ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়াজগতের সবচেয়ে বড় উন্মাদনার নাম ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই রয়েছে এই খেলার জনপ্রিয়তা। বিশ্বকাপ এলেই ফুটবল জ্বরে কাঁপে পুরো দুনিয়া। সেই উন্মাদনা ছাপিয়ে যায় দেশ-জাতি-ধর্ম-বর্ণ আর সীমান্ত পেরিয়ে। ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার অধীনে চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত হয় এই মেগা আসর। ১৯৩০ সাল থেকে শুরু হওয়া এই মেগা আসরের ২২তম সংস্করণটি হয়েছে ২০২২ সালে কাতারে। আর আগামী বছর ২৩তম সংস্করণটি হবে যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয়। নতুন ইতিহাসের অংশ হতে চলেছে আসন্ন বিশ্বকাপ। এবারই প্রথম ৩২ থেকে উন্নীত হয়ে বর্ষিত পরিসরে ৪৮ দল নিয়ে হবে বিশ্বকাপ। সেই আসরের ড্র গত পরশু হয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে। তখন থেকেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয় ব্যাপক আগ্রহ। দলগুলোকে নিয়ে শুরু হয় হিসাব-নিকাশ আর চুলচেরা বিশ্লেষণ। আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে বিশ্বকাপে সহজ গ্রুপেই পড়েছে ফুটবলের প্রয়াত দুই কিংবদন্তি পেলে ও ডিয়েগো ম্যারাডোনার দেশ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপ ২০২৬ আসরটির ১২ গ্রুপের মধ্যে বাংলাদেশের দর্শকদের চোখ ছিল গ্রুপ ‘সি’ ও ‘জে’তে। কারণ ‘সি’ গ্রুপে ব্রাজিল আর ‘পজ’ গ্রুপে আর্জেন্টিনা। এই গ্রুপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মেসির দেশ ছাড়া রয়েছে অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া ও জর্ডান। স্বাভাবিকভাবেই এই গ্রুপে ফেবারিট আর্জেন্টিনা।
আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির মতে, গ্রুপ পর্বে সহজ ম্যাচ বলে কিছু নেই। ড্রয়ের পর স্কালোনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের সর্বোচ্চটা দেবো ও চেষ্টা করবো গত বিশ্বকাপে যা করেছি সেটাই করার।’ তিনি যোগ করেন, ‘২০২২ সালের মতোই বলি, সহজ প্রতিপক্ষ বলে কিছু নেই। ম্যাচগুলো খেলতে হবেই। যদি তা-ই হয়, তাহলে গ্রুপ (এইচ) ও পরবর্তী নকআউট পর্ব কঠিন। কিন্তু প্রথমে আমাদের গ্রুপ পর্ব পেরোতে হবে, তারপর দেখা যাবে।’
‘সি’ গ্রুপে ব্রাজিলের তিন প্রতিপক্ষ মরক্কো, স্কটল্যান্ড ও হাইতি। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। ১৯৯৮ বিশ্বকাপেও ব্রাজিলের গ্রুপে ছিল মরক্কো ও স্কটল্যান্ড। ১৩ জুন মরক্কোর মুখোমুখি হওয়ার মধ্য দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলেছিল মরক্কো। ব্রাজিল কোচ কার্লো অ্যানচেলোত্তি ড্র শেষে প্রতিপক্ষ নিয়ে বলেন, ‘খুব কঠিন গ্রুপ। মরক্কো অনেক শক্তিশালী দল ও স্কটল্যান্ডও তাই। মরক্কো গত বিশ্বকাপেও ভালো করেছে। স্কটল্যান্ড ইউরোপে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপে এসেছে। তবে আমাদের জাতীয় দলের সামর্থ্য নিয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমাদের প্রধান প্রতিপক্ষ মরক্কোই। তারা কাতারে ভালো করেছে। তবে আমাদের তিনটি গ্রুপ ম্যাচই জিততে হবে। বিশ্বকাপজুড়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক খেলা খেলতে হবে।’
বিশ্বকাপের প্রতিটি আসর শুরুর আগেই আলোচনায় থাকে ডেথ গ্রুপের। আসন্ন বিশ্বকাপের ১২টি গ্রুপ নিয়ে বিশ্লেষণ করলে ডেথ গ্রুপ নেই বললেই চলে। ১২টি গ্রুপের কোনো দলকেই সমশক্তির দল বলা যাবে না। তবে তিনটি দলকে শক্তিতে কিছু কম-বেশি ধরা যায়, এমন গ্রুপ রয়েছে দু’টি। সেই দু’টি গ্রুপ হলো ‘আই’ ও ‘এল’। ‘এল’ গ্রুপের চারটি দল ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, ঘানা ও পানামা। ‘আই’ গ্রুপে আছে ফ্রান্স, সেনেগাল, নরওয়ে ও ফিফা প্লে-অফ ২ জয়ী দল (ইরাক/ বলিভিয়া/ সুরিনাম)। সব গ্রুপ থেকে দু’টি করে দল উঠবে নকআউট পর্বে। আর তৃতীয় হওয়া সেরা আটটি দলও জায়গা পাবে পরের রাউন্ডে। ফলে ডেথ গ্রুপ বলার কোনো সুযোগ নেই আসন্ন বিশ্বকাপে।
গ্রুপ এ :
মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা। আর প্লে অফ থেকে আসবে ডেনমার্ক/চেক রিপাবলিক/রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড/নর্থ মেসিডোনিয়া থেকে যেকোনো একটি দেশ।
গ্রুপ বি :
কানাডা, সুইজারল্যান্ড, কাতারের সাথে যোগ হবে ইতালি/ওয়েলস/বসনিয়া-হার্জেগোভিনা/নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড থেকে একটি দল।
গ্রুপ সি :
ব্রাজিল, মরক্কো, স্কটল্যান্ড, হাইতি।
গ্রুপ ডি :
যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, প্যারাগুয়ে। আর শেষ দল হিসেবে জায়গা করে নেবে তুরস্ক/সেøাভাকিয়া/কসোভো/রোমানিয়া থেকে যেকোনো একটি।
গ্রুপ ই :
জার্মানি, ইকুয়েডর, আইভরি কোস্ট ও কুরাসাও।
গ্রুপ এফ :
নেদারল্যান্ডস, জাপান, তিউনিসিয়া ও ইউক্রেন/ পোল্যান্ড/ আলবেনিয়া/ সুইডেন থেকে যেকোনো একটি দেশ।
গ্রুপ জি :
বেলজিয়াম, ইরান, মিশর ও নিউজিল্যান্ড।
গ্রুপ এইচ :
স্পেন, উরুগুয়ে, সৌদি আরব ও কেপ ভার্দে।
গ্রুপ আই :
ফ্রান্স, সেনেগাল, নরওয়ের সাথে যোগ হবে প্লে-অফ ২ থেকে ইরাক, বলিভিয়া ও সুরিনাম যেকোনো একটি দেশ।
গ্রুপ জে :
আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া ও জর্ডান।
গ্রুপ কে :
পর্তুগাল, কলম্বিয়া ও উজবেকিস্তানের সাথে প্লে-অফ ১ থেকে যুক্ত হবে কঙ্গো, জ্যামাইকা, নিউ কালেডোনিয়া যেকোনো একটি।
গ্রুপ এল :
ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, পানামা ও ঘানা।



