ক্রেতা কম থাকলেও কমেনি সবজির দাম

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির আমেজ এখনো পুরোপুরি কাটেনি রাজধানী ঢাকায়। অনেক বাসিন্দা এখনো গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করায় নগরীর কাঁচাবাজারগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম। তবে ক্রেতা কম থাকলেও বেশির ভাগ সবজির দাম রয়ে গেছে চড়া, যা সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সাথে মাছ, ডিম ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও উল্লেখযোগ্য স্বস্তি মিলছে না।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঈদের পরও অনেক দোকান পুরোপুরি স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারেনি। বিশেষ করে মাছ ও গোশতের দোকানের একটি অংশ এখনো বন্ধ রয়েছে। খোলা থাকা মুরগির দোকানগুলোতেও বিক্রি তুলনামূলক কম। গতকাল বাজার ঘুরে দেখা যায় প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, কক মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের বাজারে প্রতি ডজন লাল ডিম ১৩০ টাকা, সাদা ডিম ১১০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

দুয়ারীপাড়া বাজারে এক মুরগি বিক্রেতা জানান, ঈদের ছুটির কারণে অনেক মানুষ এখনো ঢাকায় ফেরেননি। তা ছাড়া ঘরে কোরবানির গোশত থাকায় মুরগির চাহিদাও কমে গেছে। ফলে বিক্রি কম হলেও বাজার পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে। অন্য দিকে সবজির বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ক্রেতা কম থাকলেও সরবরাহ সঙ্কটের কারণে বেশির ভাগ সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজার পুরোপুরি সচল না হওয়ায় এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যাপ্ত পণ্য না আসায় দাম বাড়তি।

লম্বা বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ৮০ টাকা, কালো গোল বেগুন ১০০ টাকা, করলা ও উচ্ছে ৮০ টাকা এবং কাঁকরোল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি শসা ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির মধ্যে ঢ্যাঁড়স, হাইব্রিড পটোল, চিচিঙ্গা ও কচুর লতির দামও ৮০ টাকার আশপাশে রয়েছে। পটোল ঝিঙা ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, কচুরমুখী ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ধনেপাতার দাম পৌঁছেছে ২০০ টাকায়।

এ দিকে হাইব্রিড শসা ও পেঁপে ৮০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে একটি লাউ কিনতে গুনতে হচ্ছে ৮০ টাকা পর্যন্ত। চাল কুমড়া ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ফুলকপি ৭০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। প্রতি হালি কাঁচাকলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং লেবু ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

একাধিক সবজি বিক্রেতা জানান, ঈদের পর এখনো বাজার পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। পাইকারদের অনেকেই বাজারে ফেরেননি, ফলে সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। এ কারণেই চাহিদা কম থাকলেও দাম কমছে না। তবে আলু ও পেঁয়াজের বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪৫ টাকা, ক্রস জাতের পেঁয়াজ ৪০ টাকা এবং লাল ও সাদা আলু ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া দেশি রসুন ৯০ থেকে ১০০ টাকা, চায়না রসুন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, চায়না আদা ১৮০ টাকা এবং ভারতীয় আদা ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে সরবরাহ থাকলেও দাম এখনো সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে। আকার ও ওজনভেদে ইলিশ মাছ প্রতি কেজি এক হাজার ৩০০ থেকে তিন হাজার টাকা, রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতল ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং কালিবাউশ ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ি মাছের দাম ৮০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে।

এ ছাড়া কাঁচকি মাছ ৫০০ টাকা, কৈ ২৬০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, শিং ৪০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা, টেংরা ৭০০ টাকা, বেলে ৭০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা এবং বোয়াল মাছ ৬০০ থেকে এক হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে মানুষের উপস্থিতি স্বাভাবিক হলে সরবরাহ ব্যবস্থাও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে। তখন কিছু পণ্যের দামে স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে আপাতত সবজির উচ্চমূল্যই ভোগাচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।