কাতারের মাঠে ক্রোয়েশিয়া কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায়ের পর বাচ্চা মানুষের মতো কেঁদেছিলেন নেইমার জুনিয়র। গত বিশ্বকাপে শেষ আটে ছিটকে পড়লেও এবার সেই পর্যন্তও যাওয়ার সুযোগ হয়নি। কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার মিশনে তাদের বিদায় করে দিয়েছে নরওয়ে। এই ম্যাচ একই সাথে নেইমারের ব্রাজিল দলে খেলারও ইতি ঘটিয়েছে। ম্যাচের পর তিনি জানিয়েছেন, ব্রাজিল দলে তার খেলা শেষ। অবশ্য ইনজুরির সাথে লড়াই করা, ফর্মটা আগের মতো না থাকা সব কিছুই তাকে আজ জাতীয় দলে খেলতে উৎসাহ জোগাচ্ছে না। আর বয়স এখন যেখানে পৌঁছেছে তাতে আগামী বিশ্বকাপে তার খেলার সম্ভবনা একেবারেই কম। যদি রোনলাদো, মেসির মতো ৩৯/৪০ বছর বয়সে খেলার জন্য মত না পাল্টান। যদি সত্যিই আর না ফেরেন তাহলে ব্যর্থ থেকেই বিশ্বকাপকে বিদায় বলতে হলো ফুটবলের এই আসাধারণ প্রতিভাকে। তবে একটি প্রাপ্তি, শেষটা একেবারেই খালি হাতে হয়নি নেইমারের। বিদায়ের ম্যাচে গোল পেয়েছেন তিনি। যদিও সেই গোলটা কষ্টই বাড়িয়েছে তার এবং ব্রাজিল সমর্থকদের।
এখন নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সির ম্যাট লাইফ স্টেডিয়াম। আগে এটি ছিল নিউ ইয়র্ক জেইন্ট স্টেডিয়াম। মূলত আমেরিকান ফুটবলের (হেলমেট পরে রাগবি আদলে খেলা) ভেনু ছিল এটি। পরে তা ফুটবল গ্রাউন্ড হিসেবেও ব্যবহার শুরু। এই স্টেডিয়ামেই ব্রাজিল জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। সে ম্যাচে ব্রাজিল ২-০ গোলে হারিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রকে। সেই ম্যাচেও গোল ছিল তার। কাকতালীয়ভাবে ১৬ বছর পর এই স্টেডিয়ামেই পরশু নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিল দলের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলে ফেললেন নেইমার। ৬৭ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে পেনাল্টিতে গোল করেন। উল্লেখ্য, এই ম্যাট লাইফে এবারের বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচই জিততে পারেনি ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করার পর এবার নরওয়ের কাছে ১-২ গোলে হার।
এবারের ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে নেইমারের চান্স পাওয়া নিয়ে ছিল ঘোর অনিশ্চয়তা। পুরোপুরি ফিট ছিলেন না। এর পরও কোচ কার্লো অ্যানচোলোত্তি তাকে দলে রাখেন। চার ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুই ম্যাচে তাকে মাঠে নামিয়েছেন। দুই খেলাতেই বদলি হিসেবে। প্রথমে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর নরওয়ের বিপক্ষে বিদায়ী ম্যাচে।
চারটি বিশ্বকাপ খেলা হলো তার। ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬। তার উপস্থিতিতে ব্রাজিল কোনো বিশ্বকাপেই ফাইনালেও খেলতে পারেনি। সর্বশেষ ব্রাজিল ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেললেও সে ম্যাচের সময় নেইমার ছিলেন হাসপাতালের বিছানায়। কারণ কলম্বিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে মারাত্মক ইনজুরিতে পড়েছিলেন। সেই ইনজুরির জন্যই ২০২৩ সাল থেকে ব্রাজিল দলের বাইরে ছিলেন তিনি। ফিরেছেন এই বিশ্বকাপেই।
নিজের বিশ্বকাপের অভিষেকটা কিন্তু দারুণ হয়েছিল নেইমারের। ২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে অভিষেক তার। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেছিলেন ফুটবলের এই দূর্দান্ত প্রতিভা। ৩-১ গোলে জয়ের ওই ম্যাচে তার একটি গোল ছিল পেনাল্টিতে। এবারো তার গোল পেনাল্টিতে।
ব্রাজিলের হয়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক গোল তার। ১৩০ ম্যাচ খেলে ৮০ গোল তার। সেলেকাওদের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ম্যাচে মাঠে নামা খেলোয়াড় তিনি। সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড কাফুর (১৪২)।
দেশকে বিশ্বকাপ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে না পারলেও ২০২১ সালে কোপা আমেরিকায় চ্যাম্পিয়ন করিয়েছেন। ব্রাজিল প্রথম অলিম্পিক গেমসে ফুটবলে স্বর্ণ জিতেছিল ২০১৬ সালে। তা নেইমারের উপস্থিতিতে নিজ মাঠে। তবে শেষ ম্যাচে গোল পেলেও দলের হারে সবই ম্রিয়মাণ হয়ে গেলে বুকভাঙা আর্তনাদে।



