নিজস্ব প্রতিবেদক
পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর পরিচালিত সহিংস কর্মকাণ্ডকে মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী আখ্যায়িত করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা কোনো সভ্য, গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী রাষ্ট্রব্যবস্থায় গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত এই অমানবিক নির্যাতন বন্ধ না হলে ভারতের অখণ্ডতা রক্ষা হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
গতকাল হেফাজতে ইসলাম হাটহাজারী উপজেলা শাখার আহ্বানে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে মুসলিম নিধন ও সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাবুনগরী বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এসব সহিংসতায় উগ্রপন্থী বিজেপি সমর্থকদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচনে জয়ের পর মন্তব্য করেছেন যে মুসলমানরা তাকে ভোট দেননি- এই বক্তব্য মুসলিমবিরোধী মনোভাব উসকে দেয়ার পাশাপাশি হামলাকারীদের পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করছে। একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এমন বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, ভারতের মুসলমানদের ওপর চলমান নির্যাতনের ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দা জানাতে এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে। একই সাথে ভারত সরকারের কাছে সংখ্যালঘু মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান। এ ছাড়া আগামী জুমাবার চট্টগ্রাম মহানগরে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচিও ঘোষণা করেন তিনি।
সমাবেশে প্রধান বক্তা হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মীর ইদরীস বলেন, ভারতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছু মুসলিমকে ‘বাংলাদেশী’ তকমা দিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে এবং তাদের জোর করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করানোর ষড়যন্ত্র চলছে। আরেকটি রোহিঙ্গা সঙ্কট সৃষ্টির আগেই সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারাই টিকে থাকবে যারা দেশের মানুষ, সীমান্ত হত্যা এবং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে নির্যাতিত মুসলমানদের পক্ষে কথা বলবে।
সভাপতির বক্তব্যে মুফতি মোহাম্মদ আলী কাসেমী বলেন, প্রতিবেশী দেশে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে নীরব থাকা উচিত নয়। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, ওআইসি ও বিশ্ব সম্প্রদায়কে ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠীর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
মুফতি মোহাম্মদ আলী কাসেমীর সভাপতিত্বে এবং উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এমরান সিকদার ও মাওলানা কামরুল ইসলামের যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজী, উপজেলা সহসভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ, মাওলানা মো: ঈসা, মাওলানা জয়নাল আবেদীন, যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা হাফেজ আব্দুল মাবুদ, মাওলানা জমির উদ্দিন, মোরশেদ আলম, মাওলানা হাফেজ মহিউদ্দিন, আবু তাহের রাজিব, রাশেদ আলম, প্রচার সম্পাদক মাওলানা মাসউদ আলম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আসাদুল্লাহ, মাওলানা হাফেজ আমিনুল ইসলাম, মাওলানা ওবাইদুর রহমান ও মাওলানা জাকারিয়া প্রমুখ।



