শালগম কী

Printed Edition
শালগম কী
শালগম কী

মো: আবদুস সালিম

বলছি, অতি প্রাচীন সবজি ‘শালগমে’র কথা। এটি একপ্রকার মূল-জাতীয় ফসল। এর গড় আকার একটি ছোট ওলকপির সমান; রঙ লাল, সবুজ ও গোলাপি। তবে নিচের দিকটা সাদা। আবার সম্পূর্ণ সাদা, হলুদ বা গোলাপি রঙের শালগমও আছে।

এর ইংরেজি নাম টার্নিপ (ঞঁৎহরঢ়); বৈজ্ঞানিক নাম ইৎধংংরপধ ৎধঢ়ধ ংঁনংঢ়. ৎধঢ়ধ।

প্রায় গোলাকৃতির এ শালগম অনেক সময় প্রায় এক কেজি ওজনের হতে পারে। তবে ছোটগুলো কচি বলে রসালো, নরম ও স্বাদ বেশি। কঁচি শালগম কাঁচাও খাওয়া যায়; মূলা, গাজর, লেটুস পাতা ইত্যাদির সাথে মিশিয়ে সালাদ তৈরি করা যায়। এর স্বাদ কিছুটা ঝাঁঝালো ও মিষ্টি। উপরের পাতলা আবরণ সরালে ভেতরের অংশ সাদা। কাঁচা শালগম খেতে কচকচে লাগে। একসময়ে শিশুদের প্রিয় বা পছন্দের খাবার ছিলো শালগম। এমনকি অনেকে গাজর, শসা ইত্যাদির চেয়ে শালগম বেশি খেতো। বড়গুলোর রস ও স্বাদ কম থাকায় তা গো-খাদ্য হিসেবে কাজে লাগে।

এটি শীতকালীন ফসল। সাধারণত অক্টোবর-নভেম্বরে এর চাষ শুরু হয়। ফসল তোলা হয় ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারিতে। কয়েক যুগ আগে এক কেজি শালগমের দাম ছিলো ১৫-২০ টাকা। এখন বাজারে এটা প্রায় দেখাই যায় না; দামও অনেকে জানেন না। অনেকে বলেন, হাইব্রিড নানা ধরনের ফসল আসাতে মানুষ কেন যেন শালগম খাওয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। অথচ একসময়ে শালগমের তরকারি, ভাজি, স্যুপ ইত্যাদি মানুষের অতি পছন্দের খাবার ছিল। এটি স্বাস্থ্যকর খাবারও।

শালগম বেশি শীত ও বেশি গরম সহ্য করতে পারে না। মোটামুটি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে এ ফসল ভালো জম্মে। বাংলাদেশ ছাড়াও আরো অনেক দেশে শালগম চাষ হয়। তবে বাংলাদেশে উৎপাদিত শালগম একটু বেশি স্বাদের। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কমে যাচ্ছে এর আবাদ। অনেকে বলেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, ঐতিহ্যবাহী ফসল শালগম হয়তো চিরতরে বিলুপ্তই হয়ে যাবে।

শালগম চাষের সুবিধা হলো এতে কোনো ধরণের সার, কীটনাশক ইত্যাদি প্রয়োগ ছাড়াও চাষ করা যায়, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এজন্য এর চাষে অর্থ ব্যয় কম। কৃষকসমাজ যাতে এখন থেকে এর চাষের দিকে ঝুঁকে, সেজন্য এর ভালো দিকগুলো তাদের সুন্দর করে বুঝাতে হবে। তাহলেই আবার প্রায় হারানো শালগমের ঐতিহ্য ফিরে আসবে বলে আশা করা যায়।