সেন্ট পিটার্সবার্গ মসজিদ : লোপা জয়নুল আবেদীন

Printed Edition
সেন্ট পিটার্সবার্গ মসজিদ :  লোপা জয়নুল আবেদীন
সেন্ট পিটার্সবার্গ মসজিদ : লোপা জয়নুল আবেদীন

‘সেন্ট পিটার্সবার্গ মসজিদ’ প্রাচ্যরীতির শৈল্পিক কারুকাজে নির্মিত একটি আকর্ষণীয় মসজিদ। এক সময় এটি ছিল ইউরোপের সবচেয়ে বড় মসজিদ। রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গের (লেনিনগ্রাদ) এই মসজিদ-দালান দৃষ্টিনন্দন। নগরকেন্দ্রের বিখ্যাত পিটার ও পল দুর্গের বিপরীতে এর অবস্থান। স্থপতি নিকোলাই ভাসিলিয়েভ এই মসজিদ-দালান নির্মাণে সমরখন্দে স্থাপিত তৈমুর লঙের সমাধিসৌধ গুর-ই-আমিরের নির্মাণশৈলী অনুসরণ করেন।

মসজিদের মিনারের উচ্চতা ৪৮ মিটার, মূল গম্বুজ-বুরুজের উচ্চতা ৩৯ মিটার। মসজিদের দৈর্ঘ্য ৪৫ মিটার এবং প্রস্থ ৩২ মিটার। প্রায় ৫ হাজার মুসল্লি একসাথে এখানে নামাজ আদায় করতে পারেন। প্রথম তলায় পুরুষ এবং দ্বিতীয় তলায় নারী মুসল্লিরা ইবাদত করতে পারেন।

মসজিদের সম্মুখভাগে সবুজাভ-নীল রঙের পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে খচিত আছে পবিত্র আল কুরআনের বাণী। মসজিদের দেয়াল তৈরি করা হয়েছিল গ্র্যানিট শিলা ব্যবহার করে। গম্বুজ ও মিনার আকাশ-হালকা নীলের মোজাইক সিরামিকে ঢাকা। মধ্য এশিয়ার দক্ষ কারিগররা মসজিদ নির্মাণকাজে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯০৭ সালের ৩ জুলাই মসজিদের জন্য জায়গা কেনার অনুমোদন দেন জার (সম্রাট) দ্বিতীয় নিকোলাস। রুশ সম্রাটের অধীন সেই সময়ের বুখারার আমির (শাসক) আবদুল আহাদ খান এই মসজিদ নির্মাণের জন্য সবচেয়ে বেশি অর্থ প্রদান করেন। ১৯১০ সালে আমিরের শাসনের ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। এ সময় সেন্ট পিটার্সবার্গে ৮ হাজার মুসলমানের বসবাস ছিল। মসজিদটি উদ্বোধন করা হয় ১৯১৩ সালে। তবে নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯২১ সালে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ১৯৪০ সালে এ মসজিদ পণ্যসামগ্রীর গুদামে পরিণত করে সোভিয়েত সরকার। ১৯৫৬ সালে সোভিয়েত সরকার এটি সেখানকার মুসলমান সম্প্রদায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়। সোভিয়েত যুগেই, ১৯৮০ সালে মসজিদ ভবন বিশেষভাবে সংস্কার করা হয়।