এখন সবার আগে বিএনপি, সবার আগে ক্ষমতা : সংসদে মাসুদ সাঈদী

Printed Edition

সংসদ প্রতিবেদক

বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিট এবং জন-আকাক্সক্ষার পরিপন্থী বলে দাবি করেছেন পিরোজপুর থেকে নির্বাচিত বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। তিনি বলেন, বিএনপির স্লোগান ছিল ‘সবার আগে দেশ’। কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ডই দেখে জনগণ এখন বলছে-সবার আগে বিএনপি, সবার আগে ক্ষমতা।

গতকাল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অর্থবছরেই শতভাগ বাজেট বাস্তবায়ন হয়নি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল মাত্র ৬৭.৮৫ শতাংশ, যা ১৯৭৬-৭৭ সালের পর সর্বনিম্ন। অবাস্তব রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা, ব্যাংক ঋণ নির্ভরতা এবং দক্ষ প্রশাসনিক সক্ষমতার অভাবে বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে বড় অনিশ্চয়তা রয়েছে। শিক্ষা খাতের বরাদ্দ নিয়ে বড় ধরনের অসঙ্গতি তুলে ধরে মাসুদ সাঈদী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর বরাদ্দ যোগ করলে দাঁড়ায় এক লাখ ২২ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। তাহলে বাকি ১৪ হাজার কোটি টাকার হিসাব কোথায়? এই টাকা কোথায় খরচ হবে, তা বাজেটে দেখানো হয়নি।

সরকারের রাজনৈতিক আচরণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার কথা বললেও মাঠ পর্যায়ে তার প্রতিফলন নেই। জমি দখল, অফিস দখল ও বেপরোয়া চাঁদাবাজি চলছে। নির্বাচনে পরাজিত ব্যক্তিদের জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ এবং নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোতে দলীয় নেতাকর্মীদের বসানোর মাধ্যমে জুলাই স্পিরিটের অবমাননা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে মাসুদ সাঈদী বলেন, একটি হাসপাতালের লাইসেন্স তড়িঘড়ি করে বাতিল করা হয়েছে, যা মাথাব্যথার কারণে মাথা কেটে ফেলার শামিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্বাচনের আগে বলেছিলেন-নির্বাচন পার হলে তিনি তার ‘চাউড়া’ রূপ দেখাবেন। লাইসেন্স বাতিল কি তার সেই রূপেরই অংশ?

বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা যেভাবে বরাদ্দ পাচ্ছেন, আমরা যারা বিরোধী দলে আছি তারা চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছি। বিনিয়োগের কথা বলা হলেও ইসলামী ব্যাংক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাথে সরকারের আচরণ ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নষ্ট করছে।

নিজের এলাকা নিয়ে তিনি বলেন, পিরোজপুরকে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা ও রেললাইন দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। তবে পিরোজপুরে ছয় হাজার কোটি টাকার যে দুর্নীতি হয়েছে, তার কারণে গত দুই বছর কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। রাস্তাঘাট সব বিধ্বস্ত হয়ে আছে।