আতিকুর রহমান ঝালকাঠি
শ্রাবণের বারিধারায় উছলে ওঠা খাল-বিল আর নদীবেষ্টিত দক্ষিণাঞ্চলে বর্ষাকালের প্রয়োজনীয় নৌবাহনের চাহিদা মেটাতে ঝালকাঠির সীমান্তবর্তী এলাকার ঐতিহ্যবাহী আটঘর হাটে চলছে কাঠের নৌকার জমজমাট বেচাকেনা। শতবর্ষের পুরনো এই হাটে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ী, নদীপাড়ের ক্রেতা ও উৎসুক দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠেছে পুরো এলাকা। বর্ষাকেন্দ্রিক এ হাটে প্রতিদিনই কয়েক লাখ টাকার নৌকা ও বৈঠা কেনাবেচা হয়।
গত শুক্রবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, হাটের খাল ও তীরজুড়ে সারি সারি নতুন নৌকা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা কারিগর ও ব্যবসায়ীরা পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে নৌকা বিক্রি করছেন। সাধারণ ছোট আকারের ডিঙি নৌকা থেকে শুরু করে পণ্য বহনের বড় আকৃতির মালবাহী নৌকাও বিক্রি হচ্ছে এখানে।
ব্যবসায়ীরা জানান, মূলত কাঠের মান, স্থায়িত্ব, সুন্দর নকশা ও আকারের ওপর ভিত্তি করেই প্রতিটি নৌকার দাম নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। সাধারণ মানের নৌকার দাম তুলনামূলক কম হলেও মেহগনি, চাম্বল ও ছৈলার মতো উন্নতমানের কাঠ দিয়ে তৈরি নৌকার দাম কিছুটা বেশি। হাটে প্রতিটি নৌকা তিন হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি নৌকার প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ মানভেদে প্রতিটি বৈঠা ১৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।
স্থানীয়রা কৃষকরা জানান, দক্ষিণাঞ্চলের বিখ্যাত পেয়ারা বাজার, শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এসব নৌকার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষা মৌসুমে চারপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের কাছে নৌকাই হয়ে ওঠে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের একমাত্র প্রধান মাধ্যম। বরিশালের বাকেরগঞ্জ থেকে আসা এক ক্রেতা বলেন, বর্ষার সময় মাঠে গবাদিপশু নামানো সম্ভব হয় না। তখন জমি থেকে ঘাস কেটে নৌকায় করে বাড়িতে নিয়ে যেতে হয়। বছরের প্রায় ছয় মাস কৃষিকাজে নৌকার প্রয়োজন হয়।
নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের চামি গ্রামের নৌকা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, কবির, আব্দুর রহিম, কাইয়ুম, মালেক ও শাহাবুদ্দিন জানান, বংশপরম্পরায় তারা এই পেশার সাথে যুক্ত। পরিবারের সদস্যরা মিলে কাজ করায় কম খরচে নৌকা তৈরি করে তুলনামূলক কম দামে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা সম্ভব হয়। বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র করেই তাদের মূল ব্যবসা শুরু হয় বলে বছরের এই সময়টিতে পরিবারের সবাই নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত থাকেন।
আটঘরের হাটের ইজারাদার ইকবাল হাওলাদার জানান, বর্ষা মৌসুমে এ হাটে তিন থেকে চার হাজার নৌকা কেনাবেচা হয়। প্রতি বছর এই ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট থেকে সরকার কয়েক লাখ টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে।



