উৎপাদন সক্ষমতায় সক্রিয় আরপিসিএল ১ বছরে যুক্ত হবে ৫২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘদিনের গ্যাস অনুসন্ধানের ঘাটতি ও আমদানি নির্ভরতার কারণে তৈরি হওয়া জ্বালানি সঙ্কট থেকে দেশকে বের করে আনতে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, নতুন গ্যাসের উৎস অনুসন্ধান এবং এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সরকারের এ বৃহত্তর জ্বালানি পরিকল্পনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল)। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট চালু, গ্যাস সরবরাহের অবকাঠামোগত জটিলতা নিরসন, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এগিয়ে নেয়া এবং নতুন বিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। আগামী এক বছরে প্রায় ৫২০ মেগাওয়াট নতুন উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর এ. এইচ. এম. রাশেদ আরপিসিএল ও আরএনপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির কারিগরি, আইনি, প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ময়মনসিংহ ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের জিটি-৪ ইউনিটটি সঙ্কোচক যন্ত্রে গুরুতর ক্ষতির কারণে ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল থেকে বন্ধ ছিল। মূল যন্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সহায়তা ও আরপিসিএলের প্রকৌশলীদের প্রচেষ্টায় মেরামতের পর ২০২৬ সালের ৬ জুন ইউনিটটি উৎপাদনে ফেরে। এতে ইউনিটটির সচল থাকার হার ৭৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০০ শতাংশ হয়েছে।

সূত্র মতে, ময়মনসিংহ ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় ধনুয়া-ময়মনসিংহ ২০ ইঞ্চি গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পটি ভূমি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল জটিলতায় দীর্ঘদিন আটকে ছিল। পরে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে জটিলতা নিরসন করা হয়। ১৩ মে একনেকে সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের পর ২৯ জুন চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হয়। কেন্দ্রটির নির্মাণকাজের অগ্রগতি এখন ৯০ শতাংশ।

জানা গেছে, মাদারগঞ্জের ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট স্থগিত হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পুনরায় চালু করা হয়। পরে দ্বিতীয় সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে এবং প্রকল্পের মেয়াদ জুন ২০২৭ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

এ দিকে পটুয়াখালীর এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রও এক পর্যায়ে বন্ধ ছিল। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞায় কয়লা আমদানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর আইনি জটিলতা নিরসন, কয়লা সরবরাহ ও কারিগরি পরীক্ষা শেষে ২৭ মে কেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদনের তারিখ অর্জন করে। বর্তমানে কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আর্থিক ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছে আরপিসিএলের বকেয়া প্রায় এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা থেকে কমে এক হাজার ১০০ কোটি টাকায় নেমেছে। অর্থাৎ প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। গাজীপুর ও রাউজানের তিনটি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা যাচাইও সম্পন্ন হয়েছে।