বিশেষ সংবাদদাতা
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ২০২৫ পঞ্জিকা বছরের বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দাখিলকৃত হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে দলটির মোট আয় হয়েছে ২২ কোটি ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ১৮২ টাকা এবং মোট ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার ৮৫৭ টাকা। ফলে গত এক বছরে দলটির উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ছয় কোটি ৯৩ লক্ষ ৫৪ হাজার ৩২৫ টাকা।
গতকাল রাজধানীর নির্বাচন ভবনের কমিশন সচিবালয়ে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার হোসেনের কাছে দলটির নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন (অডিট রিপোর্ট) হস্তান্তর করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন দলের কোষাধ্যক্ষ ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সহদফতর সম্পাদক মনির হোসেন।
আয়ের প্রধান উৎস ও ব্যয়ের খাতসমূহ
পরে রুহুল কবীর রিজভী জানান, নির্বাহী কমিটির চাঁদা, বইপুস্তক ও প্রাথমিক সদস্য ফরম বিক্রয়, মনোনয়ন ফরম বিক্রয়, বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুদান এবং ব্যাংক থেকে অর্জিত সুদ ছিল আয়ের প্রধান উৎস।
অন্য দিকে, অর্জিত টাকা ব্যয় হয়েছে অসহায় ব্যক্তিকে আর্থিক অনুদান, দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ, পোস্টার ও লিফলেট ছাপানো, দলীয় প্রয়োজনে গাড়ি ক্রয়, জনসভা ও আলোচনা সভার হল ভাড়া, পত্রিকায় ক্রোড়পত্র প্রকাশ, রমজানে ইফতার মাহফিল এবং অফিসের বিভিন্ন আনুষঙ্গিক খাতে।
আর্থিক স্থিতি
বিএনপির দেয়া তথ্য অনুযায়ী প্রারম্ভিক স্থিতি ছিল ২১ কোটি ১৩ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫ টাকা। চূড়ান্ত উদ্বৃত্ত (ব্যাংকে গচ্ছিত) ২৮ কোটি চার লাখ ৭১ হাজার ৮০ টাকা। হাতে নগদ : দুই লাখ ৭৯ হাজার ৭০০ টাকা। বর্তমানে সর্বমোট স্থিতি : ২৮ কোটি সাত লাখ ৫১ হাজার ৩৬০ টাকা।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতীক
প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিবছরের ৩১শে জুলাইয়ের মধ্যে বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়ার যে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেটি প্রতিপালন করেই এই হিসাব দেয়া হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে অনুমোদনের পর চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট দিয়ে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে এটি নিরীক্ষা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিবন্ধিত প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য প্রতিবছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পূর্ববর্তী পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের অডিট রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া বাধ্যতামূলক। কোনো দল পরপর তিন বছর হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের নিবন্ধন বাতিলের আইনি বিধান রয়েছে।



