বিশেষ সংবাদদাতা
ব্যবসায়িক মুনাফার লোভ দেখিয়ে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনাকর্মকর্তার সাড়ে ১০ কোটি টাকাসহ একাধিক ব্যক্তির কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তানভীর রায়হান (রিজভী) ও তার ভাই জহির রায়হানের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, আত্মসাৎকৃত অর্থ দিয়ে অভিযুক্ত রিজভী থাইল্যান্ডের পাটায়ায় বাড়ি ক্রয় ও হোটেল ব্যবসা পরিচালনা করছেন। বর্তমানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে একাধিক থানায় চারটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পারিবারিকভাবে পূর্বপরিচিত হওয়ার সুযোগে এবং সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে রাজধানীর উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত মেজর এম আনিসুর রহমানের (৮৩) কাছ থেকে ২০২০ সালে চুক্তিবদ্ধ হয়ে বার্ষিক মুনাফার ভিত্তিতে সাত কোটি ৮১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা বিনিয়োগ হিসেবে গ্রহণ করেন তানভীর রায়হান রিজভী (জাতীয় পরিচয়পত্র নং: ৮৬৯২৯০৯৪৩৮)। পরবর্তীতে ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে পণ্য আমদানির কথা বলে স্বল্পমেয়াদে আরো কয়েক কোটি টাকা নেয়া হয়। প্রাথমিক মূলধনের কিছু অংশ বা স্বল্পমেয়াদি লেনদেন শোধ করা হলেও চুক্তিকৃত মুনাফা দেয়া হয়নি।
অভিযোগে আরো প্রকাশ, ভুক্তভোগী আনিসুর রহমান জানতে পারেন রিজভীর সাথে ভোলা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের বিশেষ ব্যবসায়িক সখ্য রয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে রিজভী সব যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে আনিসুর রহমান মূলধন ও মুনাফাসহ টাকা ফেরত চান। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে রিজভী লিখিত চুক্তির মাধ্যমে দফায় দফায় টাকা ফেরত দেয়ার অঙ্গীকার করলেও কোনো টাকা পরিশোধ করেননি।
অবশেষ কোনো উপায় না পেয়ে আনিসুর রহমান ২০২৫ সালের ৭ মে উত্তরা পূর্ব থানায় তানভীর রায়হান রিজভীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০ ধারায় একটি মামলা (মামলা নং-৩) দায়ের করেন। ভুক্তভোগী আনিসুর রহমানের হিসাব মতে, মূলধন সাত কোটি ৮১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা এবং ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চুক্তিকৃত অপরিশোধিত লভ্যাংশ দুই কোটি ৬০ লাখ টাকাসহ মোট ১০ কোটি ৪১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সিএমএম কোর্ট-১৬ মামলাটির শুনানি শেষে অভিযুক্ত রিজভীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন এবং তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা (ট্র্যাভেল পাস ব্যান্ড) আরোপ করেন। পরবর্তীতে অভিযুক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে আপিল দায়ের করেন। গত ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে রিভিশন আবেদনের মাধ্যমে রিজভী তার বিদেশযাত্রার ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু অবসরপ্রাপ্ত মেজর আনিসুর রহমানই নন, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তির কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণা করার অভিযোগ রয়েছে রিজভী ও তার ভাই জহির রায়হানের বিরুদ্ধে।
বর্তমানে এই চক্রের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মোট চারটি মামলা বিচারাধীন এবং সেগুলোতে চার্জ গঠন সম্পন্ন হয়েছে:
১. উত্তরা পূর্ব থানা: মামলা নং-৩ (তারিখ: ০৭/০৫/২০২৫), ধারা: ৪০৬/৪২০
২. উত্তরা পশ্চিম থানা: মামলা নং-২৩ (৬) ২৪, ধারা: ৪২০/৪০৬/৫০৬
৩. বনানী থানা: মামলা নং-৭ (১২) ২৪
৪. বনানী থানা: মামলা নং-১৩ (১২) ২৪
ভুক্তভোগী ৮৩ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত মেজর এম আনিসুর রহমান জানান, জীবন সায়াহ্নে প্রতারণার শিকার হয়ে চরম শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভোগছেন। বিচার পাওয়ার আশায় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত তানভীর রায়হান রিজভী ও জহির রায়হানের উত্তরার বাসভবনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



