিবেদক
রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ‘হেক্সা’ মিশন পূরণের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডায় বিশ্বকাপের ২৩তম আসরে পাড়ি জমিয়েছিল কোচ কার্লো অ্যানচেলোত্তির দল। বিশ্বকাপ ফুটবলে যদিও চলমান আসরে কাক্সিত শুরু পায়নি কিংবদন্তি ফুটবলার পেলের দেশটির। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ১-১ ড্র করে সেলেসাওরা। রণভাগের দুর্বলতা ও আক্রমণভাগের ছন্দহীনতায় এতে সমর্থকদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি করেছে। নকআউট পর্বের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে দলটির প্রতিপক্ষ হাইতি। ফিলাডেলফিয়ার লিঙ্কন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপ ম্যাচে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে হাইতি। বাংলাদেশ সময় কাল সকাল সাড়ে ৬টায় শুরু হবে ম্যাচটি। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ১-০ গোলে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হারলেও দুর্দান্ত লড়াই করেছিল হাইতি। প্রতি-আক্রমণে তারা বেশ বিপজ্জনক। দ্বিতীয় রাউন্ডের পথে এগিয়ে যেতে তাই কাল সকালে শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটি দুই দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপে রণভাগে কিছু দুর্বলতা ও ধীরগতির আক্রমণ দেখা গেলেও আক্রমণভাগে দুর্দান্ত ফর্মে দলের প্রধান ভরসা ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তবে মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করে ‘সি’ গ্রুপে তৃতীয় স্থানে রয়েছে দলটি। অ্যানচলোত্তির দলকে সঠিক পথে ফেরাতে প্রয়োজন একটি জয়। নেইমার ছাড়া বিশ্বকাপের ইনজুরি তালিকায় আর কোনো খেলোয়াড় নেই ব্রাজিলের। যদিও অনুশীলনে ফিরেছেন দলের সেরা তারকা নেইমার। তবে এই ম্যাচে কোচ কার্লো অ্যানচেলোত্তির একাদশে থাকবেন কি না, তা ম্যাচের আগে চূড়ান্ত হবে। রণ ও মাঝমাঠের সমন্বয়ে কিছুটা পরিবর্তন আনতে পারেন কোচ।
হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নামবে রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। মরক্কোর বিপে পয়েন্ট হারানোর পর তাদের বিশ্বাসযোগ্য ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা পারফরম্যান্স উপহার দেয়ার এটা বড় সুযোগ। গোলরক হিসেবে থাকবেন অ্যালিসন এবং মার্কুইনহাসের নেতৃত্বে থাকবে চারজনের রণভাগ। দানিলো ও অ্যালেক্স সান্দ্রো দু’জনই রণভাগে আসতে পারেন। সেই সাথে শুরুর একাদশে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন লুইজ হেনরিক ও ম্যাথিউস কুনহাও। মাঝমাঠে ব্রুনো গুইমারেস ও দলে ফেরা ফাবিনহো। ব্রাজিলের বিপজ্জনক আক্রমণভাগে আছেন দুই প্রান্তে ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও মাঝখানে রাফিনহা এবং আক্রমণভাগের নেতৃত্বে ম্যাথিউস কুনহা। আসরের প্রথম ম্যাচে আক্রমণভাগে ধারের অভাব থাকলেও এই ম্যাচে বেশি কার্যকরী ফল আশা করেন অ্যানচেলোত্তি।
স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হারের পর ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচের আগে দলে কোনো চোটের খবর নেই হাইতির। গোলপোস্টের দায়িত্ব সামলামেন জনি প্লাসিড। দলের সবচেয়ে পরিচিত নাম জঁ-রিকনার বেলেগার্ড। চাপ কমানোর জন্য তার ওপরই নির্ভর করবে দল। আক্রমণভাগে আরোচ উইলসন ইসিডো, ফ্র্যান্টজডি পিয়েরোট এবং ডাকেনস ন্যাজন তাদের প্রধান ভরসা। ইসিডোর হাইতির হয়ে পাঁচটি ম্যাচে দু’টি গোল করেছেন। এ ছাড়া লুইসিয়াস ডিডসনেরও দলে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অভিজ্ঞ গোলরক জনি প্লাসিড তার ৮৪তম ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত।
প্রথম ম্যাচে নি®প্রভ ব্রাজিলকে রক্ষণাত্মক খেলে এই ম্যাচে হতাশ করার কৌশল অবলম্বন করতে পারে হাইতি।
গ্রেনাডিয়ার্সরা এর আগে ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে খেলেছিল এবং তাদের তিনটি ম্যাচেই হেরেছিল। তাই এই পর্বে ১ পয়েন্ট পেলেও ইতিহাস রচিত হবে তাদের। সেবাস্তিয়ান মিনে জানেন যে ব্রাজিলের বিপে ম্যাচে তার দল দুর্বল দল হিসেবেই মাঠে নামবে, কিন্তু স্কটল্যান্ডের বিপে তাদের পারফরম্যান্স অবশ্যই আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।
হাইতির বিপে এর আগে তিনটি ম্যাচে ব্রাজিলের ১৭টি গোল করার রেকর্ড রয়েছে। ম্যাচটি হতে পারে পুরোপুরি আক্রমণ বনাম টিকে থাকার লড়াই। হাইতি রণাত্মক ফুটবল খেলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করলেও দুই দলের শক্তির পার্থক্যের কারণে জয়ের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি ব্রাজিলের। ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা সেন্টেনারিওতে ব্রাজিল ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল হাইতিকে। মানের যে বিশাল ব্যবধানের কারণে সেই ফলাফলটি হয়েছিল, তা এখনো বিদ্যমান। যদিও উভয় দলই এখন ভিন্ন প্রজন্মের, খেলার গতিপ্রকৃতি অপরিবর্তিত রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই ম্যাচে সহজেই জিতবে ব্রাজিল।



