সংশোধন-পরবর্তী পুঁজিবাজারে সূচকের বড় উন্নতি

পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করবে সোলার ইক্যুইটি

Printed Edition

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

বেশ কয়েক দিন টানা সংশোধনের পর ফের বড় ধরনের উন্নতি ঘটেছে পুঁজিবাজার সূচকের। গতকাল মঙ্গলবার সপ্তাহের তৃতীয় কর্মদিবসে দেশের পুুঁজিবাজারগুলো স্বাভাবিক গতি ফিরে পায়। এ দিন বাজারগুলোতে সূচকের উন্নতির পাশাপাশি বৃদ্ধি পেয়েছে লেনদেনও। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি বাজারের স্বাভাবিক আচরণ। গত বেশ কিছু দিন ধরে পুঁজিবাজার সূচকের যথেষ্ট উন্নতি ঘটেছে। এ সময় বাজারের মূল্যস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা তাদের মুনাফা তুলে নিয়েছেন। আর এটি মূল্যস্তর বিবেচনায় দীর্ঘ সময় ধরে ঘটার কারণে বেশ কয়েক দিন একপ্রকার গতিহীন ছিল বাজার। এখন সংশোধন শেষ করে বাজার তার স্বাভাবিক আচরণে ফিরতে শুরু করেছে।

গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই সাবলীল আচরণ ছিল দুই পুঁজিবাজারে। কোনো ধরনের বিক্রয়চাপ ছাড়াই এগিয়ে যায় লেনদেন। বেলা পৌনে ১১টার দিকে সামান্য বিক্রয়চাপ সক্রিয় হলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ি হয়নি। বেলা সাড়ে ১১টার আগেই আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে বাজার। দিনের বাকি সময় এ ধারা অব্যাহত থাকলে দুই বাজারেই সবগুলো সূচকের উন্নতি ঘটে।

প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটি গতকাল ৫৮ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। ৫ হাজার ৮৪৪ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট থেকে সকালে লেনদেন শুরু করা সূচকটি বিকেলে লেনদেন শেষে পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৯০৩ দশমিক ৫৩ পয়েন্টে। একই সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহর উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ১৮ দশমিক ৭১ ও ৭ দমমিক ৯৫ পয়েন্ট। একইভাবে দেশের দ্বিতীয় পুুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিঅই গতকাল ১৬১ দশমিক ৬১ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই ৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি রেকর্ড করা হয় যথাক্রমে ১২৮ দশমিক ২০ ও ৯৫ দশমিক ৪২ পয়েন্ট।

সূচকের উন্নতি ঘটায় গতকাল দুই পুঁজিবাজারের লেনদেনেও গতি ফিরে। ডিএসই গতকাল এক হাজার ৯৬ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে যা আগের দিন অপেক্ষা ১৮৮ কোটি টাকা বেশি। সোমবার ডিএসইর লেনদেন ছিল ৯০৮ কোটি টাকা। উন্নতি ঘটেছে সিএসইর লেনদেনেরও। বাজারটি গতকাল ৭১ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হয়, যা আগের দিন অপেক্ষা ৩৬ কোটি টাকা বেশি। সোমবার সিএসইর লেণদেন ছিল ৩৫ কোটি টাকা।

এ দিকে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং পুঁজিবাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের লক্ষ্যে কৌশলগত উদ্যোগ নিয়েছে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি (বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ) খাতের অন্যতম প্রতিষ্ঠান সোলার ইক্যুইটি ভেঞ্চার পিএলসি। এ লক্ষ্যে রোববার (৯ আগস্ট) লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্টস পিএলসি এবং সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসেস লিমিটেডের সাথে ইস্যু ম্যানেজমেন্ট চুক্তি স্বাক্ষর করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

চুক্তির আওতায় লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্টস ও সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসেস যৌথ ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে সোলার ইক্যুইটি ভেঞ্চারের মূলধন সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। একই সাথে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদনসাপেক্ষে লক্ষ্যভিত্তিক প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে সহযোগিতা করবে তারা। চুক্তিতে সোলার ইক্যুইটি ভেঞ্চারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এজাজ আল কুদরত এ মাজিদ, লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখার আলম এবং সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: মমিনুল হক, সিএফএ স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিচালক খন্দকার সাফফাত রেজা।

সোলার ইক্যুইটি ভেঞ্চার জানিয়েছে, বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক ও দীর্ঘমেয়াদি নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। এর ব্যবসায়িক ভিত্তি তৈরি হয়েছে স্পন্সর প্রতিষ্ঠান সোলার ইপিসি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের প্রকল্প উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতার ওপর। ২০১৮ সাল থেকে সোলার ইপিসি ডেভেলপমেন্ট সৌরবিদ্যুৎ খাতে প্রকল্প শনাক্তকরণ, সম্ভাব্যতা যাচাই, কারিগরি ও আর্থিক কাঠামো প্রণয়ন, অর্থায়ন, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ডিজাইন, প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, নির্মাণ, কমিশনিং এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনার সাথে যুক্ত রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞতার মধ্যে রুফটপ, গ্রাউন্ড-মাউন্টেডসহ বিভিন্ন ধরনের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন রয়েছে। বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের গ্রাহকদের জন্য এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কারিগরি ও বাণিজ্যিক সক্ষমতা তৈরি করেছে বলে জানানো হয়েছে। এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সোলার ইকুইটি ভেঞ্চার সম্ভাবনাময় নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগ, প্রকল্প উন্নয়ন ও অধিগ্রহণ, দীর্ঘমেয়াদি মালিকানা এবং পরিচালনার মাধ্যমে একটি বৈচিত্র্যময় ক্লিন এনার্জি পোর্টফোলিও গড়ে তুলতে চায়।

লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্টস ও সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসেসের সাথে চুক্তিকে প্রতিষ্ঠানটি করপোরেট ও মূলধন কাঠামোকে আরো প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে নেয়া এবং ভবিষ্যৎ আইপিওর প্রস্তুতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পুঁজিবাজারের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

গতকাল ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। ৫১ কোটি ৩৫ লাখ টাকায় কোম্পানিটির এক কোটি ৮৩ লাখ ৭৩ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় এ দিন। ৪১ কোটি ৬৩ লাখ টাকায় ৯৬ লাখ ৬৫ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে লেনদেনের দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ। লেনদেনে ডিএসইর শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে মালেক স্পিনিং, এমএল ডাইং, সায়হাম টেক্সটাইলস, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ডমিনেজ সিরটল বিল্ডিং সিস্টেমস, সামিট অ্যালাইয়েন্স পোর্ট, আইপিডিসি ও সেনা ইন্স্যুরেরন্স পিএলসি।

আগের দিনগুলোর মতো গতকালও ঢাকা স্টকে দিনের মূল্যবৃদ্ধিতে প্রাধান্য ধরে রাখে সাধারণ বিমা খাত। দিনের মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে সেনা ইন্স্যুরেন্স পিএলসি। গতকাল ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে কোম্পানিটির। ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে এ তালিকায় দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি। ডিএসইর মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ দশ কোম্পানি ও ফান্ডের অন্যগুলো র্ছিল যথাক্রমে আইসিবি অগ্রণী ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, সাউথইস্ট ব্যাংক, বিডি ল্যাম্প, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, সোনারগাঁও টেক্সটাইলস, মিডল্যান্ড ব্যাংক, ইউনাইটেড ফিন্যান্স, ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি।