ভেড়ামারায় পদ্মার ভাঙনে হুমকিতে রায়টা বেড়িবাঁধ

Printed Edition

মাসুদ করিম ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া)

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে রায়টা বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় বেড়িবাঁধ থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে থাকা রায়টা নতুনপাড়া ও ফয়জুল্লাপুর গ্রামের প্রায় তিন হাজার পরিবারের বসতবাড়ি ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতোমধ্যে শত শত বিঘা ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়টা পাথরঘাট সংলগ্ন পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে নদীভাঙন দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের জনবসতি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জুনিয়াদহ ইউনিয়নের সদস্য জাম্মদ কবিরাজ বলেন, গত বছর ভাঙন শুরু হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এবার ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। তিনি দ্রুত ব্লক বা বড় জিও ব্যাগ ফেলে স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানান।

কবিরাজপাড়া গ্রামের ফরিদা পারভিন ও ময়না খাতুন বলেন, প্রতিদিন নদী ভেঙে বাড়ির দিকে এগিয়ে আসছে। আতঙ্কে রাতেও স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতে পারছেন না। একই এলাকার বাসিন্দা আপতাবুল, টিক্কা, নাজিম, মজনু, বজু, হান্নান, খোকন ও কালু প্রামাণিক জানান, আউশ ধান, কলাবাগান ও বিভিন্ন সবজির ক্ষেত নদীতে বিলীন হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বসতভিটাও রক্ষা করা যাবে না।

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ড. অধ্যাপক নূরুল আমিন জসিম বলেন, ফয়জুল্লাপুর কবিরাজপাড়া এলাকায় দেড় শতাধিক পরিবার সরাসরি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। গত মঙ্গলবার সকালে উপজেলা জামায়াতের নেতারা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পদ্মা নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণেও ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ দিকে এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা ভাঙনরোধে জরুরি ভিত্তিতে বড় জিও ব্যাগ বা কংক্রিট ব্লক ফেলে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।