গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) ও ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারো পন্টুন থেকে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে ফেরিতে ওঠার আগে সব যাত্রীকে নামিয়ে দেয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, প্রতি ঈদের আগে ফিটনেসবিহীন গাড়ি ব্যবহার করায় একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে।
জানা যায়, গতকাল শুক্রবার ভোরে মেহেরপুরের গাংনী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা এস বি পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-৫৬৪৯) ৩৭ জন যাত্রী নিয়ে ছেড়ে আসে। এরপর ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক হয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছায়। নদী পার হওয়ার জন্য ৭ নম্বর ঘাটে ফেরিতে ওঠার আগে পুলিশের নির্দেশে গাড়ির সব যাত্রীকে নামিয়ে দেয়া হয়। এরপর বাসটি করবী নামের ফেরিতে ওঠার জন্য পন্টুনে অবস্থান করার সময় হঠাৎ বাসটির যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেরির ডালা বা র্যাম ভেঙে নদীতে পড়ে ৩০ ফুট নিচে তলিয়ে যায়। কোনো যাত্রীর প্রাণহানি না ঘটলেও বাসচালক ঝন্টু আলী (৪৮) ও হেলপার মো: সাকিব (২১) সামান্য আহত হওয়ায় তাদেরকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ও তাদের ডুবুরি দল এসে দুপুর ১২টার দিকে বাসটিকে উদ্ধার করে ফেরির উপরে তোলে।
বাসচালক ঝন্টু আলী জানান, বাসটি ভোরের দিকে গাংনী থেকে ছেড়ে আসার পর তিনি কুষ্টিয়া থেকে বদলি চালক হিসেবে চালিয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে আসেন। এরপর যাত্রীদের নামিয়ে খালি গাড়ি ফেরিতে ওঠার সময় পন্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার পর হঠাৎ গাড়ির গতি বেড়ে যায়। এরপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেরির গেটের শিকল বাঁধা র্যাম ভেঙে নদীতে পড়ে যায়।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়াঘাট সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকাগামী এস বি পরিবহনের ওই বাসটি দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাট পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। স্বস্তির বিষয় হলো, কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এ দিকে ঘটনার খবর পেয়েই প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত তৎপর হয়ে ওঠেন। রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, বাস পদ্মায় ডুবে যাওয়ার কথা শোনার পরপরই উদ্ধার অভিযান তদারকি করতে ঘটনাস্থলে এসেছি। উদ্ধারকাজ দ্রুত শুরু করার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দায়িত্বরত প্রশাসন বাস থেকে যাত্রী নামিয়ে দেয়ায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। বাসটি ব্রেক ফেল করায় এ দুর্ঘটনায় ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ দিকে এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তারা তদন্তের রিপোর্ট জমা দিবেন।
প্রসঙ্গত, গত ঈদুল ফিতরের পরে ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী ‘সৌহার্দ্য’ পরিবহনের একটি বাস পন্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার সময় একইভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। সেই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় ২৬ জন যাত্রীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। অল্পসময়ের ব্যবধানে একই ধরনের দুর্ঘটনা আবারো ঘটায় সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয়দের মনে ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, প্রতি ঈদের আগে ও পরে যাত্রীর চাপে বেশি গাড়ির প্রয়োজন হওয়ায় গাড়ির মালিকরা ফিটনেসবিহীন গাড়ি আনাড়ি চালক দিয়ে চালানোর ফলে বারবার একই রকম দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে।



