আয়োজক হিসেবে আর্থিক সহযোগিতা পায় না কারাতে ফেডারেশন

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সাধারণত বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের সর্বোচ্চ সংস্থা থেকে আন্তর্জাতিক আসর করলে অর্থ পায় হোম ভেনু। সেখানে কারাতে ব্যতিক্রম। আয়োজক হিসেবে রীতিমতো বিডিং দক্ষিণ এশীয় কারাতের মতো বড় আন্তর্জাতিক আসর আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন। অথচ ওয়ার্ল্ড কারাতে ফেডারেশন (ডব্লিউকেএফ) কিংবা এশিয়া কারাতে ফেডারেশন (একেএফ) থেকে কোনো আর্থিক সহযোগিতাই পাচ্ছে না বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন (বাকাফে)। সাধারণ সম্পাদক মোয়োজ্জেম হোসেন সেন্টু জানান, ‘শীর্ষ পর্যায় থেকে (ডব্লিউকেএফ, একেএফ) আমরা কোন আর্থিক সুবিধা পাই না। তবে কিছু লজিস্টিক সাপোর্ট পাওয়া যায়। অবশ্য বিভিন্ন দেশ থেকে যে কারাতেকারা অংশ নিতে আসবেন তারা নিজ নিজ খরচে থাকবেন-খাবেন-যাতায়াত ব্যবস্থা করবেন। তা ছাড়া বিভিন্ন দেশের প্রায় এক হাজার প্রতিযোগী-অফিসিয়াল-অভিভাবক কয়েকদিন বাংলাদেশে থাকবেন খরচ করবেন। রেমিট্যান্স পাবে বাংলাদেশ।’

লজিস্টিক সাপোর্ট নিয়ে সেন্টুর বক্তব্য, ‘এত দিন আমাদের দেশের বাইরে গিয়ে কোচিং কিংবা রেফারিংয়ের পরীক্ষা দিতে হতো। এবার প্রথমবারের মতো আমাদের দেশে এটি করতে পারছি। আজ ও আগামীকাল বেইলি রোডের পার্বত্য কমপ্লেক্স অডিটোরিয়ামে ১৫০ জন রেফারি ও ৩০ জন কোচের প্রশিক্ষণ কোর্স ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। দক্ষিণ এশিয়ার ছয় দেশ খেলায় অংশ নিলেও আন্তর্জাতিক কারাতে ফেডারেশনের কোচিং কোর্স এবং রেফারি কোর্স হওয়ায় এশিয়ার এবং আরো অনেক দেশের রেফারিরাও আসবেন প্রশিক্ষণ নিতে। আমাদের রেফারি ও কোচরা দেশের বাইরে গিয়ে অনেক টাকা খরচ করে পরীক্ষা দিতে হতো, এবার সেখানে সাশ্রয় হবে।’

আজ থেকে ঢাকায় প্রথমবারের মতো আয়োজিত হতে যাচ্ছে দশম ক্যাডেট, অনূর্ধ্ব-২১ এবং সিনিয়র সাউথ এশিয়ান কারাতে প্রতিযোগিতা। একই সাথে দ্বিতীয় অনূর্ধ্ব-১৪ সাউথ এশিয়া কারাতে কাপ প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হবে। দক্ষিণ এশীয় (এসএ) গেমসের গত আসরে তিনটি স্বর্ণপদক জিতেছে বাংলাদেশ। গতকাল বিওএ ডাচ-বাংলা অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাকাফে সেক্রেটারি মোয়াজ্জেম হোসেন সেন্টু। এ সময় সভাপতি শাহজাদা আলমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ছয় দেশের প্রায় ৯০০ কারাতেকা, রেফারি, কোচ, অফিসিয়াল ও কর্মকর্তাদের ব্যস্ততা থাকবে মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে। ১৮ ও ১৯ জুলাই মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে হবে ছয় দেশের এই প্রতিযোগিতা। মালদ্বীপ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার ভারত, পাকিস্তান, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও স্বাগতিক বাংলাদেশের ক্যাডেট ও সিনিয়র বিভাগে ১৯২ এবং জুনিয়র বিভাগে ৩৮৪টি পদকের লড়াই হবে।

পদকে আশাবাদী মোয়াজ্জেম সেন্টু, ‘শ্রীলঙ্কায় গত আসরে আমরা অনূর্ধ্ব-২০ বিভাগে দু’টি স্বর্ণ এবং সিনিয়র বিভাগে চারটি রৌপ্য ও ছয়টি ব্রোঞ্জ জিতেছিলাম। এখানে সেরা কারাতেকারাই অংশ নেন। তাই আমাদের খুব বেশি পদক জেতার সুযোগ থাকে না। তবে এবার স্বাগতিক হওয়ায় পদক একটু বেশি হতে পারে।’