ছাত্রশিবিরের পিসিএসডি প্রশিক্ষণ

নেতৃত্বের মধ্যে চরিত্র ও সঠিক দিকনির্দেশনার সমন্বয় প্রয়োজন : মুজিবুর রহমান

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রযুক্তিগত ও একাডেমিক দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি, আত্মিক পবিত্রতা ও স্রষ্টার সাথে গভীর সম্পর্ক ছাড়া প্রকৃত সফলতা অর্জন সম্ভব নয়। একজন আদর্শ ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের মধ্যে সঠিক চরিত্র এবং সঠিক দিকনির্দেশনা- দু’টিরই সমন্বয় প্রয়োজন।

তিনি গাজীপুরে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের শেষ দিনে এ কথা বলেন। ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহীর পরিচালনায় আয়োজিত ক্যাম্পের মূল প্রতিপাদ্য ছিল- ‘সততা ও দূরদর্শিতায় ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে শক্তিশালী করা’।

২০২৬ সালের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের জনশক্তিদের নিয়ে আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী ‘প্রি-কলেজ স্কিলস ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং ক্যাম্প (পিসিএসডি) ২০২৬’ সমাপনী অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম বলেন, আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আপনাদের মতো মেধাবীদেরই হাল ধরতে হবে। মেধা ও যোগ্যতার সাথে যদি সততা এবং দূরদর্শিতার সমন্বয় ঘটে, তবেই একটি দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধশালী কল্যাণরাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব হবে।

এ সময় ছাত্রশিবিরের বর্তমান সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জিপিএ-৫ অর্জন আপনাদের জীবনের একটি গৌরবময় মাইলফলক হলেও এটি চূড়ান্ত গন্তব্য নয়। ‘সততা ও দূরদর্শিতায় ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে শক্তিশালী করা’ এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে আপনাদের জ্ঞান, দক্ষতা এবং নৈতিক দৃঢ়তার সমন্বয় ঘটাতে হবে। আগামীর ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে আপনাদেরই সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে।

সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসাইন ‘সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনার একটি দেশ। এই দেশের মানবসম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠন সময়ের ব্যাপার মাত্র। আপনাদের মতো মেধাবী তরুণদের সততা ও দূরদর্শিতার সাথে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে আগামী দিনে দেশের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে আপনারা সঠিক নেতৃত্ব দিতে পারেন।

সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, কেবল ভিশন বা দূরদর্শিতা থাকলে নেতৃত্ব উচ্চাকাক্সক্ষী হতে পারে, কিন্তু নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হলে তা ভুল পথে পরিচালিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই দূরদর্শিতার পাশাপাশি সততা ও নৈতিক দৃঢ়তায় বলীয়ান হয়ে আপনাদের সঠিক পথে এগিয়ে যেতে হবে।

ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং পরিবর্তনশীল কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতায় আগামী দিনের নেতৃত্বকে হতে হবে জ্ঞাননির্ভর এবং উদ্ভাবনী। সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে আপনাদেরকে দেশ ও জাতির কল্যাণে এমনভাবে ক্যারিয়ার গড়তে হবে, যেন আপনাদের ব্যক্তিগত সাফল্য বৃহত্তর সমাজের কল্যাণে অবদান রাখে।

সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে এমনভাবে গড়ে উঠতে হবে, যেখানে মেধা ও দক্ষতার সাথে নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের এক অপূর্ব সমন্বয় থাকবে। ১০ দিনব্যাপী এ আয়োজনে মেধা ও মননের মূল্যায়নে আত্মপরিচয় প্রদান, বিতর্ক, দেয়ালিকা প্রকাশসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ৭৯টি পুরস্কার প্রদান করা হয়।