নিজস্ব প্রতিবেদক
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দক্ষতা, সাহস ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন বাহিনীর সদস্যরা। আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নভেম্বর মাস থেকেই সার্বিক প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
গতকাল চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী রহমতপুর এলাকায় অধীনস্থ নবনির্মিত ‘রহমতপুর বিওপি’ উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। পরে মহাপরিচালক পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি) পরিদর্শন এবং চট্টগ্রাম রিজিয়নের আওতাধীন সব সেক্টর, ব্যাটালিয়ন, বিওপি ও ক্যাম্পে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের সাথে ভিডিও টেলিকনফারেন্সের (ভিটিসি) মাধ্যমে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বিজিবির অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলসহ দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সদস্যরা দিনরাত প্রতিকূল পরিবেশ ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দক্ষতা, সাহস ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। এ সময় তিনি সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্রসহ অবৈধ পণ্যের চোরাচালান, অবৈধভাবে সার মজুদ ও পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
বিওপি উদ্বোধনকালে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ফেনী নদীর অববাহিকা ও পার্বত্য ভূপ্রকৃতির কারণে রহমতপুর সীমান্ত এলাকা ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ এলাকায় বিজিবির স্থায়ী উপস্থিতি ও নজরদারি জোরদারের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা আরো সুসংহত হবে। নতুন এই বিওপি প্রতিষ্ঠার ফলে ফেনী নদীপথ ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি, চোরাচালানের সম্ভাব্য রুট নিয়ন্ত্রণ এবং মাদক, অস্ত্রসহ অবৈধ পণ্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
পরবর্তীতে তিনি জামিনীপাড়া ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বগাপাড়া বিওপি ও রাঙ্গামাটি সেক্টরের অধীনস্থ রাজনগর ব্যাটালিয়ন পরিদর্শন, করেন এবং দায়িত্বরতদের সাথে মতবিনিময় তাদের দায়িত্ব ও সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় বিজিবি সদর দফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন ও প্রশিক্ষণ), চট্টগ্রাম রিজিয়ন কমান্ডার, বিজিবি গুইমারা, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি সেক্টরের সেক্টর কমান্ডারবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়নগুলোর অধিনায়ক এবং বিজিবির অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



