এমন কন্ডিশনে আরো বেশি আমন্ত্রণ পাবো : শান্ত

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে টেস্ট জয়। এত বড় অর্জনের ভার নিতে একটু তো সময় লাগবে। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক ম্যাচ হয়েছে ডারউইনে। যেখানে অসিদের গুঁড়িয়ে দিয়ে বাংলার টাইগাররা ছিনিয়ে নিয়েছে ঐতিহাসিক এক জয়। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রাণখুলেই জবাব দিলেন সব প্রশ্নের। আশা করছেন এমন পারফরম্যান্সের পর বড় দলগুলো এমন কন্ডিশনে বেশি বেশি খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানাবে বাংলাদেশকে।

কেমন লেগেছে

খুবই ভালো ক্রিকেট খেলেছি আমরা। পাঁচ দিন খেলার পরিকল্পনা ছিল। প্রতিটি সেশন কত ভালো খেলতে পারি এমন ভাবনা ছিল। যেভাবে প্রথম দিন থেকেই ডমিনেট করেছি গর্বের ব্যাপার। সবাই যেভাবে পরিশ্রম করেছে এবং দায়িত্ব পালন করেছে- এটিরই ফল পেয়েছে। চার দিনই আমরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছি।

বিশ্বকে কী বার্তা দিতে চান

আমরা বিশ্ব ক্রিকেটকে ভালো বার্তা দিতে পেরেছি- যেকোনো কন্ডিশনে আমাদের ভালো খেলার সামর্থ্য আছে। আশা করি ভবিষ্যতে এমন কন্ডিশনে বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ পাবো। ওই সুযোগ পেলে আমাদের এই কন্ডিশনে খেলার ধারণাও হবে আবার স্কিলও দেখাতে পারব। এই টেস্ট জয় অনেক ভালো স্মৃতি হয়ে থাকবে এবং আশা করি সবাই আমাদের এমন কন্ডিশনে বেশি ইনভাইট করবে।

ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়

আমার কাছে তাই মনে হয়। তিন ফরম্যাট মিলে অনেক বড় জয় আছে। তবে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জয়। এর পেছনে অনেক পরিশ্রম ছিল।

এখনো এক দিন সময় আছে কিভাবে কাটাবে

কিভাবে কাটানো উচিত? আমার মনে হয় এ রকম জয়ের পর অবশ্যই সেলিব্রেট করা উচিত। এ ধরনের মুহূর্ত আমাদের ক্রিকেট লাইফে খুবই কম আসে। পুরো দিন সেলিব্রেট করা উচিত, খুব ভালোভাবে- এটিই করার চেষ্টা করব।

আপনার চোখে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়

আমার ম্যান অব দ্য ম্যাচ সত্যি বলতে বাংলাদেশ দল। সবাই কোনো না কোনো জায়গায় অবদান রেখেছে। তামিমের প্রথম শতক অবশ্যই বিশেষ কিছু, মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট ওর। মিরাজ এমন পারফর্ম আগেও অনেক করেছে। এই কন্ডিশনে যেভাবে ব্যাট-বল করল আউটস্ট্যান্ডিং। এমনকি সাদমানের ওই ২০ রানও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমার কাছে সব একপাশে রেখে বলতে হয় লোয়ার অর্ডারের ব্যাটাররা যেভাবে ব্যাট করেছে। হাসান, তাইজুল, তাসকিন এমনকি ইবাদত। ওই অবদান অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল যা আমরা সচরাচর করতে পারি না। তাদের অনেক বড় কৃতিত্ব দেয়া উচিত।

অস্ট্রেলিয়া ভীতি কতটা কাটল

অবশ্যই কঠিন কন্ডিশন, অস্বীকার করার কিছু নেই। ওয়ার্ল্ড ক্লাস বোলিং ও ব্যাটিং অ্যাটাক। সব মিলিয়ে ভালো দল। তবে এই সিরিজে আসার আগে আমরা বলেছিলাম- খুব বেশি তো সুযোগ পাই না এখানে খেলার, এই চ্যালেঞ্জ যেন উপভোগ করি। এ রকম বোলিং-ব্যাটিংয়ের বিপক্ষে ভালো করার চ্যালেঞ্জ যেন উপভোগ করি। খেলোয়াড়রা এই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। চার দিন সবাই উপভোগ করেছে এবং চ্যালেঞ্জ ভালোভাবে উপভোগ করেছে।

কার কার অভিনন্দন পেলেন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমাদের কথা হয়েছে। অভিনন্দন জানিয়েছেন। শরীরের কী অবস্থা ওটারও খোঁজখবর নিয়েছেন, আমরা ভালো আছি কি না। বোর্ড প্রেসিডেন্ট ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন, উনি অনেক খুশি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফোন করেছিলেন, অভিনন্দন জানিয়েছেন। এই মুহূর্তগুলো স্পেশাল ছিল- সবাই আমাদের জয় উপভোগ করছেন।

ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা

পয়েন্ট টেবিল দেখলে অবশ্যই সুযোগ আছে। তবে আমি ক্যাপ্টেন হিসেবে ড্রেসিংরুমে সবসময় একটা কথা বলি- খুব বেশি দূরে যেন চিন্তা না করি। কিভাবে এই সিরিজ ভালো খেলতে পারি বা এই টেস্ট, এটাই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বড় জয়, দেশের ইতিহাসের সেরা জয়। তবে এখনো আমরা ওরকম অভিজ্ঞ দল নই। আস্তে আস্তে টেস্ট দল ভালো জায়গায় যাচ্ছে। সুযোগ আছে, এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। যেভাবে খেলছি, সুযোগ কাজে লাগালে অবশ্যই ওই জায়গায় যাওয়া সম্ভব। একেকটি ম্যাচ অনেক ইম্পরট্যান্ট, সেভাবেই এগোচ্ছি।

উড়তে মন চায় কি না

এ রকম কিছু না। আমি সবসময় পা মাটিতে রাখতে পছন্দ করি। এটা আমার পারসোনাল নেচার। সেলিব্রেশন হয়েছে, ড্রেসিংরুমে অনেক এনজয় করেছি, আরো করব। ভালো ক্রিকেট খেলেছি। পরের ম্যাচও ভালো খেলতে চাই।

অসি সাবেকদের কথা তাতিয়ে দিয়েছে কি না

কথাবার্তা হবেই, আগেও হয়েছে। আমাদের কাজ হলো কিভাবে ভালো খেলতে পারি, প্রসেস ফল করছি কি না। ভালো না খেললে কথা হবেই, খুবই স্বাভাবিক। আমাদের পরিশ্রমের প্রতিফলন মাঠে পড়ে। প্রসেস ইম্পরট্যান্ট। বাইরে মনোযোগ না দিয়ে আমরা খেলার দিকে মনোযোগ রাখি।

প্রস্তুতি ম্যাচে ৫৪ রানে অলআউট

ধারাবাহিকতা ইম্পরট্যান্ট। আমরা ওই ম্যাচটি একদমই ভালো ক্রিকেট খেলিনি। তবে ক্রিকেটে এমন ম্যাচ আসে। ওই ম্যাচের পর অনেক ডাউন হয়ে গিয়েছিলাম এমন না। দিনশেষে প্র্যাকটিস ম্যাচ ছিল। কোন কোন জায়গায় ভুল ছিল এসব নিয়ে কথা হয়েছে। আর একটু তো সফট ছিলাম, সবাইকে খেলার সুযোগ দেয়া হয়েছে। ওটা খুব বেশি প্রভাব ফেলেনি।

হারারে টেস্টের পর কী করেছেন

কঠিন ছিল। জিম্বাবুয়ের কন্ডিশন অনেক কঠিন ছিল। অনেক সময় টিম হিসেবে আমরা জাজ করে ফেলি, তবে অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। আমরা ভালোও খেলিনি। এমন ম্যাচ ক্রিকেটে হতে পারে। তবে কেউ আত্মবিশ্বাস হারায়নি। কারণ আমরা পাকিস্তানের সাথেও ভালো খেলেছি, সবাই ভালো শেইপে ছিল। সবাই আশাবাদী ছিল ভালো করবে। জিম্বাবুয়ে সিরিজ আমাদের মেন্টালি ডিস্টার্ব করেনি। ক্রিকেটে এটা হতেই পারে।

কামিন্সের গলফ খেলার অফার

খেলতে তো চাই, যদি প্লেয়াররা যেতে চায়। অবশ্যই, কেন না।

ইনিংস ব্যবধানে জয়

অনেক বড় রান ছিল, আর আমাদের যে বোলিং। এ ধরনের বিশ্বাস তো ছিলই, সুযোগ পেলে এই রানেই আটকাব। গ্রিন খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। উইকেটে বোলারদের খুব বেশি সহায়তা ছিল না। শেষদিকে মিরাজ খুব ভালো বল করেছে।