নারী জাগরণের বিশিষ্ট নেত্রী, রাজনীতিবিদ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক প্রাদেশিক পরিষদ ও সাবেক সংসদ সদস্য, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নূরজাহান মুরশিদের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৩ সালের এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেন।
আজীবন নারী ও দরিদ্র মানুষের সমঅধিকার বিশ^াসী, গণতন্ত্রমনা নূরজাহান মুরশিদ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে তৎকালীন পাকিস্তানে আইয়ুবের সামরিক শাসন বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনে, বাঙালি স্বায়ত্তশাসনের সংগ্রামে এবং মুক্তিযুদ্ধে ছিলেন সক্রিয় ভূমিকায়।
নূরজাহান মুরশিদ ছিলেন এদেশে নারী আন্দোলনের পুরোধা ব্যাক্তিত্ব। দেশ ভাগের আগে কলকাতায় প্রথম জীবনে তিনি নারী শিক্ষার সাথে স¤পৃক্ত হন এবং তৎকালীন সাম্প্রদায়িক রাজনীতির পরিবেশে কলকাতায় মুসলিম লীগের প্রগতিশীল অংশটির সাথে জড়িত ছিলেন। পাকিস্তাান শাসনামলে ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে ৪০ জনসদস্যের ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম কমিটি’ গঠিত হয়। এ কমিটিতে নাদেরা চৌধুরী, লিলি চৌধুরী, নূরজাহান মুরশিদ প্রমুখ নারীনেতারা যুক্ত ছিলেন। নূরজাহান মুরশিদ ১৯৫৪ সালে ‘যুক্তফ্রন্টের’ প্রার্থী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ আসন থেকে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য পদে জয়লাভ করেন, তিনি সরাসরি নির্বাচিত প্রথম নারী সাংসদদের একজন। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৮-৬৯ সালের গণ-অন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন এবং পঁচিশে মার্চ গণহত্যা শুরু হলে সপরিবারে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন। স্বাধীন বাংলদেশে ১৯৭২ সালে নূরজাহান মুরশিদ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন এবং ১৯৭৪ সালে আদর্শিক কারণে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন।
বৈশ্বিক রাজনীতি ও সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্নের বাস্তবায়ন যে নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া সম্ভব নয় এ বিষয়ক চিন্তার বীজ তিনি রেখে গেছেন তার স¤পাদিত মাসিক এদেশ-একাল পত্রিকায়। তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বিকেল ৪টায় মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হবে। বিজ্ঞপ্তি।



